বহুল অপেক্ষিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ১২ অক্টোবর । তবে এরই মধ্যে বড় ধরণের প্রশাসনিক পদের রদবদল ঘটেছে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রক্টর হিসেবে এবার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী কে। আগামী মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) থেকে তার এই নিয়োগ কার্যকর হবে বলে জানা গেছে।
রোববার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত অফিস আদেশ অনুযায়ী, অধ্যাপক ড. হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী এক বছরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়টিতে প্রক্টরের দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি ২৩ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে তার নতুন কার্যভার গ্রহণ করবেন বলেও অফিস আদেশে জানানো হয়। একই সঙ্গে এই নিয়োগে তাকে প্রদেয় ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাও দেওয়া হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া সংঘর্ষের ঘটনাসহ অন্যান্য অসঙ্গতিমূলক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসনের প্রতি বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও গত ৩০ ও ৩১ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের ওপর স্থানীয় দুর্বৃত্তদের নির্মম হামলার ঘটনার পর থেকেই বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রক্টরের ব্যর্থতার দায় দিয়ে নিরাপদ ক্যাম্পাস এবং প্রক্টরের পদত্যাগসহ বিভিন্ন দাবিতে একাধিকবার আন্দোলন করেছে।
এরই মধ্যে গত ১০ সেপ্টেম্বর ৫২ ঘণ্টা আমরণ অনশন কর্মসূচিও পালন করে বিশ্ববিদ্যালয়টির ৯ শিক্ষার্থী, যাদের অন্যতম দাবি ছিল শিক্ষার্থী আহতের ঘটনায় প্রশাসনের ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে নিয়ে প্রক্টরিয়াল বডিকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে পদত্যাগ করতে হবে।
মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতে ‘নীরব বহিষ্কার’ বা ‘সাইলেন্ট এক্সপেল’ এর ব্যবস্থা ফের কার্যকর হচ্ছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষা পরিচালনা সংক্রান্ত নীতিমালা থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
পাবলিক পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীকে হাতেনাতে না ধরে পরীক্ষার হলে নিয়মের ব্যত্যয় (যেমন: কথা বলা, ঘাড় ঘোরানো, দেখাদেখি) বা অসদুপায় অবলম্বনের কারণে দায়িত্বরত পরিদর্শকের মাধ্যমে ‘সাইলেন্ট এক্সপেল’ বা ‘নীরব বহিষ্কার’ করা হয়। এতে পরীক্ষার্থী তাৎক্ষণিক বুঝতে পারেন না যে, তিনি বহিষ্কৃত হয়েছেন কিন্তু পরবর্তীতে পরীক্ষার খাতা বাতিল করা হয়।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো পরীক্ষার্থীকে অসদুপায় অবলম্বন অথবা অন্য কোনো কারণে বহিষ্কার অথবা নীরব বহিষ্কার করা হলে তার সৃজনশীল উত্তরপত্রের কভার পৃষ্ঠায় প্রথম অংশ না ছিঁড়ে প্রত্যবেক্ষকের প্রতিবেদনসহ বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রদত্ত গোপনীয় ফরমে সঠিকভাবে প্রস্তুত করে বিষয় ও পত্রের পরীক্ষা শেষ হবার সাথে সাথে উক্ত পরীক্ষার্থীর সৃজনশীল উত্তরপত্র আলাদা প্যাকেট করে, প্যাকেটের ওপরে লাল কালি দ্বারা স্পষ্টাক্ষরে রিপোর্টেড লিখে কেন্দ্রের অন্যান্য উত্তরপত্রের বাক্সে/বস্তায় আলাদাভাবে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে জমা দিতে হবে।
এতে আরও বলা হয়, নীরব বহিষ্কারের ক্ষেত্রে নীরব বহিষ্কারের কারণ সুস্পষ্টভাবে প্রত্যবেক্ষকের প্রতিবেদনে উল্লেখ থাকতে হবে। নীরব বহিষ্কৃত পরীক্ষার্থীদেরকে সঙ্গত কারণেই পরবর্তী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার অনুমতি দিতে হবে। তবে পরবর্তী বিষয়ের পরীক্ষায় সে অসদুপায় অবলম্বন না করলেও তার পরবর্তী সকল বিষয়ের সৃজনশীল উত্তরপত্র (কভার পৃষ্ঠার ১ম অংশ না ছিঁড়ে) ও নৈর্ব্যক্তিক উত্তরপত্র প্রত্যেক বিষয় ও পত্রের সাথে নীরব বহিষ্কারের বিষয়, পত্র ও কারণ উল্লেখপূর্বক প্রতিবেদনসহ আলাদা প্যাকেটে কেন্দ্রের উত্তরপত্রের বাক্সে/বস্তায় পৃথকভাবে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে জমা দিতে হবে।
ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ নীতিমালাটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।