পেট্রল–অকটেন-কেরোসিনের দাম বাড়ল, ডিজেল আগের দামেই
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে সূচকের ঊর্ধ্বগতি ও লেনদেন বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে কিছুটা ইতিবাচক আবহ দেখা গেছে। বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে টানা অস্থিরতার পর এ ধরনের প্রবণতা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা আংশিকভাবে ফিরে আসার ইঙ্গিত দিতে পারে। তবে বাজারের টেকসই উন্নতির বিষয়ে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে নারাজ তাঁরা।
দিনশেষে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৩৬ দশমিক ৭৬ পয়েন্ট বা প্রায় শূন্য দশমিক ৬৯ শতাংশ বেড়ে ৫ হাজার ৩৭২ দশমিক ৬৩ পয়েন্টে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে শরিয়াহভিত্তিক সূচক ডিএসইএস এবং ব্লু-চিপ কোম্পানিগুলোর সূচক ডিএস-৩০ও ঊর্ধ্বমুখী ছিল। তিনটি সূচকের একযোগে বৃদ্ধি বাজারে ক্রয়চাপের উপস্থিতিই নির্দেশ করে।
এদিন ডিএসইতে মোট ৯১২ কোটি টাকার বেশি শেয়ার ও ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। লেনদেনের সংখ্যা ছিল ২ লাখ ২৭ হাজার ৭৩০টি। সাম্প্রতিক সময়ের তুলনায় এই লেনদেনকে সন্তোষজনক বলেই মনে করছেন বাজারবিশ্লেষকেরা।
তাঁদের মতে, কেবল সূচক বৃদ্ধি নয়, তার সঙ্গে লেনদেনের পরিমাণ বাড়াও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পর্যাপ্ত লেনদেন ছাড়া সূচকের উত্থান সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী হয় না। এদিন সূচক বৃদ্ধির পাশাপাশি লেনদেনেও গতি দেখা যাওয়ায় বাজারের অভ্যন্তরে কিছুটা ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, এদিন ১৭৮টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে কমেছে ১৫০টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৫৫টির দর। বাড়তি কোম্পানির সংখ্যা কমতির তুলনায় বেশি হওয়ায় বাজারের সামগ্রিক অবস্থান ইতিবাচক ছিল।
বাজারবিশ্লেষকেরা বলছেন, অনেক সময় কয়েকটি বড় মূলধনী কোম্পানির শেয়ারদামের উত্থানে সূচক বাড়লেও অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর কমে যায়। কিন্তু এদিনের চিত্র ছিল কিছুটা ভিন্ন। সূচক বৃদ্ধির পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কোম্পানির শেয়ারদরও বেড়েছে। ফলে বাজারের ইতিবাচক প্রবণতা অপেক্ষাকৃত বিস্তৃত ছিল।
দিনভর সূচকের গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, শুরু থেকেই ক্রেতাদের সক্রিয়তা ছিল। মাঝেমধ্যে মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা দেখা গেলেও তা বাজারের গতিকে খুব বেশি প্রভাবিত করতে পারেনি। বরং শেষ পর্যন্ত সূচক ইতিবাচক অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
ডিএসইর মার্কেট ম্যাপেও এদিন সবুজ রঙের আধিক্য দেখা গেছে। অর্থাৎ অধিকাংশ খাতেই দরবৃদ্ধিপ্রাপ্ত কোম্পানির সংখ্যা তুলনামূলক বেশি ছিল। বিশেষ করে প্রকৌশল, ব্যাংক, টেক্সটাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ওষুধ ও রসায়ন এবং খাদ্য খাতের বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ লক্ষ করা গেছে।
খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, টেক্সটাইল খাতের বেশ কয়েকটি কোম্পানির শেয়ারদর ইতিবাচক অবস্থানে ছিল। একইভাবে ব্যাংক ও প্রকৌশল খাতেও ক্রেতাদের উপস্থিতি ছিল দৃশ্যমান। বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, বড় মূলধনী খাতগুলোতে ক্রয়চাপ বজায় থাকলে সামগ্রিক বাজারেও তার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
ওষুধ ও রসায়ন খাতেও এদিন তুলনামূলক ভালো লেনদেন হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই এই খাতকে মজবুত মৌলিক ভিত্তির খাত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ফলে বাজারে অনিশ্চয়তা থাকলেও অনেক বিনিয়োগকারী এ খাতের শেয়ারকে তুলনামূলক নিরাপদ বলে মনে করেন।
অন্যদিকে লেনদেনের মূল্যের বিচারে প্রকৌশল, ব্যাংক, টেক্সটাইল ও ওষুধ খাতের অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। এতে বোঝা যায়, বাজারের অর্থপ্রবাহ কেবল একটি নির্দিষ্ট খাতে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং তা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ খাতে ছড়িয়ে পড়েছিল।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একধরনের অনিশ্চয়তা কাজ করছিল। তবে সূচকের ধারাবাহিক উন্নতি এবং লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বাড়তে থাকায় অনেকেই বাজারের পরিস্থিতি নতুন করে পর্যবেক্ষণ করছেন। যদিও বাজারের দীর্ঘমেয়াদি গতিপথ নির্ধারণে আরও কয়েকটি কার্যদিবসের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
তাঁদের মতে, আগামী কার্যদিবসেও যদি সূচকের ইতিবাচক প্রবণতা অব্যাহত থাকে এবং লেনদেন বর্তমান পর্যায়ে থাকে, তাহলে বাজারে আস্থার পরিবেশ আরও জোরালো হতে পারে। তবে শেয়ারবাজারে স্বল্পমেয়াদি মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা সব সময়ই থাকে। ফলে যেকোনো ঊর্ধ্বমুখী ধারার মধ্যেও সাময়িক ওঠানামা দেখা যাওয়া স্বাভাবিক।
দিনশেষের পরিসংখ্যান বলছে, বাজারে আপাতত বিক্রিচাপের তুলনায় ক্রয়চাপ কিছুটা বেশি। সূচকের উত্থান, বাড়তি কোম্পানির সংখ্যা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন খাতে সক্রিয় লেনদেন—সব মিলিয়ে বাজারে ইতিবাচক বার্তাই বেশি দৃশ্যমান। তবে এই প্রবণতা কতটা স্থায়ী হবে, তা নির্ভর করছে আগামী কয়েকটি কার্যদিবসের লেনদেন, বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর।