img

শ্রীমঙ্গলে চোর চক্রের দুই সদস্য গ্রেফতার: সিসিটিভির সূত্র ধরে ৭.৪০ লাখ টাকার চোরাই মালামাল উদ্ধার

প্রকাশিত :  ১৯:৩৯, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৯:৫০, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

শ্রীমঙ্গলে চোর চক্রের দুই সদস্য গ্রেফতার: সিসিটিভির সূত্র ধরে ৭.৪০ লাখ টাকার চোরাই মালামাল উদ্ধার

সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলায় আন্তঃজেলা চোর চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে প্রায় ৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের চুরি হওয়া বিভিন্ন মেশিনের লোহার মোল্ড উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, উপজেলার আশিদ্রোন ইউনিয়নে অবস্থিত গ্রীনলিফ ইনোভেশন কোম্পানি লিমিটেডের কারখানায় গত ২৪ এপ্রিল ভোর রাতে চুরির ঘটনা ঘটে। দুর্বৃত্তরা কারখানার ভেতর থেকে মূল্যবান লোহার মোল্ড নিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনার পরপরই অভিযোগ পেয়ে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে চোরদের শনাক্তে মাঠে নামে।

তদন্তের ধারাবাহিকতায় ২৬ এপ্রিল রাতে সাব-ইন্সপেক্টর হারুর অর রশিদের নেতৃত্বে একটি দল পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে দক্ষিণ উত্তরসুর এলাকা থেকে আন্তঃজেলা চোর চক্রের সদস্য নিতাই মালাকার (২৮) এবং শরিয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার বাসিন্দা মো. মিলন শেখ (৩৮)কে গ্রেফতার করা হয়, যিনি বর্তমানে একই এলাকায় অবস্থান করছিলেন।

পুলিশের দাবি, গ্রেফতারকৃতদের হেফাজত থেকেই চুরি হওয়া মেশিনের মোল্ডগুলো উদ্ধার করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে চোর চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

সংযোগহীন সময়ের সেতু—পাঁচগাঁওয়ের শতবর্ষী ডিসপেন্সারির নীরব আর্তনাদ

প্রকাশিত :  ১২:০৫, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার পাঁচগাঁও—সবুজে ঘেরা এক নিভৃত জনপদ। এই শান্ত গ্রামের বুকেই দাঁড়িয়ে আছে ইতিহাসের এক নীরব সাক্ষী—কাশীচন্দ্র-আনন্দময়ী ডিসপেন্সারী। তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের আসাম প্রদেশের দক্ষিণ শ্রীহট্ট মহকুমার অন্তর্গত এই চিকিৎসাকেন্দ্রটি আজকের পাঁচগাঁও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পূর্বসূরি। সময়ের বিবর্তনে স্বাস্থ্যসেবা স্থানান্তরিত হয়েছে পাশের আধুনিক ভবনে, কিন্তু পুরোনো এই স্থাপনাটি যেন আটকে আছে অতীতের এক নিঃশব্দ প্রহরায়।

১৯৪১ সালের ১৬ এপ্রিল, বাংলা নববর্ষের সূচনালগ্নে, এই ডিসপেন্সারির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তৎকালীন আসাম প্রদেশের জনস্বাস্থ্য বিভাগের মন্ত্রী এবং কাছাড় জেলার হাইলাকান্দি থেকে নির্বাচিত বিধানসভার সদস্য শ্রীযুক্ত হীরেন্দ্র চন্দ্র চক্রবর্তী। ব্রিটিশ আমলের স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত এই ভবনের গায়ে এখনো শোভা পায় শ্বেতপাথরে খোদাইকৃত সেই স্মারক ফলক—যা ইতিহাসের সাক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, নীরবে জানিয়ে দেয় তার গৌরবগাথা।

একসময় এ অঞ্চলের মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসার ভরসাস্থল ছিল এই ডিসপেন্সারী। গ্রামের অসংখ্য মানুষ এখানেই পেয়েছে সেবা, স্বস্তি ও সুস্থতার আশ্বাস। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে যতই আধুনিকতা এগিয়েছে, ততই উপেক্ষিত হয়েছে এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি। বর্তমানে এটি প্রায় পরিত্যক্ত—দেয়ালে ফাটল, ছাদের ক্ষয়, আর চারপাশে আগাছার দখল যেন তার অস্তিত্বকে ধীরে ধীরে গ্রাস করছে।

প্রায় এক শতাব্দীর দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা এই ভবনটি কেবল একটি পুরোনো চিকিৎসাকেন্দ্র নয়; এটি শ্রীহট্ট অঞ্চলের সামাজিক ও প্রশাসনিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ দলিল। অথচ সংরক্ষণের অভাবে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে এর স্বকীয়তা ও ঐতিহ্যিক মূল্য।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত এই স্থাপনাটিকে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে ঘোষণা করে যথাযথ সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হোক। তাদের মতে, এটি শুধু একটি ভবন নয়—এটি এক যুগের স্মৃতি, এক ইতিহাসের ধারক।

প্রশ্ন জাগে—এভাবেই কি একের পর এক শ্রীহট্টের ইতিহাসবাহী স্থাপনাগুলো হারিয়ে যাবে? নাকি এখনই সময়, অতীতকে বাঁচাতে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে আসার?

পাঁচগাঁওয়ের এই শতবর্ষী ডিসপেন্সারী আজও অপেক্ষায়—কারও নজর পড়বে, কেউ তার গল্প শুনবে, আর হয়তো একদিন আবার সে ফিরে পাবে তার হারানো মর্যাদা।

সিলেটের খবর এর আরও খবর