img

সিলেটে সুধীজনদের সাথে ভারতের ফোর্টিস হাসপাতালের মতবিনিময়

প্রকাশিত :  ১৬:১৪, ২০ এপ্রিল ২০২৬

অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনই রক্ত ক্যান্সার থেকে মুক্তির অন্যতম পথ: ডা. শুভ প্রকাশ সান্যাল

সিলেটে সুধীজনদের সাথে ভারতের ফোর্টিস হাসপাতালের মতবিনিময়

অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনই রক্ত ক্যান্সার থেকে মুক্তির অন্যতম পথ: ডা. শুভ প্রকাশ সান্যাল


রক্তের ক্যান্সার এবং জটিল রক্তরোগ চিকিৎসায় ‘বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট’ বা অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন বর্তমানে এক যুগান্তকারী ও কার্যকর সমাধান। সঠিক সময়ে আধুনিক চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে এই মরণব্যাধি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। ভারতের মুম্বাইয়ের বিখ্যাত ফোর্টিস হাসপাতালের হেমাটো-অনকোলজি এবং বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট বিভাগের পরিচালক ডা. শুভ প্রকাশ সান্যাল সিলেটে সুধীজনদের সাথে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে নগরীর জেলরোডস্থ একটি অভিজাত হোটেলের হলরুমে সিলেটের স্বনামধন্য হেলথ কেয়ার কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠান সিলেট মেডিকেয়ার ও ভারতের ফোর্টিস হাসপাতালের যৌথ আয়োজনে নিয়মিত হেলথ টক ও সিএমই-এর অংশ হিসেবে এই সভার আয়োজন করা হয়। 

মতবিনিময় সভায় ১৯ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন রক্ত রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. শুভ প্রকাশ সান্যাল তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার আলোকে রক্তের বিভিন্ন জটিল ক্যানসার নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি জানান যে, একিউট ও ক্রনিক লিউকেমিয়া, মাল্টিপল মায়লোমা, লিম্ফোমা এবং বোন ম্যারো ফেইলিওর সিনড্রোমের (অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়া) মতো প্রাণঘাতী রোগের চিকিৎসায় বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট অত্যন্ত কার্যকর। এছাড়াও থ্যালাসেমিয়া ও সিকল সেল অ্যানিমিয়ার মতো হিমোগ্লোবিনোপ্যাথি আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রেও এটি নতুন জীবনের আশা জাগাচ্ছে।

তিনি বলেন, ভারতের ফোর্টিস হাসপাতাল ৩৬টি শাখার মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের রোগীদের সাশ্রয় মূল্যে উন্নত চিকিৎসা দিয়ে আসছে। সিলেটের রোগীতের উন্নত চিকিৎসা দেয়ার লক্ষ্যে সিলেট মেডিকেয়ারের মাধ্যমে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। মতবিনিময় সভায় স্থানীয় চিকিৎসকদের সাথে আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার মেলবন্ধন ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন ডা. সান্যাল। তিনি বলেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানের উৎকর্ষতায় এখন রক্তের ক্যান্সারের আধুনিক চিকিৎসা অনেক বেশি সহজলভ্য এবং সফলতার হারও আশাব্যঞ্জক।

সিলেট মেডিকেয়ার নিয়মিতভাবে বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে এ ধরণের হেলথ টক আয়োজন করে আসছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় রোগীরা যেমন বিশেষজ্ঞ পরামর্শ পাচ্ছেন, তেমনি স্থানীয় চিকিৎসকরাও বিশ্বমানের চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে সরাসরি জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পাচ্ছেন।

উক্ত সভায় সিলেটের সুধী সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে চিকিৎসা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে ডা. সান্যালের সাথে সরাসরি প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন। বক্তারা এই মহতি উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে, এমন উদ্যোগের ফলে জটিল রোগীদের সঠিক চিকিৎসার পথ আরও সুগম হবে।

সিলেট মেডিকেয়ার এর কো-ফাউন্ডার রেদা মঈন রেজা ও ভারতের ফোর্টিস হাসপাতালের বাংলাদেশের হেড পূজা চ্যাটার্জী এর যৌথ পরিচালনায় মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন, এসএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর ও প্রশাসন) মো: মাসুদ রানা, পিপিএম-সেবা, বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি সিলেট জেলার মহাসচিব ও সিলেট মহানগর ঐক্য কল্যাণ পরিষদের সভাপতি আব্দুর রহমান রিপন, সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সহ-সভাপতি এহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল, সিলেট জেলা ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আতিকুর রহমান আতিক, হাসান মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিয়াজ মো: আজিজুল করিম, সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহ দিদার আলম নবেল, জাতীয় দৈনিক মানবজমিন-এর সিলেট ব্যুরো প্রধান ওয়েছ খসরু, রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এসএমও ও মেডিকেল অনকোলজিস্ট ডা: এজাজ আহমদ, কালবেলা সিলেট ব্যুরো মিঠু দাস জয়, সাংবাদিক ইয়াহিয়া মারুফ, ডা: রাজিব দেবনাথ, সিলেট মেডিকেয়ারের কো-ফাউন্ডার নুর তামাম, এসএমএ করিম জোনাক, সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন সমিতির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী মামুনুর রশিদ, সিলেট জেলা ফুল ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ চৌধুরী সহ সিলেটের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, চিকিৎসক, ক্লিনিক ও হাসপাতালের পরিচালক এবং সাংবাদিকবৃন্দ। অনুষ্ঠানে ডা. শুভ প্রকাশ সান্যালকে সিলেট মেডিকেয়ারের পক্ষ থেকে ক্রেস্ট প্রদান করেন অতিথিবৃন্দ।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

হবিগঞ্জে জমির বিরোধ নিয়ে সংঘর্ষে কলেজ ছাত্র নিহত, আহত অন্তত ২০

প্রকাশিত :  ১১:৩৭, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলাস্থ বেগমপুর গ্রামে সরকারী জমি দখলকে কেন্দ্র করে সংঘটিত রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে মঞ্জুর মিয়া (২৩) নামে এক কলেজ শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।

নিহত মঞ্জুর মিয়া ওই গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে এবং নবীগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজের বিএ প্রথম বর্ষের ছাত্র।

রবিবার (১৯ এপ্রিল) সকালে উপজেলার করগাঁও ইউনিয়নের বেগমপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত আব্দুল হাসিমের ছেলে খলিলুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে সরকারী জমিতে বসবাস করে আসছিলেন। একই গ্রামের হেলাল মিয়া ও মনিরুজ্জামান ওই জমি নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করলে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল।

এরই ধারাবাহিকতায় রবিবার সকালে হেলাল ও মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে একদল লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জমি দখলের চেষ্টা চালালে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। সংঘর্ষে মঞ্জুর মিয়াসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। আহতদের নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মঞ্জুর মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন সাফি মিয়া (৩২), মুজিবুর রহমান (৩২), শামিম মিয়া (৫০), মামুন মিয়া (৩১), জুনেদ মিয়া (২৮), রুহেল মিয়া (৩৮), ইমন মিয়া (১৭), কাউছার মিয়া (২২), জুয়েল আহমেদ (৩২)সহ আরও অনেকে। বাকিরা বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিয়েছেন।

খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

নিহতের বাবা খলিলুর রহমান অভিযোগ করেন, প্রায় ৫০ বছর ধরে তারা ওই জমিতে বসবাস করে আসছেন। প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক উচ্ছেদের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল এবং ঘটনার দিন ভাড়াটিয়া লোকজন নিয়ে হামলা চালিয়ে তার ছেলেকে হত্যা করা হয়।

এ বিষয়ে থানার ওসি (তদন্ত) দুলাল মিয়া জানান, সরকারী জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর