img

ইরান-কুর্দিস্তান উত্তেজনা তৈরিতে মার্কিন গোয়েন্দা তৎপরতা, সিএনএন-এর বিস্ফোরক রিপোর্ট

প্রকাশিত :  ১১:৪৮, ০৫ মার্চ ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১২:৫৬, ০৫ মার্চ ২০২৬

ইরান-কুর্দিস্তান উত্তেজনা তৈরিতে মার্কিন গোয়েন্দা তৎপরতা, সিএনএন-এর বিস্ফোরক রিপোর্ট

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ ইরানের ভেতরে গণঅভ্যুত্থান ঘটানোর লক্ষ্যে কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের বর্তমান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার উদ্দেশ্যে ট্রাম্প প্রশাসন ইরাকে অবস্থানরত কুর্দি নেতাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

এই পদক্ষেপটি মূলত ইরানের পশ্চিমাঞ্চলে কুর্দি অধ্যুষিত এলাকায় একটি বড় ধরনের অস্থিতিশীলতা তৈরির প্রচেষ্টার অংশ। তবে কুর্দিস্তানের বেশিরভাগ নেতা বলছেন, পূর্বের অভিজ্ঞতা সুখকর নয় এবং বর্তমানে আমাদেরকে কী টার্গেট নিয়ে আগাতে হবে তা একদমই পরিষ্কার নয়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রতিদিনই বিভিন্ন ধরনের কথা বলেন; একদিন বলেন কুর্দি জনগণের মুক্তি, আরেকদিন ইরানে ক্ষমতার পালাবদল, বিধ্বংসী অস্ত্র ধ্বংসের কথা, আবার আরেক দিন ইসরায়েলের পক্ষ নিয়ে যুদ্ধ করছে তাঁর বাহিনী! এর ভিত্তিতে কোনো পদক্ষেপ নিতে তারা রীতিমতো শংকিত। অন্যদিকে ইরান যেকোনো পদক্ষেপের বিরুদ্ধে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে কুর্দিদের যে, তারা সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা নেবে যদি তারা ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়।

ইরান ও কুর্দি জনগণের মধ্যে দ্বন্দ্বের ইতিহাস অত্যন্ত দীর্ঘ এবং জটিল। কুর্দিরা বিশ্বের বৃহত্তম জাতিগোষ্ঠী যাদের নিজস্ব কোনো স্বাধীন রাষ্ট্র নেই। তারা ইরান, ইরাক, তুরস্ক এবং সিরিয়ার বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে আছে।

১. ১৯৭৯ সালের বিপ্লব ও স্বায়ত্তশাসন: ১৯৭৯ সালে ইরানি বিপ্লবের পর কুর্দিরা আশা করেছিল যে নতুন ইসলামী প্রজাতন্ত্র তাদের আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন প্রদান করবে। কিন্তু তৎকালীন সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ খোমেনি এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেন, যার ফলে সশস্ত্র সংঘাত শুরু হয়।

২. সাদ্দাম হোসেন ও কুর্দিরা: ১৯৯০-এর দশকে ইরাক-ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে কুর্দিরা অনেক সময় বিভিন্ন শক্তির হয়ে লড়াই করেছে। তবে তারা বারবার বড় শক্তিগুলোর (যেমন যুক্তরাষ্ট্র) রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহৃত হয়েছে এবং পরে পরিত্যক্ত হয়েছে।

৩. মাহসা আমিনি ও সাম্প্রতিক গণজাগরণ: ২০২২ সালে কুর্দি বংশোদ্ভূত তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর ইরানে যে "নারী, জীবন, স্বাধীনতা" (Woman, Life, Freedom) আন্দোলন শুরু হয়, তার কেন্দ্রবিন্দু ছিল কুর্দি অঞ্চলগুলো। ইরান সরকার এই বিক্ষোভকে বিদেশের মদদপুষ্ট 'বিচ্ছিন্নতাবাদী' আন্দোলন হিসেবে আখ্যা দেয় এবং কুর্দি অঞ্চলগুলোতে কঠোর সামরিক অভিযান চালায়।

বর্তমান পরিস্থিতি সিএনএন-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, সিআইএ এখন ইরানের ভেতরে একটি ছায়া যুদ্ধ বা প্রক্সি ওয়ার শুরু করতে চাচ্ছে। কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র দেওয়ার মাধ্যমে তারা ইরানের পশ্চিম সীমান্তে একটি 'বাফার জোন' তৈরি করতে চায়, যা ইরান সরকারকে চাপে ফেলবে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এই ধরনের পদক্ষেপ পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে আরও বড় যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

তথ্যসূত্র: নাতাশা বারট্রান্ড (Natasha Bertrand), অ্যালাইনা ট্রিন (Alayna Treene), এবং ক্লারিসা ওয়ার্ড (Clarissa Ward) [সিএনএন-এর মূল রিপোর্ট থেকে সংগৃহীত]।


img

পিলখানা হত্যাকাণ্ড: কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত ৮ সাবেক বিডিআর সদস্য

প্রকাশিত :  ১৬:৪৪, ০১ মে ২০২৬

পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা মামলার আসামিদের মধ্যে  জামিনে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন আট সাবেক বিডিআর সদস্য।

আজ শুক্রবার (১ মে) গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের হাই সিকিউরিটি ইউনিটে থাকা এক বন্দি এবং কারাগার পার্ট-২ এ থাকা সাত বন্দি মুক্তি পান।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারের জেল সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন। তিনি জানান, তার কারাগার থেকে একজন ও বাকিদের অন্য কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

কারা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, কাশিমপুর কারাগারে বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় বিস্ফোরক মামলার আট আসামির জামিননামা পাঠানো হয়। সেসব জামিননামা যাচাই-বাছাই শেষে অন্য কোনো মামলায় আটকাদেশ না থাকায় বন্দিদের জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। এ সময় কারাফটকে বন্দিদের স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-২ এর জেলসুপার হালিমা খাতুন জানান, জামিনের কাগজ যাচাই-বাছাই শেষে শুক্রবার সকালে তার কারাগার থেকে একজন ও বিকালে ছয়জনকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। 

প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদর দপ্তরে বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন নিহত হন। এ ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা হয়। হত্যা মামলায় ৮৫০ জনের বিচার শেষ হয় ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর। যেখানে ১৫২ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ১৬০ জনের যাবজ্জীবন ও ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আর খালাস পান ২৭৮ জন।

জাতীয় এর আরও খবর