img

সিলেটে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৮

প্রকাশিত :  ০৫:৪৪, ০৩ মে ২০২৬

সিলেটে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৮

সিলেটের দক্ষিণ সুরমার তেলিবাজারে ট্রাক ও পিকআপের সংঘর্ষে ৮ জন নিহত হয়েছেন। নিতেদের মধ্যে ২ জন নারী রয়েছেন। এতে আহত হয়েছে আরও বেশ কয়েকজন। 

আজ রোববার সকাল সোয়া সাড়ে ৬ দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের তেলিবাজারে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতদের মধ্যে ৪ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন- সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া গ্রামের মৃত খরম আলীর ছেলে মো. সুরুজ আলী (৬০), একই উপজেলার শেষস্তি গ্রামের আব্দুল বাসিরের মেয়ে মোছা. মুন্নি (৩৫), সিলেটের জালালাবাদ থানার লালারগাঁও এলাকার সুজাত আলীর ছেলে মো. বদরুল (৩০) এবং দিরাই উপজেলার নুরনগর এলাকার মৃত নূর সালামের ছেলে মো. ফরিদুল (৩৫)। অন্য ৪ জনের পরিচয় এখনও শনাক্ত করা যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন, হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার আমকান্দি গ্রামের রফিক মিয়ার ছেলে মো. আলমগীর (৩২), সিলেট নগরের কালিবাড়ি এলাকার মৃত শুকুর উল্লাহর ছেলে তোরাব উল্লাহ (৬০), আম্বরখানার লোহারপাড়ার মৃত আলিম উদ্দিনের ছেলে রামিন (৪০) ও একই এলাকার মল্লিক মিয়ার ছেলে আফরোজ মিয়া (৪০), সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার গাছতলা গ্রামের খোকন মিয়ার মেয়ে রাভু আক্তার (২৫), সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পাউমারা গ্রামের বদরুজ্জামানের মেয়ে হাফিজা বেগম (৩০) এবং দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়ার জফুর আলীর ছেলে রাজা মিয়া (৪৫)।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. রিয়াজুল কবির, পিএসসি জানান, রোববার সকাল ৬টার দিকে সিলেট থেকে একটি ডিআই পিকআপে করে বেশকিছু নির্মাণ শ্রমিক সুনামগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথিমধ্যে দক্ষিণ সুরমার তেতলী বাজার এলাকায় চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা কাঠালবোঝাই একটি ট্রাকের সঙ্গে তাদের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই চারজন শ্রমিকের মৃত্যু হয় এবং গুরুতর আহতদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও চারজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

তিনি জানান, এ ঘটনায় আরও কয়েকজন শ্রমিক গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। দুর্ঘটনার পর থেকেই পিকআপ ও ট্রাকউভয় চালক পলাতক রয়েছেন। তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

ভাঙনের মুখে সুরমা চা বাগানের সেতু—সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড়, দ্রুত সংস্কারের দাবি

প্রকাশিত :  ১৬:৩২, ০৩ মে ২০২৬

সংগ্রাম দত্ত: পর্যটনের অপার সম্ভাবনা আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা সিলেট বিভাগে প্রবেশের অন্যতম পথ মাধবপুরের সুরমা চা বাগান। ঢাকা থেকে সড়কপথে সিলেটে ঢোকার সময় এই বাগান যেন এক সবুজ দরজা—যা স্বাগত জানায় পাহাড়, টিলা আর চায়ের সারি-সারি বাগানের সৌন্দর্যে। কিন্তু সেই সৌন্দর্যের মাঝেই এখন দেখা দিয়েছে এক গুরুতর সংকট। বাগানে প্রবেশের প্রধান সেতুটি ভাঙনের মুখে, যা স্থানীয়দের জন্য ক্রমেই বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে সেতুটির বিভিন্ন অংশ দুর্বল হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন শ্রমিক, শিক্ষার্থী, পর্যটকসহ সাধারণ মানুষ। সামান্য একটি দুর্ঘটনাও বড় বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে—এমন আশঙ্কা এখন সবার মনে।

সুরমা চা বাগান শুধু একটি দর্শনীয় স্থান নয়; এটি স্থানীয় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বাগানের উৎপাদন, শ্রমিকদের যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহনের প্রধান ভরসা এই সেতু। সেতুটি অচল হয়ে পড়লে বাগানের সঙ্গে বাইরের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে, যার প্রভাব পড়বে চা উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায়। একই সঙ্গে ভূমিধস বা কাঠামোগত ক্ষতির ঝুঁকিও বাড়ছে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।

এদিকে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে। Nature’s Notebook নামের একটি প্ল্যাটফর্ম থেকে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশের পর মুহূর্তের মধ্যেই তা ভাইরাল হয়ে পড়ে। অসংখ্য মন্তব্য, শেয়ার ও প্রতিক্রিয়ায় ভরে ওঠে অনলাইন জগৎ। অনেকেই সেতুটির বর্তমান অবস্থার ছবি তুলে ধরে দ্রুত সংস্কারের দাবি জানাচ্ছেন, কেউ কেউ সম্ভাব্য দুর্ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।

পর্যটন শিল্পের দিক থেকেও বিষয়টি উদ্বেগজনক। সিলেটগামী পর্যটকদের কাছে এই পথটি এক আকর্ষণীয় অভিজ্ঞতা। কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর কারণে নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ হলে পর্যটকদের আগ্রহ কমে যেতে পারে, যা সামগ্রিকভাবে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

মাধবপুর উপজেলার অধিবাসীরা দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের দাবি, সরকারি অনুদান অথবা চা বাগান কর্তৃপক্ষের যৌথ উদ্যোগে সেতুটির সংস্কার জরুরি ভিত্তিতে সম্পন্ন করতে হবে। সময়মতো উদ্যোগ না নিলে একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ হারানোর পাশাপাশি বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

সবুজের এই প্রবেশদ্বারকে টিকিয়ে রাখতে এখন প্রয়োজন কার্যকর উদ্যোগ, দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং বাস্তবায়ন। নইলে সুরমা চা বাগানের এই সেতু শুধু একটি কাঠামো নয়—এটি হয়ে উঠতে পারে এক অনাকাঙ্ক্ষিত বিপর্যয়ের প্রতীক।



সিলেটের খবর এর আরও খবর