img

সিলেটের রোগীদের উন্নত ও সহজলভ্য চিকিৎসাসেবা দিতে সিলেট আইডিয়াল সোসাইটির সাথে ভারতের বিখ্যাত মণিপাল হাসপাতালের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

প্রকাশিত :  ১৭:৪২, ১২ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৮:৪৫, ১২ এপ্রিল ২০২৬

সিলেটের রোগীদের উন্নত ও সহজলভ্য চিকিৎসাসেবা দিতে সিলেট আইডিয়াল সোসাইটির সাথে ভারতের বিখ্যাত মণিপাল হাসপাতালের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

সিলেট অঞ্চলের রোগীদের জন্য উন্নত চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য করতে ভারতের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি হাসপাতাল চেইন মণিপল হাসপাতাল সম্প্রতি  সিলেট আইডিয়াল সোসাইটির সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওআই) স্বাক্ষর করেছে। এ উপলক্ষে ২০২৬ সালের ১১ এপ্রিল একটি তথ্যবহুল সভার আয়োজন করা হয়, যেখানে সিলেট আইডিয়াল সোসাইটির সদস্য ও সহযোগীরা অংশ নেন।

সভায় আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যসেবা মণিপাল হাসপাতালের গ্রুপ প্রধান Vikas Tayer  জানান—ভারতের দুটি শহরে অবস্থিত ৪৯টি ইউনিটে ১০,৬০০-এর বেশি শয্যাসহ এই হাসপাতাল নেটওয়ার্কটি জটিল ও আধুনিক চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রে একটি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান। তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক রোগীদের জন্য বিভিন্ন আর্থিক প্রণোদনা ও চিকিৎসা-সুবিধা চালু করা হয়েছে, যাতে সিলেটসহ বাংলাদেশের রোগীরা সহজে এবং সাশ্রয়ীভাবে বিশ্বমানের চিকিৎসা নিতে পারেন।

অনুষ্ঠানটি আয়োজন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে সিলেটের বন্দরবাজারের রংমহল টাওয়ারে অবস্থিত খ্যাতনামা মেডিকেল ট্যুরিজম প্রতিষ্ঠান সিলেট মেডিকেয়ার (Sylhet Medicare)। এই আয়োজন বাংলাদেশের ও ভারতের চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সহযোগিতার প্রতিফলন, যা সিলেট অঞ্চলের রোগীদের জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসা গ্রহণের প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করবে।

সভা পরিচালনা করেন রাম গোপাল বর্ধন (প্রধান ব্যবস্থাপক, আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যসেবা ও আঞ্চলিক প্রধান, সার্ক অঞ্চল), সঞ্জয় সিংহ মহাপাত্র (হাসপাতাল পরিচালক, মণিপাল হাসপাতাল—শিলিগুড়ি ও রাঙাপানি) এবং খালিদ হাসান (পরামর্শক ও বাংলাদেশ প্রধান, মণিপাল হাসপাতাল)। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন রেদা মঈন রেজা (সহ-প্রতিষ্ঠাতা, সিলেট মেডিকেয়ার) এবং চৌধুরী নূর তামাম (সহ-প্রতিষ্ঠাতা, সিলেট আইডিয়াল সোসাইটি)।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের সহ-সভাপতি মুস্তাকিম চৌধুরী অনি, সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান চৌধুরী, মাহবুবুর রহমান চৌধুরী বাবু, সিটি কর্পোরেশন কন্ট্রাক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাসুম ইফতেখার রাসেল শিহাব, সিলেট রড-সিমেন্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের আহমেদ, চৌধুরী সুমন, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিস্ট্রার কাওসার আহমেদ চৌধুরী, শাকিল আহমেদ, মিধাত মিশু, শহিদুল হক সুহেলসহ নগরীর বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও ক্লাব সদস্যরা।

উল্লেখ্য, এই সমঝোতা স্মারকের আওতায় সিলেট আইডিয়াল সোসাইটির সম্মানিত সদস্য ও তাদের পরিবারের জন্যসুখ্যাত মণিপাল হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণে বিশেষ ছাড় সুবিধা প্রদান করা হবে। এই উদ্যোগটি সীমান্ত-পারাপার, স্বাস্থ্যসেবায় সহযোগিতা জোরদার এবং রোগীদের জন্য আরও উন্নত চিকিৎসার সুযোগ তৈরির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

দেওড়াছড়া চা বাগানে ৩ সপ্তাহ ধরে মজুরি বন্ধ, আন্দোলনে শ্রমিকরা

প্রকাশিত :  ১৩:২১, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলাস্থ রহিমপুর ইউনিয়নের বাংলাদেশ টি বোর্ডের নিয়ন্ত্রাধীন দেওড়াছড়া চা বাগানে ৩ সপ্তাহ ধরে চা শ্রমিকদের তলব বা মজুরী প্রদান না করায় বাগানের শ্রমিকরা বিক্ষোভ ও আন্দোলন করেন। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা অফিসের মেইন গেইটে তালা ঝুলিয়ে দেন।

এরপর বৃহস্পতিবার বিকেলে বকেয়া পাওয়া শুরু হলে শ্রমিকরা আন্দোলন থেকে সরে আসে।

জানা যায়, মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের দেওড়াছড়া চা বাগানে গত ৩ সপ্তাহ ধরে শ্রমিকদের মজুরী প্রদান করতে পারছেন না। এতে করে বিপাকে পড়েছেন কয়েক শতাধিক চা শ্রমিক। চা শ্রমিকরা মজুরী প্রদানের দাবি জানালেও বাগান কৃতর্পক্ষ নিশ্চুপ রয়েছে। দেওড়াছড়া চা বাগান পঞ্চায়েত কমিটির পক্ষ হতে গত ১২ এপ্রিল শ্রম অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বরাবর একটি লিখিত আবেদন জানিয়ে ছিল। কিন্তু ৪/৫ দিন অতিবাহিত হলেও কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় বৃহস্পতিবার সকালে চা বাগানের বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকরা বাগানের অফিসের সামনে অবস্থান নেয়। এক পর্যায়ে অফিসের মূল ফটকে তালা লাগিয়ে দেয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত চা শ্রমিকরা অফিসের সামনে অবস্থান করছেন।

দেওড়াছড়া চা বাগান সূত্রে জানা যায়, এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে বাগানের একজন অনিয়মিত নারী শ্রমিক চিকিৎসারত অবস্থায় মারা যান। বাগানের পক্ষ থেকে ঐ নারীকে প্রায় ১১ হাজার টাকা চিকিৎসা বাবত দেওয়া হয়। এঘটনার পর থেকে বিষয়টি নিয়ে কয়েকজন শ্রমিক আন্দোলন করে। ভারপ্রাপ্ত বাগান ব্যবস্থাপকের অপসারণ চান। এঘটনার পর নিরাপত্তা জনিত কারণে ভারপ্রাপ্ত বাগান ব্যবস্থাপক কোম্পানী বরাবরে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে চলে যান। যেহেতু বাগানে ব্যবস্থাপক নেই এজন্য শ্রমিকদের মজুরি আটকা পড়েছে।

দেওড়াছড়া চা বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি সুবুধ কর্মী জানান, ৩ সপ্তাহ ধরে তলব বন্ধ। কয়েক শতাধিক চা শ্রমিক কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। আমরা লিখিত আবেদন করেছে মজুরী দিতে, তারপরও দেয়া হয়নি। তাই বাধ্য হয়েই চা শ্রমিকরা আন্দোলনে নেমেছেন। বর্তমানে চা বাগান কাজ বন্ধ রেখেছে চা শ্রমিকরা।

রহিমপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সিতাংশু কর্মকার দেওড়াছড়া চা বাগানের শ্রমিক আন্দোলনের কথা স্বীকার করে বলেন, মজুরীর দাবীতে অফিস তালা দিয়েছে বিক্ষুদ্ধ চা শ্রমিকরা। কিছু দিন পূর্বে এক চা শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনার জের ধরে বাগান ম্যানেজমেন্ট ৩ সপ্তাহ ধরে তলব বন্ধ রেখেছে। অবশেষে কোম্পানীর নির্দেশে বৃহস্পতিবার বিকেলে পেমেন্ট দিলে শ্রমিকরা আন্দোলন থেকে সরে যায়।

এ ব্যাপারে দেওড়াছড়া চা বাগানের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক জহিরুল ইসলাম বলেন, নারী চা শ্রমিক মারা যাওয়ার পর কয়েকজন মিলে ঘটনার দায় আমার উপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে আমাকে শারিরীক লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করছে। এ ঘটনার পর আমি নিরাপত্তা নিরাপত্তাহীনতায় ছিলাম। এর পর ছুটি নিয়ে আমি চলে আসি। আগামী শনিবার পর্যন্ত আমার ছুটি আছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বাংলাদেশ টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. আশরাফুল ইসলাম সমকালকে জানান, নিরাপত্তার কারণে দেওড়াছড়া চা বাগানের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক কিছুদিন পূর্বে পদত্যাগ পত্র কোম্পানীর কাছে জমা দিয়েছে। নতুন ব্যবস্থাপক দ্রুত সময়ের মধ্যে নিয়োগ প্রদানের চেষ্টা চলছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে দেওড়াছড়া চা বাগানের শ্রমিকদের মজুরী প্রদান করা হচ্ছে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর