img

চট্টগ্রামে একীভূত পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের বিক্ষোভ

প্রকাশিত :  ০৮:৫৩, ০৬ মে ২০২৬

চট্টগ্রামে একীভূত পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের বিক্ষোভ

চট্টগ্রামে একীভূত হওয়া পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীরা আমানতের টাকা ফেরত এবং ‘হেয়ার কাট’ পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে আজ বুধবার বিক্ষোভ করেছেন।

আজ বুধবার (৬ মে) সকাল ১১টা থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে তারা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন। বাংলাদেশ ব্যাংক ভুক্তভোগী আমানতকারী অ্যাসোসিয়েশন, চট্টগ্রাম বিভাগের ব্যানারে এই বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আমানতকারীরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকগুলোতে তাদের জমাকৃত অর্থ আটকে রয়েছে। প্রয়োজনের সময় টাকা তুলতে না পেরে পরিবার ও ব্যবসা পরিচালনায় চরম সংকটে পড়েছেন তারা। ঈদুল আজহা সামনে রেখে কোরবানির প্রস্তুতি নিয়েও অনিশ্চয়তায় রয়েছেন অনেক গ্রাহক।

এ সময় বিক্ষোভকারীরা ‘আমার টাকা ফেরত চাই’, ‘হেয়ার কাট মানি না’, ‘আমানত নিয়ে টালবাহানা চলবে না’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

প্রবাস ফেরত হেফাজ নামের এক বিক্ষোভকারী বলেন, ২৫ বছর সৌদি আরবে থেকে কষ্ট করে টাকা জমা রেখেছি। আজ সেই টাকা পাচ্ছি না। এক-দুই হাজার টাকা করে দিচ্ছে। আমাদের পুরো টাকা ফেরত দিতে হবে।

আন্দোলনকারীদের দাবি, আমানতের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, উত্তোলনের সীমাবদ্ধতা তুলে নিতে হবে এবং দ্রুত স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু করতে হবে। একই সঙ্গে গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ ব্যাংককে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

উল্লেখ্য, তারল্য সংকট ও অনিয়মের কারণে এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। এ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ ও খাতুনগঞ্জ এলাকাতেও আমানতকারীরা বিক্ষোভ ও ব্যাংক শাখায় তালা দেওয়ার কর্মসূচি পালন করেন।

এদিকে, আমানতকারীদের বিক্ষোভে পুলিশ বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগিয়ে যান।

img

একনেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকার পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প অনুমোদন

প্রকাশিত :  ১১:১৫, ১৩ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ২০:১২, ১৩ মে ২০২৬

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) প্রায় ৩৬ হাজার ৬৯৫ কোটি ৭২ লাখ টাকা ব্যয়ে ৯টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে। তন্মধ্যে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ‘পদ্মা ব্যারেজ’ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

আজ বুধবার (১৩ মে) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক বৈঠকে প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়। 

সরকারি সূত্রে জানানো হয়, ১৯৬০-এর দশক থেকেই ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল ও রাজশাহী অঞ্চলের নদী, কৃষি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের দাবি ওঠে। পরে ১৯৭৫ সালে ফারাক্কা বাঁধ চালুর পর পদ্মা নদীর পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় বিষয়টি আরও গুরুত্ব পায়।

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিএনপি। সরকার গঠনের পর সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে এই অনুমোদনকে।

বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী জানান, সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে প্রাথমিকভাবে পাঁচ বছর মেয়াদি এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের ২৪টি জেলার প্রায় সাত কোটি মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে।

ভারতের সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, পদ্মা ব্যারেজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তবে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কমিশন কাজ করছে।

মন্ত্রী আরও জানান, আগামী বাজেট ঘোষণার পরই পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।