img

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে নতুন সম্ভাবনা: ২০২৬-২৭ অর্থবছরে অর্থনৈতিক রূপান্তর ও সম্ভাবনাময় কোম্পানি

প্রকাশিত :  ১১:২১, ০৮ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১১:৪৭, ০৮ মে ২০২৬

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে নতুন সম্ভাবনা: ২০২৬-২৭ অর্থবছরে অর্থনৈতিক রূপান্তর ও সম্ভাবনাময় কোম্পানি

✍️ রেজুয়ান আহম্মেদ 

বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে এক ঐতিহাসিক বিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এর সুস্পষ্ট প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে পুঁজিবাজারে। দীর্ঘদিনের নীতিগত জড়তা, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সামষ্টিক অর্থনীতির নানা চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে ২০২৬ সাল যেন এক পুনরুত্থানের বছর। বিশেষ করে ২০২৪ সালের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার উদ্যোগ এবং ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচন বিনিয়োগকারীদের মনে নতুন আশা জাগিয়েছে। বিশ্বখ্যাত অর্থনীতিবিদ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মতে, বাংলাদেশের পুঁজিবাজার এখন ‘রক বটম’ বা সর্বনিম্ন স্তরে অবস্থান করছে। এখান থেকে বড় ধরনের উল্লম্ফনের সম্ভাবনা প্রবল। এই প্রতিবেদনে আগামী দুই বছরের বাজার পরিস্থিতি বিশ্লেষণের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় কোম্পানিগুলো শনাক্তের চেষ্টা করা হয়েছে।

সামষ্টিক অর্থনীতি ও প্রবৃদ্ধির নতুন সমীকরণ

পুঁজিবাজারের গতি ও প্রকৃতি দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর নির্ভরশীল। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৪.৬ শতাংশ। ২০২৭ সালে তা ৬.১ শতাংশে উন্নীত হতে পারে। এই প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হলো ব্যক্তিগত ভোগ বৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতির ক্রমশ হ্রাস। ২০২৫ সাল পর্যন্ত মুদ্রাস্ফীতির প্রবল চাপ থাকলেও আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মাঝামাঝিতে তা একক সংখ্যায় (প্রায় ৯.২ শতাংশ) নেমে আসবে। মুদ্রাস্ফীতি হ্রাস পেলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার কমাতে সক্ষম হবে। এটি পুঁজিবাজারে তারল্য প্রবাহ বাড়াতে সহায়ক হবে।

২০২৬ সালের প্রথমার্ধে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। মার্চ নাগাদ রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২৯ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার, যা এক বছর আগে ছিল ২০ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার। এই উন্নতির নেপথ্যে বড় ভূমিকা রেখেছে রেমিট্যান্সের উচ্চ প্রবৃদ্ধি। চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে রেমিট্যান্স বেড়েছে প্রায় ২০ দশমিক ৩ শতাংশ। মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল হওয়ায় এবং টাকার বিনিময় হার বাজারভিত্তিক হওয়ায় কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা অনেকাংশে কমেছে।

নির্বাচনের প্রভাব ও বিনিয়োগকারীদের মনস্তত্ত্ব

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা সব সময়ই একটি বড় নিয়ামক। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর থেকেই বাজারে ‘প্রি-ইলেকশন অপটিমিজম’ বা নির্বাচনপূর্ব ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও পরবর্তী সরকারের সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক নীতি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের পুনরায় আকৃষ্ট করবে। হংকংভিত্তিক এশিয়া ফ্রন্টিয়ার ক্যাপিটালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কায় নির্বাচনের পর পুঁজিবাজার যেভাবে শক্তিশালী পুনরুদ্ধার দেখেছে, বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও ২০২৬ সালে তার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।

বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে বড় ভূমিকা রাখছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি (বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন)। সংস্থাটি মার্জিন রুলস, মিউচুয়াল ফান্ড রেগুলেশন ও আইপিও নীতিমালায় ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। বর্তমান চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ জানিয়েছেন, নেতিবাচক ইক্যুইটি দূর করা এবং অতীতের জালিয়াতির বিচার নিশ্চিত করে বাজারকে স্বচ্ছ কাঠামোর ওপর দাঁড় করানো হচ্ছে। বিশেষ করে ভালো মৌলভিত্তির বড় কোম্পানিগুলোকে তালিকাভুক্ত করতে নীতিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, যা বাজারের গভীরতা বাড়াবে।

ব্যাংকিং খাতের পুনরুত্থান: সুপ্ত সম্ভাবনার সন্ধান

ব্যাংকিং খাতকে পুঁজিবাজারের প্রাণশক্তি বলা হয়। গত কয়েক বছরে খেলাপি ঋণ ও তারল্য সংকটে এই খাতটি চাপের মুখে ছিল। কিন্তু ২০২৬ সালে নির্দিষ্ট কিছু ব্যাংকের শেয়ারে বড় বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে ব্যাংকিং খাতের মূল্য-আয় অনুপাত (পিই রেশিও) ঐতিহাসিকভাবে নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে।

ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি: সুশাসন এবং সহযোগী প্রতিষ্ঠান বিকাশের কারণে ব্র্যাক ব্যাংক এখন আস্থার শীর্ষে। বিকাশের প্রায় ৭ কোটি নিবন্ধিত গ্রাহক ও ৭৫ শতাংশ বাজারশেয়ার থাকলেও ব্র্যাক ব্যাংকের বর্তমান শেয়ারদরে এর সঠিক প্রতিফলন নেই। কনসোলিডেটেড পিই রেশিও মাত্র ৬ দশমিক ৫-এর ঘরে, যা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয়।

সিটি ও প্রাইম ব্যাংক: ২০২৬ সালের শুরুতেই সিটি ব্যাংক শক্তিশালী পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও করপোরেট ব্যাংকিংয়ে শক্ত অবস্থানের কারণে বিনিয়োগকারীরা এই শেয়ারের প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন। অন্যদিকে নিয়মিত লভ্যাংশ দেওয়ার সক্ষমতা ও স্থিতিশীল আয়ের কারণে প্রাইম ব্যাংক ও ব্যাংক এশিয়াও বিনিয়োগকারীদের ওয়াচলিস্টে রয়েছে।

ওষুধ ও রসায়ন খাত: সক্ষমতা বৃদ্ধির লড়াই

বাংলাদেশের ওষুধ খাত এখন আর শুধু স্থানীয় বাজারে সীমাবদ্ধ নেই। রপ্তানি আয় বাড়ানোর পাশাপাশি কোম্পানিগুলো ২০২৬-২৭ সালে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে বড় বিনিয়োগ করছে।

স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস: কোম্পানিটি সম্প্রতি ৬৬০ কোটি টাকার সম্প্রসারণ পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। বিশেষ করে ক্যানসার ও দীর্ঘমেয়াদি রোগের ওষুধ তৈরিতে তারা গুরুত্ব দিচ্ছে। ৪৩টি দেশে রপ্তানি এবং কেনিয়ায় সফল সাবসিডিয়ারি থাকা স্কয়ার ফার্মা গত অর্থবছরে ১২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে, যা তার আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ।

বেক্সিমকো ফার্মা ও রেনাটা: ২০২৬ সালের শুরুতেই এই কোম্পানিগুলো ইতিবাচক রিটার্ন দিচ্ছে। নতুন পণ্য ও আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে ২০২৭ সালের মধ্যে কোম্পানিগুলো আয়ের নতুন রেকর্ড গড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ: ৫জি বিপ্লব ও ডিজিটাল অর্থনীতি

২০২৫ সালের শেষে ৫জি সেবা চালু হওয়া বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের জন্য একটি নতুন মাইলফলক। ২০২৬ ও ২০২৭ সাল হবে এই প্রযুক্তির বাণিজ্যিক প্রসারের বছর। রবি আজিয়াটা এবং গ্রামীণফোন উভয়ই ৫জি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও ডাটা থেকে রাজস্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করছে। বিশেষ করে রবির আইওটি (ইন্টারনেট অব থিংস) প্রযুক্তি এবং গ্রামীণফোনের ৫জি রোমিং সেবা দীর্ঘমেয়াদে এই খাতের বাজার মূল্যায়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

প্রকৌশল ও ইলেকট্রনিক্স: ওয়ালটনের বৈশ্বিক স্বপ্ন

প্রকৌশল খাতে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ এক বিপ্লবের নাম। ২০২৬ সালে কোম্পানিটি তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন ডিজি-টেকের সঙ্গে একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত করেছে। এর ফলে ল্যাপটপ, মোবাইল ও ইলেকট্রিক বাইকের মতো পণ্যগুলো এক ছাতার নিচে আসায় উৎপাদন খরচ কমবে এবং সামগ্রিক দক্ষতা বাড়বে। বর্তমানে ৫৫টির বেশি দেশে পণ্য রপ্তানি করা ওয়ালটন ২০২৭ সালের মধ্যে ১০০টি দেশে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

ইস্পাত ও অবকাঠামো: বিএসআরএমের সক্ষমতা বৃদ্ধি

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বড় বরাদ্দ ইস্পাত খাতের সম্ভাবনা বাড়িয়েছে। বিএসআরএম স্টিলস মিরসরাইতে ২১৭ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে যে বিশাল কারখানা স্থাপন করেছে, তা তাদের উৎপাদন ক্ষমতা বছরে ২ দশমিক ৪ মিলিয়ন টনে উন্নীত করবে। ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল হওয়ায় কোম্পানিটির মুনাফায় বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা যাচ্ছে।

সম্ভাব্য ঝুঁকি ও সতর্কতা

অসীম সম্ভাবনা থাকলেও কিছু ঝুঁকি বিবেচনা করা জরুরি:

১. ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিতে পারে।

২. মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে উচ্চ সুদের হার তারল্য সংকট তৈরি করতে পারে।

৩. ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণ কমানোয় দৃশ্যমান অগ্রগতির অভাব রয়েছে।

২০২৬-২৭ কি ‘বুল রান’-এর বছর?

সামগ্রিক বিশ্লেষণ বলছে, বাংলাদেশের পুঁজিবাজার একটি বড় পরিবর্তনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে। গত কয়েক বছরের পতন বাজারকে এমন এক পর্যায়ে এনেছে যেখানে ভালো মৌলভিত্তির শেয়ারগুলো অত্যন্ত আকর্ষণীয় মূল্যে পাওয়া যাচ্ছে।

পরামর্শ: গুজব এড়িয়ে কোম্পানিগুলোর আর্থিক সক্ষমতা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা যাচাই করে বিনিয়োগ করুন। ধৈর্য ও বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করলে ২০২৬-২৭ সময়কাল দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ গড়ার সুবর্ণ সুযোগ হতে পারে। বাংলাদেশের পুঁজিবাজার কেবল শেয়ারের হাতবদল নয়, বরং এটি আমাদের জাতীয় অর্থনীতির সমৃদ্ধিরই প্রতিফলন।

অর্থনীতি এর আরও খবর

img

রিজার্ভ চুরির অভিযোগপত্রে ড. আতিউরসহ ৬৪ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান

প্রকাশিত :  ০৮:২৪, ১৮ জুন ২০২৬

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমানসহ ৬৪ ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা পেয়েছে। খসড়া অভিযোগপত্র প্রস্তুত করে আইনি পরামর্শের জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে হস্তান্তর করেছে সিআইডি।

আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সিআইডির মুখপাত্র জসীমউদ্দিন খান জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির মামলার খসড়া অভিযোগপত্র (চার্জশিট) প্রস্তুত করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ। 

এই আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনায় দেশি-বিদেশি মোট ৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। 

প্রায় ১০ হাজার পৃষ্ঠার এই খসড়া অভিযোগপত্রটি চূড়ান্ত আইনি পরামর্শের জন্য এরই মধ্যে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সিআইডি সূত্রে আরও জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির মামলায় ১০ বছরের বেশি সময় তদন্তের পর খসড়া অভিযোগপত্র প্রস্তুত করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ। 

দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এই আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনায় করা অভিযোগপত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমানসহ বাংলাদেশের ১০ জন ও ভারত, শ্রীলঙ্কা ও চীনের নাগরিকসহ দেশি-বিদেশি ৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করা হয়েছে।

অভিযোগপত্র অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে হস্তান্তর করে আইনি পরামর্শ চেয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। যা যাচাই-বাছাই করছে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়। 

অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় থেকে আইনি পরামর্শ পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা।

১০১ মিলিয়ন ডলারের রিজার্ভ চুরির এই ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান ছাড়াও সাবেক ডেপুটি গভর্নর আবুল কাশেম, সাবেক নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা, সাবেক নির্বাহী পরিচালক মেজবাউল হক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিস এ খান, সাবেক মহাব্যবস্থাপক এ এফ এম আসাদুজ্জামান, উপপরিচালক জোবায়ের বিন হুদার নাম রয়েছে। 

অভিযুক্ত ভারতীয়দের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন আইটি উপদেষ্টা রাকেশ আস্থানার নাম আছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অজ্ঞাতনামা হ্যাকাররা নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে ১০১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার চুরি করে। 

এর মধ্যে ৮১ মিলিয়ন ডলার ফিলিপাইনের আরসিবিসি ব্যাংকে থাকা চারটি অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয় এবং বাকি ২০ মিলিয়ন ডলার শ্রীলঙ্কার একটি ব্যাংকে পাঠানো হয়।

তবে হ্যাকারদের বানান ভুলের কারণে শ্রীলঙ্কায় ২০ মিলিয়ন ডলার স্থানান্তরের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে বাংলাদেশ ব্যাংক ফিলিপাইন থেকে প্রায় ১৫ মিলিয়ন ডলার পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়। 

এ ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন উপ-পরিচালক (হিসাব ও বাজেটিং) জোবায়ের বিন হুদা ২০১৬ সালের ১৫ মার্চ মতিঝিল থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

মামলাটি বর্তমানে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ তদন্ত করছে। গত ২১ সেপ্টেম্বর সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ বলেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির মামলায় ফিলিপাইনের আরসিবিসি ব্যাংকের ৮১ মিলিয়ন ডলার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দ্রুততম সময়ে এই অর্থ বাংলাদেশে ফেরত আনা হবে।