img

জগন্নাথপুরে বৃষ্টিতে ডুবছে পাকা ধান, হাওরজুড়ে হাহাকার

প্রকাশিত :  ০৯:২২, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

 জগন্নাথপুরে বৃষ্টিতে ডুবছে পাকা ধান, হাওরজুড়ে হাহাকার

উজান থেকে আসা ঢল ও টানা বৃষ্টিতে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের বিভিন্ন হাওরের পাকা ধান ডুবে গেছে। গতকাল সোমবার ও আজ মঙ্গলবার হওয়া বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে এ ধান। ফলে হাওরজুড়ে কৃষকদের মধ্যে হাহাকার দেখা গেছে।

নলুয়ার হাওরের দাসনোওয়াগাঁও গ্রামের কৃষক সারদা চরন দাস জানান, তিনি ১৬ কেদার জমি আবাদ করেছিলেন। মাত্র এক কেদার জমির ফসল তুলতে পেরেছেন। গত দুই দিনের টানা বৃষ্টিতে সব জমি তলিয়ে গেছে। কৃষি শ্রমিক সংকট থাকায় তিনি অনেক চেষ্টা করেও ফসল ঘরে আনতে পারেননি।

তিনি কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার সব শেষ হয়ে গেল। বোরো ফসলের ওপর নির্ভরশীল আমার পরিবার। ধারদেনা করে জমি আবাদ করেছিলাম। এখন সারাবছর কীভাবে চলব?’

কথা হয় সাবেক চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রনধির দাস নান্টুর সঙ্গে। তিনি জানান, নলুয়ার হাওরের অধিকাংশ জমির ফসল তুলতে পারেননি কৃষকরা। শুরুতেই জলাবদ্ধতা, শ্রমিক সংকট ভুগতে হয়। গত দুই দিনের অব্যাহত বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চলের সব জমি তলিয়ে গেছে। ধারণা কমপক্ষে দেড়-দুই হাজার হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে।

নলুয়ার হাওরের কৃষক এখলাছ মিয়া, মধু মিয়া, গৌরাঙ্গ দাস, হরিন্দ্র দাস বৃষ্টিতে তাদের ফসল তলিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়ে বলেন, পানি নিষ্কাশনের কোন ব্যবস্থা না থাকায় ভারী বৃষ্টিতে ফসল ডুবে গেছে। হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ এবার মরণফাঁদ হয়ে দেখা দিয়েছে।

এ দিকে অতিবৃষ্টিতে জগন্নাথপুরের মইয়া ও পিংলার হাওরসহ উপজেলার বিভিন্ন হাওরে আধা-পাকা ধান ডুবে যাচ্ছে।

জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাওসার আহমেদ বলেন, নলুয়ার হাওরের ৫০ ভাগ জমির ধান কাটা শেষ। জলাবদ্ধতা ও শ্রমিক সংকটের কারণে বহু কৃষক ধান তুলতে বেগ পাচ্ছেন। এরই মধ্যে টানা বৃষ্টিতে ফসলের কিছু ক্ষতি করছে। তবে এখনই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বলা যাচ্ছে না। নৌকা দিয়ে ধান তোলার চেষ্টা চলছে। এ বছর জগন্নাথপুর উপজেলায় ২০ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসলাম উদ্দিন বলেন, ‘আমি হাওরে আছি। কৃষকদের কীভাবে সহায়তা করা যায় সেই চেষ্টা করছি।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

বড়লেখায় ডাকাতির চেষ্টা: সহযোগীর গুলিতে প্রাণ গেল ডাকাতের

প্রকাশিত :  ০৯:৪৩, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলায় ডাকাতির চেষ্টাকালে ডাকাত দলের গুলিতে এক ডাকাত নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। নিহত ব্যক্তির নাম সাইফুল ওরফে ছয়ফুল (৩২)। তিনি সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার নন্দীরফল গ্রামের বাসিন্দা এবং ফজলুর রহমানের ছেলে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ভোররাতে উপজেলার দাসেরবাজার ইউনিয়নের দক্ষিণ লঘাটি গ্রামের যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আব্দুল কুদ্দুসের বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আব্দুল কুদ্দুসের বাড়িতে তার আত্মীয় গিয়াস উদ্দিন পরিবারসহ বসবাস করছিলেন। সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণের সুযোগে ভোররাতে একদল সশস্ত্র ডাকাত বাড়িটিতে প্রবেশ করে এবং রান্নাঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা চালায়। দরজা ভাঙার শব্দ পেয়ে পরিবারের সদস্যরা জেগে ওঠেন। এ সময় ডাকাতরা রান্নাঘরের দরজায় লাগানো গ্রিল ভাঙার চেষ্টা করলে গিয়াস উদ্দিন সাহসিকতার সঙ্গে তা প্রতিরোধ করেন এবং চিৎকার করে আশপাশের লোকজনকে সতর্ক করার চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ডাকাতরা অন্ধকারের মধ্যে গিয়াস উদ্দিনকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। তবে গুলিটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে একই দলের সদস্য সাইফুলের মাথায় লাগে। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আকস্মিক এ ঘটনায় অন্য ডাকাতরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। ঘটনার খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকালে বড়লেখা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুজ্জামান খান বলেন, “ডাকাতির চেষ্টাকালে এ ঘটনা ঘটেছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। জড়িত অন্যান্য ডাকাতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

সিলেটের খবর এর আরও খবর