img

বিষপ্রয়োগে ১২০০ মোরগ হত্যা, এক রাতেই শেষ খামারীর স্বপ্ন

প্রকাশিত :  ২০:৩২, ০৭ মে ২০২৬

 বিষপ্রয়োগে ১২০০ মোরগ হত্যা, এক রাতেই শেষ খামারীর স্বপ্ন

সুনামগঞ্জ জেলার ছাতকে একটি পোল্ট্রি খামারে বিষ প্রয়োগে প্রায় ১২০০ মোরগ মারা যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে খামার মালিকের আনুমানিক সাড়ে ৩ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী খামার মালিক মো. হুশিয়ার আলী ছাতক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি ছাতক পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের বাগবাড়ি এলাকার বাসিন্দা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, হুশিয়ার আলী তার বসতঘরের দ্বিতীয় তলায় প্রায় ২০০০টি বাউন কক জাতের মোরগ নিয়ে খামার পরিচালনা করছিলেন। গত ৬ মে দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে তিনি খামার পরিদর্শনের পর ঘুমাতে যান। পরদিন সকাল ৬টার দিকে খামারে গিয়ে তিনি দেখতে পান প্রায় ১২০০টি মোরগ মৃত অবস্থায় পড়ে আছে।

তার দাবি অনুযায়ী, এতে তার প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, জায়গা-জমি ও পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে তার শ্বশুর মোঃ আবুল মিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। পূর্ব শত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে খামারে বিষ প্রয়োগ করে মোরগগুলো মারা হয়েছে বলে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন। এ ঘটনায় তিনি কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিলন মিয়া বলেন, “খামারটি প্রাথমিকভাবে পরিদর্শনে কোনো বাহ্যিক রোগের লক্ষণ পাওয়া যায়নি। হঠাৎ করে ১২০০ থেকে ১৫০০ মোরগ মারা যাওয়া অবশ্যই উদ্বেগজনক। বিষয়টি নিশ্চিত করতে নমুনা সংগ্রহ করে সিলেট ল্যাবে পাঠানো হবে।”

এ বিষয়ে ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, “আমরা অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তের জন্য একজন এসআইকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

ছাতক উপজেলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অরূপ রতন সিংহ বলেন, “বিষয়টি নিয়ে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এবং ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জের সঙ্গে কথা বলব। সঠিকভাবে তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।”

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

শ্রীমঙ্গলের শংকরটিলা লেক: প্রকৃতির নীরব সৌন্দর্যে আরেকটি প্রাণহানি

প্রকাশিত :  ১৮:০৮, ০৮ মে ২০২৬

সংগ্রাম দত্ত: চা-বাগানের সবুজ ঢেউ, পাহাড়ি টিলা, ঘন বনাঞ্চল আর নিস্তব্ধ লেক—সব মিলিয়ে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভাড়াউড়া চা বাগান যেন প্রকৃতির এক অপূর্ব ক্যানভাস। কিন্তু সেই মনোমুগ্ধকর পরিবেশ বৃহস্পতিবার বিকেলে পরিণত হলো শোকের ঘটনায়। ভাড়াউড়া চা বাগান এলাকার শংকরটিলা সংলগ্ন লেকে পানিতে ডুবে মারা গেছেন শ্রী অন্তর সাহা (২৬) নামে এক টমটম চালক।

নিহত অন্তর সাহা উপজেলার শাহজীবাজারের দক্ষিণ উত্তরসূর এলাকার বাসিন্দা। তার পিতা দীলিপ সাহা (কালু)।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (৭ মে)  বিকেলে অন্তর সাহা শংকরটিলায় অবস্থিত একটি মন্দির পরিদর্শনে যান। পরে পাশের লেকে স্নান করতে নামলে তিনি পানিতে তলিয়ে যান। দীর্ঘ সময় তাকে খুঁজে না পেয়ে আশপাশের লোকজন উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন।

বাগানের এক পাহারাদার বিষয়টি প্রথমে বাগান কর্তৃপক্ষকে জানান। পরে খবর পেয়ে শ্রীমঙ্গল ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ডুবুরি দলের সহায়তায় সন্ধ্যার দিকে লেক থেকে অন্তরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে মরদেহ শ্রীমঙ্গল থানায় নেওয়া হয়।

ঘটনার পর এলাকায় নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে অন্তরের টমটম গাড়ির ব্যাটারি নিয়ে সন্দেহের কথা উঠেছিল। তবে পরে নিশ্চিত হওয়া যায়, গাড়ির ব্যাটারি সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছে এবং টমটমটিও উদ্ধার করা হয়েছে।

উদ্ধার অভিযানে থাকা এসআই দীপঙ্করের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

প্রকৃতির সৌন্দর্যের আড়ালে রহস্যঘেরা লেক

শংকরটিলা লেক স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত এক নৈসর্গিক স্থান হিসেবে। চারদিকে সবুজ চা বাগান, উঁচুনিচু পাহাড়ি টিলা, বনাঞ্চলের নির্জনতা এবং শান্ত জলরাশি মিলিয়ে এটি দর্শনার্থীদের কাছে আকর্ষণীয় এক গন্তব্য।

তবে স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এই লেকের সঙ্গে জড়িয়ে আছে অতীতের কিছু বেদনাদায়ক স্মৃতিও। কয়েক দশক আগে একই লেক থেকে এক চা-বাগান ম্যানেজারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। 

জানা যায়, সাঁতার কাটতে নেমে দুর্ঘটনাবশত তার মৃত্যু হয়েছিল।

স্থানীয় প্রবীণদের মতে, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা হলেও লেকটির কিছু অংশ বেশ গভীর এবং ঝুঁকিপূর্ণ। নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সতর্কতামূলক নির্দেশনার অভাবও এখানে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয়।

শোকের ছায়া

অন্তর সাহার মৃত্যুতে তার পরিবার ও এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পরিচিতজনদের ভাষ্য, তিনি ছিলেন শান্ত ও পরিশ্রমী একজন তরুণ। জীবিকার তাগিদে টমটম চালিয়ে পরিবারকে সহায়তা করতেন।

শ্রীমঙ্গলের অপরূপ প্রাকৃতিক পরিবেশে এমন মর্মান্তিক মৃত্যু আবারও প্রশ্ন তুলেছে—পর্যটন ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় সংশ্লিষ্টদের আরও কার্যকর উদ্যোগ কতটা জরুরি।

সিলেটের খবর এর আরও খবর