img

পুঁজিবাজারে সতর্ক সূচনা হতে পারে রোববার

প্রকাশিত :  ১১:১২, ০২ মে ২০২৬

পুঁজিবাজারে সতর্ক সূচনা হতে পারে রোববার

ঢাকা, ২ মে ২০২৬: টানা কয়েক বছর নিম্নমুখী প্রবণতার পরেও আস্থার ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে পারেনি দেশের পুঁজিবাজার। এমন প্রেক্ষাপটে আগামীকাল রোববার (৩ মে) সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন শুরুর আগে বাজারে সতর্ক অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছেন বিশ্লেষকেরা। সর্বশেষ কার্যদিবস ৩০ এপ্রিল ডিএসইর ব্রড ইনডেক্স দাঁড়িয়েছিল ৫,২৮৬.৮৮ পয়েন্টে।

বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, রোববারের লেনদেন প্রধানত তিনটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করবে। প্রথমত, গত সপ্তাহের শেষদিকে দেখা দেওয়া মুনাফা তোলার প্রবণতা (প্রফিট বুকিং) অব্যাহত থাকতে পারে। দ্বিতীয়ত, ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার ১০ শতাংশের ওপরে অবস্থান করায় প্রাতিষ্ঠানিক বড় বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ ইক্যুইটি বাজার থেকে সরে যাচ্ছে। তৃতীয়ত, জ্বালানি সংকট ও সম্ভাব্য লোডশেডিংয়ের প্রভাব উৎপাদননির্ভর বড় কোম্পানির শেয়ারে বিক্রয়চাপ বাড়াতে পারে।

খাতভিত্তিক চিত্রে ব্যাংকিং খাত তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যমুনা ব্যাংক ও ব্র্যাক ব্যাংকের সম্ভাব্য ভালো লভ্যাংশ ঘোষণার প্রত্যাশা এ খাতে আস্থার কিছুটা সঞ্চার করতে পারে। বিপরীতে, জ্বালানি ঘাটতির আশঙ্কায় সিমেন্ট ও টেক্সটাইল খাত চাপের মুখে পড়তে পারে।

বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, রোববারের সেশনে বাজার ‘সতর্ক মোডে’ থাকার সম্ভাবনা প্রায় ৯৫ শতাংশ। দিনশেষে সূচকে ২০ থেকে ৩০ পয়েন্ট পর্যন্ত সংশোধন দেখা যেতে পারে। একই সঙ্গে লেনদেনের পরিমাণ ৭০০ থেকে ৮৫০ কোটি টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

দীর্ঘমেয়াদে বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা। চলতি প্রান্তিক শেষে ডিএসই সূচক ৭,২৩৪ পয়েন্টে পৌঁছানোর লক্ষ্য থাকলেও স্বল্পমেয়াদে অস্থিরতা কাটতে সময় লাগবে বলে তাদের মত। এ পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের জন্য পরামর্শ—ঝুঁকিপূর্ণ বা পেনাল্টি শেয়ার এড়িয়ে মৌলভিত্তি শক্তিশালী এবং নিয়মিত লভ্যাংশ দেয় এমন কোম্পানিতে বিনিয়োগে মনোযোগ দেওয়া।

অর্থনীতির সামগ্রিক প্রেক্ষাপটও বাজারে প্রভাব ফেলছে। নতুন সরকারের সংস্কার উদ্যোগ, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিবেশ অনুকূলে থাকলেই পুঁজিবাজারে টেকসই ইতিবাচক ধারা ফিরে আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অর্থনীতি এর আরও খবর

img

একীভূত পাঁচ ব্যাংকের ক্ষেত্রে নতুন সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের

প্রকাশিত :  ০৫:৫৭, ০২ মে ২০২৬

দেশের একীভূত পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকে অন্যান্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিপুল পরিমাণ অর্থ আটকে রয়েছে, যা এই খাতে চাপ তৈরি করেছে। সে চাপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তা হলো আটকে থাকা এসব অর্থের বিপরীতে প্রভিশন বা নিরাপত্তা সঞ্চিতি রাখার বাধ্যবাধকতা তুলে দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে । এতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো আপাতত অতিরিক্ত আর্থিক চাপ থেকে কিছুটা স্বস্তি পাবে।

একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলো হলো- ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী, ইউনিয়ন, সোশ্যাল ইসলামী ও এক্সিম ব্যাংক। আর্থিক সংকটের কারণে এসব ব্যাংককে একীভূত করে একটি কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, অনেক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকের আমানত একীভূত ব্যাংকে রয়েছে। এসব অর্থ সেসব প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ, তাই এসব বিনিয়োগের বিপরীতে প্রভিশন রাখার বাধ্যবাধকতা তুলে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। 

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, এই পাঁচ ব্যাংকের কাছে অন্যান্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ১৫ হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থ আটকে ছিল। এর মধ্যে একটি ইসলামী ব্যাংকেরই প্রায় ৮ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা। তা থেকে আংশিক ফেরত মিললেও এখনো প্রায় ৮ হাজার ২৭৯ কোটি টাকা আটকে রয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেন, শুরুতে ব্যাংক সুপারভিশন বিভাগ (বিএসডি) ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগ (ডিএফআইএম) থেকে আটকে থাকা অর্থের বিপরীতে প্রভিশন রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তবে পরে ব্যাংক রেজোল্যুশন বিভাগ (বিআরডি) জানায়, এ ধরনের অর্থের ক্ষেত্রে প্রভিশন রাখার প্রয়োজন নেই।

আটকে থাকা অর্থ একটি বিশেষ স্কিমের আওতায় রয়েছে জানিয়ে ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো হয় সরাসরি অর্থ ফেরত পাবে, নয়তো দীর্ঘমেয়াদি আমানত (এফডিআর) বা শেয়ারের মাধ্যমে সমপরিমাণ মূল্য পাবে। ফলে অর্থ পুরোপুরি ক্ষতির মুখে পড়ার ঝুঁকিতে নেই।

এ বিষয়ে খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের এ সিদ্ধান্তে স্বল্প মেয়াদে চাপ কমলেও দীর্ঘ মেয়াদে আটকে থাকা অর্থ পুরোপুরি আদায় করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেই রয়ে গেছে।