img

আমি কারও অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে ভাবছি না : ট্রাম্প

প্রকাশিত :  ০৭:৩৫, ১৩ মে ২০২৬

আমি কারও অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে ভাবছি না : ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করাই তার প্রধান লক্ষ্য এবং এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপ বা জনগণের আর্থিক কষ্ট তার সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে না।

গতকাল মঙ্গলবার চীন সফরে যাওয়ার আগে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ট্রাম্প। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমেরিকানদের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তাকে ইরান যুদ্ধ নিয়ে কোনো চুক্তিতে যেতে প্ররোচিত করছে না।

ট্রাম্প বলেন, আমি শুধু একটি বিষয় নিয়েই ভাবছি। ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে দেওয়া যাবে না। এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, আমি কারও অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে ভাবছি না। আমি শুধু নিশ্চিত করতে চাই, ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে।

ট্রাম্পের এই বক্তব্য নিয়ে ইতোমধ্যে সমালোচনা শুরু হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, ইরান ইস্যুতে কেবল সামরিক ও ভূ-রাজনৈতিক লক্ষ্য নয়, যুদ্ধের কারণে সাধারণ আমেরিকানদের ওপর যে অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হচ্ছে সেটিও বিবেচনায় নেওয়া উচিত।

বিশেষ করে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ইরান সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রেও গ্যাসোলিনের মূল্য বেড়েছে। এতে জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

মঙ্গলবার প্রকাশিত নতুন তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

হোয়াইট হাউসের জনসংযোগ পরিচালক স্টিভেন চং বলেন, আমেরিকানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই ট্রাম্পের প্রধান দায়িত্ব। তার মতে, ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করে, তাহলে তা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।

এদিকে রিপাবলিকান দলের ভেতরেও উদ্বেগ বাড়ছে। দলটির অনেক নেতা আশঙ্কা করছেন, দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত ও অর্থনৈতিক চাপ আগামী নভেম্বরের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

অর্থনীতি এর আরও খবর

img

রিজার্ভ চুরির অভিযোগপত্রে ড. আতিউরসহ ৬৪ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান

প্রকাশিত :  ০৮:২৪, ১৮ জুন ২০২৬

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমানসহ ৬৪ ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা পেয়েছে। খসড়া অভিযোগপত্র প্রস্তুত করে আইনি পরামর্শের জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে হস্তান্তর করেছে সিআইডি।

আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সিআইডির মুখপাত্র জসীমউদ্দিন খান জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির মামলার খসড়া অভিযোগপত্র (চার্জশিট) প্রস্তুত করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ। 

এই আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনায় দেশি-বিদেশি মোট ৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। 

প্রায় ১০ হাজার পৃষ্ঠার এই খসড়া অভিযোগপত্রটি চূড়ান্ত আইনি পরামর্শের জন্য এরই মধ্যে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সিআইডি সূত্রে আরও জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির মামলায় ১০ বছরের বেশি সময় তদন্তের পর খসড়া অভিযোগপত্র প্রস্তুত করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ। 

দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এই আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনায় করা অভিযোগপত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমানসহ বাংলাদেশের ১০ জন ও ভারত, শ্রীলঙ্কা ও চীনের নাগরিকসহ দেশি-বিদেশি ৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করা হয়েছে।

অভিযোগপত্র অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে হস্তান্তর করে আইনি পরামর্শ চেয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। যা যাচাই-বাছাই করছে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়। 

অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় থেকে আইনি পরামর্শ পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা।

১০১ মিলিয়ন ডলারের রিজার্ভ চুরির এই ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান ছাড়াও সাবেক ডেপুটি গভর্নর আবুল কাশেম, সাবেক নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা, সাবেক নির্বাহী পরিচালক মেজবাউল হক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিস এ খান, সাবেক মহাব্যবস্থাপক এ এফ এম আসাদুজ্জামান, উপপরিচালক জোবায়ের বিন হুদার নাম রয়েছে। 

অভিযুক্ত ভারতীয়দের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন আইটি উপদেষ্টা রাকেশ আস্থানার নাম আছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অজ্ঞাতনামা হ্যাকাররা নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে ১০১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার চুরি করে। 

এর মধ্যে ৮১ মিলিয়ন ডলার ফিলিপাইনের আরসিবিসি ব্যাংকে থাকা চারটি অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয় এবং বাকি ২০ মিলিয়ন ডলার শ্রীলঙ্কার একটি ব্যাংকে পাঠানো হয়।

তবে হ্যাকারদের বানান ভুলের কারণে শ্রীলঙ্কায় ২০ মিলিয়ন ডলার স্থানান্তরের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে বাংলাদেশ ব্যাংক ফিলিপাইন থেকে প্রায় ১৫ মিলিয়ন ডলার পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়। 

এ ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন উপ-পরিচালক (হিসাব ও বাজেটিং) জোবায়ের বিন হুদা ২০১৬ সালের ১৫ মার্চ মতিঝিল থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

মামলাটি বর্তমানে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ তদন্ত করছে। গত ২১ সেপ্টেম্বর সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ বলেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির মামলায় ফিলিপাইনের আরসিবিসি ব্যাংকের ৮১ মিলিয়ন ডলার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দ্রুততম সময়ে এই অর্থ বাংলাদেশে ফেরত আনা হবে।