img

ভাঙনের মুখে সুরমা চা বাগানের সেতু—সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড়, দ্রুত সংস্কারের দাবি

প্রকাশিত :  ১৬:৩২, ০৩ মে ২০২৬

ভাঙনের মুখে সুরমা চা বাগানের সেতু—সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড়, দ্রুত সংস্কারের দাবি

সংগ্রাম দত্ত: পর্যটনের অপার সম্ভাবনা আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা সিলেট বিভাগে প্রবেশের অন্যতম পথ মাধবপুরের সুরমা চা বাগান। ঢাকা থেকে সড়কপথে সিলেটে ঢোকার সময় এই বাগান যেন এক সবুজ দরজা—যা স্বাগত জানায় পাহাড়, টিলা আর চায়ের সারি-সারি বাগানের সৌন্দর্যে। কিন্তু সেই সৌন্দর্যের মাঝেই এখন দেখা দিয়েছে এক গুরুতর সংকট। বাগানে প্রবেশের প্রধান সেতুটি ভাঙনের মুখে, যা স্থানীয়দের জন্য ক্রমেই বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে সেতুটির বিভিন্ন অংশ দুর্বল হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন শ্রমিক, শিক্ষার্থী, পর্যটকসহ সাধারণ মানুষ। সামান্য একটি দুর্ঘটনাও বড় বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে—এমন আশঙ্কা এখন সবার মনে।

সুরমা চা বাগান শুধু একটি দর্শনীয় স্থান নয়; এটি স্থানীয় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বাগানের উৎপাদন, শ্রমিকদের যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহনের প্রধান ভরসা এই সেতু। সেতুটি অচল হয়ে পড়লে বাগানের সঙ্গে বাইরের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে, যার প্রভাব পড়বে চা উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায়। একই সঙ্গে ভূমিধস বা কাঠামোগত ক্ষতির ঝুঁকিও বাড়ছে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।

এদিকে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে। Nature’s Notebook নামের একটি প্ল্যাটফর্ম থেকে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশের পর মুহূর্তের মধ্যেই তা ভাইরাল হয়ে পড়ে। অসংখ্য মন্তব্য, শেয়ার ও প্রতিক্রিয়ায় ভরে ওঠে অনলাইন জগৎ। অনেকেই সেতুটির বর্তমান অবস্থার ছবি তুলে ধরে দ্রুত সংস্কারের দাবি জানাচ্ছেন, কেউ কেউ সম্ভাব্য দুর্ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।

পর্যটন শিল্পের দিক থেকেও বিষয়টি উদ্বেগজনক। সিলেটগামী পর্যটকদের কাছে এই পথটি এক আকর্ষণীয় অভিজ্ঞতা। কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর কারণে নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ হলে পর্যটকদের আগ্রহ কমে যেতে পারে, যা সামগ্রিকভাবে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

মাধবপুর উপজেলার অধিবাসীরা দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের দাবি, সরকারি অনুদান অথবা চা বাগান কর্তৃপক্ষের যৌথ উদ্যোগে সেতুটির সংস্কার জরুরি ভিত্তিতে সম্পন্ন করতে হবে। সময়মতো উদ্যোগ না নিলে একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ হারানোর পাশাপাশি বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

সবুজের এই প্রবেশদ্বারকে টিকিয়ে রাখতে এখন প্রয়োজন কার্যকর উদ্যোগ, দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং বাস্তবায়ন। নইলে সুরমা চা বাগানের এই সেতু শুধু একটি কাঠামো নয়—এটি হয়ে উঠতে পারে এক অনাকাঙ্ক্ষিত বিপর্যয়ের প্রতীক।



সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

শেষ প্রহরে চুনারুঘাটের স্বপ্নের সড়ক—বালু লুট আর বর্ষণে ভাঙনের মুখে চা-বাগানের পথ

প্রকাশিত :  ০৭:৪৫, ০৩ মে ২০২৬

সংগ্রাম দত্ত: ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের পাশে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট—সবুজ চা-বাগান আর আঁকাবাঁকা সড়কের এক অনন্য মিলনস্থল। চন্ডিচড়া চা বাগানের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া এই সড়কটি একসময় ছিল পর্যটকদের প্রিয় পথ। কিন্তু আজ সেই পথই দাঁড়িয়ে আছে বিলীন হওয়ার দ্বারপ্রান্তে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রামগঙ্গা ব্রিজের নিচে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছে। প্রভাবশালী একটি চক্র ট্রলি নামিয়ে প্রকাশ্যেই এই কাজ করে যাচ্ছে। এতে নদীর তলদেশ দুর্বল হয়ে পড়েছে, নষ্ট হয়েছে স্বাভাবিক ভারসাম্য। বর্ষার পানির চাপ সেই ক্ষয়কে আরও ত্বরান্বিত করছে—ঝুঁকির মুখে পড়েছে ব্রিজ, আশপাশের সড়কও।

ভারী বর্ষণে ইতোমধ্যে সড়কের পাশজুড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও মাটি সরে গিয়ে রাস্তা সরু হয়ে পড়েছে, তৈরি হয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি। পাহাড়ি ঢল নামলে এই ভাঙন আরও বাড়ছে, বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে তীব্র উদ্বেগ দেখা গেছে। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে ধ্বংসের চিত্র।
ইঞ্জিনিয়ার রিমন সরকার নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, “সম্প্রতি এলাকাটি ঘুরে দেখেছি। ট্রলি দিয়ে বালু তুলতে দেখেছি। রাস্তার অবস্থা খুব খারাপ—মনে হচ্ছে এই বর্ষা মৌসুমেই সড়কটি পুরোপুরি বিলীন হয়ে যেতে পারে।” তিনি দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

চুনারুঘাট সিলেট বিভাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র। বিশেষ করে চা বাগানের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া এই সড়ক ও ছড়া-নদীর দৃশ্য প্রকৃতিপ্রেমীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। অথচ সেই আকর্ষণই এখন ধ্বংসের মুখে।

প্রকৃতির সৌন্দর্য আর মানুষের অবহেলার এই দ্বন্দ্বে হারিয়ে যেতে বসেছে একটি সম্ভাবনাময় পর্যটন পথ। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে, খুব শিগগিরই হয়তো মানচিত্র থেকেই মুছে যাবে চুনারুঘাটের এই স্বপ্নের সড়ক।

সিলেটের খবর এর আরও খবর