img

ব্যাংক খাতে আস্থা ফেরাতে কঠোর সংস্কার ও কর ছাড় চায় বিএবি

প্রকাশিত :  ১০:২০, ২০ মে ২০২৬

ব্যাংক খাতে আস্থা ফেরাতে কঠোর সংস্কার ও কর ছাড় চায় বিএবি

জাতীয় বাজেটকে সামনে রেখে ব্যাংক খাতের সংকট, মূলধন ঘাটতি ও খেলাপি ঋণের পরিস্থিতি নিয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক করেছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস।

গতকাল মঙ্গলবার (১৯ মে) অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে ব্যাংকিং খাতকে শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় নীতিগত, রাজস্ব ও কাঠামোগত সংস্কারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।বাংলাদেশি কোম্পানি প্রোফাইল

বৈঠকে বিএবি নেতারা ব্যাংকিং খাতের বিদ্যমান নানা সংকটের বিষয় অর্থমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করেন। তারা জানান, ক্রমবর্ধমান খেলাপি ঋণ, মূলধন ঘাটতি, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির দুর্বলতা, শাসনব্যবস্থার দুর্বলতা, দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে আমানতকারীদের আস্থা কমে যাচ্ছে।

বিএবির পক্ষ থেকে বলা হয়, ব্যাংকিং শিল্পের সার্বিক মূলধন পর্যাপ্ততা অনুপাত (সিএআর) প্রায় ৩ শতাংশে নেমে এসেছে, যা পুরো খাতের ওপর বড় চাপ তৈরি করেছে। এর ফলে শিল্পায়ন, এসএমই খাতে ঋণ বিতরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিনিয়োগ সম্প্রসারণে ব্যাংকগুলোর সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়ছে।

সংগঠনটি আরও উল্লেখ করে, ব্যাংকিং খাতকে কার্যকরভাবে পুনঃমূলধনীকরণ করতে হলে শক্তিশালী ঋণ পুনরুদ্ধার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে যেসব ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ব্যাংক থেকে অর্থ আত্মসাৎ করে বিভিন্ন খাতে সম্পদ ও শেয়ার গড়ে তুলেছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়। বিএবি মনে করে, দ্রুত আইনি প্রক্রিয়ায় অর্থ পুনরুদ্ধার এবং অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা গেলে ব্যাংকিং খাতে আস্থা ফিরবে এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষিত হবে।

প্রস্তাবিত ব্যাংকিং রেজোলিউশন কাঠামোর ধারা ১৮কে নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিএবি। সংগঠনটির মতে, বিতর্কিত সাবেক উদ্যোক্তা বা বড় ঋণখেলাপিদের পুনরায় ব্যাংকিং ব্যবস্থায় প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হলে তা সংস্কার কার্যক্রমের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করবে এবং আমানতকারী ও বিনিয়োগকারীদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।স্টক মার্কেট নিউজলেটার

বাজেট ও ব্যাংকিং খাত সংস্কারের অংশ হিসেবে বিএবি অর্থমন্ত্রীর কাছে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব তুলে ধরে। এর মধ্যে রয়েছে— ব্যাংকের কর্পোরেট কর হার কমিয়ে ৩০ শতাংশে নামিয়ে আনা, পাঁচ বছরের জন্য ঋণ ক্ষতির বিপরীতে শতভাগ কর ছাড় সুবিধা, স্টক লভ্যাংশের ওপর অতিরিক্ত কর প্রত্যাহার এবং রাইট শেয়ার ও পুনঃমূলধনীকরণ কার্যক্রম দ্রুত অনুমোদনের ব্যবস্থা করা।

এ ছাড়া পুনরুদ্ধার পরিকল্পনার আওতায় পরিচালিত ব্যাংকগুলোকে এসএমই পুনঃঅর্থায়ন, সবুজ অর্থায়ন, এলটিটিএফসহ বিভিন্ন পুনঃঅর্থায়ন স্কিমে অব্যাহত প্রবেশাধিকার দেওয়ারও দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)-এর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বিএবি আরও প্রস্তাব করেছে, খেলাপি ঋণ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ আর্থিক আদালত গঠন এবং বিপদগ্রস্ত সম্পদ ব্যবস্থাপনায় একটি কেন্দ্রীয় অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি (এএমসি) প্রতিষ্ঠা করা হোক। পাশাপাশি ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে বাংলা কিউআর এবং ডিজিটাল আন্তঃসংযোগ ব্যবস্থার সম্প্রসারণেরও আহ্বান জানানো হয়।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএবির চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার, ভাইস চেয়ারম্যান রোমো রউফ চৌধুরী, শরীফ জহীর, মনজুরুর রহমান এবং রাশেদ আহমেদ চৌধুরীসহ দেশের বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তারা।

বৈঠক শেষে বিএবি জানায়, সরকারের সংস্কার কার্যক্রমে তারা পূর্ণ সহযোগিতা করবে এবং ব্যাংকিং খাতে সুশাসন, স্থিতিশীলতা ও আস্থা ফিরিয়ে আনতে সব অংশীজনের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছে।

img

পুঁজিবাজার, এনবিআর ও ব্যাংক বিকেন্দ্রীভূত করা হবে: অর্থমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ১৩:১২, ২০ মে ২০২৬

পুঁজিবাজার, এনবিআরসহ দেশের আর্থিক খাতগুলোকে দ্রুত সময়ের মধ্যে বিকেন্দ্রীভূত করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

আজ বুধবার (২০ মে) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল আয়োজিত সামিটে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি গত কয়েক বছর অস্থিরতার মধ্য দিয়ে গেছে। অনেক প্রতিষ্ঠান অকার্যকর হয়ে গেছে। বিপুল সংখ্যক শিল্প কারখানা হারিয়ে যাবার অন্যতম কারণ হচ্ছে সঠিক হিসাব ব্যবস্থা না থাকা।

তিনি বলেন, ব্যাংকগুলো থেকে এতগুলো টাকা বের করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে কোম্পানিগুলো ফলস রিপ্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে তারা স্টক মার্কেটে লিস্টেড হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের ভালো ভালো কোম্পানি এখন পুঁজির ঘাটতিতে আছে। ন্যায্য প্রতিযোগিতা না থাকার কারণে এমনটা হয়েছে। ব্যাংকে টাকা রাখেন আমানতকারীরা। শেয়ারের মালিকানা থাকায় পর্ষদে বসে উদ্যোক্তারা ঋণ আবেদন মঞ্জুর করে দেন। অনেক ক্ষেত্রেই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ঘাটতি আছে। 

তিনি আরও বলেন, ব্যক্তি নিজেকে ব্যাংকের মালিক দাবি করতে পারেন না; ব্যাংকের মালিকানা শেয়ারহোল্ডারদের, আর ব্যাংকের অর্থ আমানতকারীদের।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অর্থবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, অতীতে আর্থিক রিপোর্ট ছিল খামখেয়ালিপনায় ভরা, এতে প্রতারিত হয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। সম্পদের সঠিক মূল্য যাচাই না করে বড় বড় ঋণ দেওয়ার কারণে ব্যাংকগুলো খেলাপি ঋণের মুখে পড়েছে এবং একের পর এক আর্থিক কেলেঙ্কারি ঘটেছে।

অর্থনীতি এর আরও খবর