১৩২ টাকা বাড়ানোর পর জেট ফুয়েলের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত
প্রকাশিত :
১২:২৫, ০৭ মে ২০২৬
জেট ফুয়েলের দাম তিন দফায় টানা ১৩২ টাকা বাড়ানোর পর প্রায় ২২ টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অভ্যন্তরীণ রুটে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ২০৫ টাকা ৪৫ পয়সা পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে। আগে এই দাম ছিল ২২৭ টাকা ০৮ পয়সা।
আজ বৃহস্পতিবার (৭ মে) এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ১ দশমিক ৪৮০৬ থেকে কমিয়ে ১ দশমিক ৩৩৮৫ মার্কিন ডলার করা হয়েছে।
দাম কমানোর এই সিদ্ধান্ত ৭ মে রাত থেকে কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছে বিইআরসি।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ৯৪ টাকা ৯৩ পয়সা ছিল। ফেব্রুয়ারি মাসে ১৯ পয়সা বাড়িয়ে লিটারপ্রতি দাম নির্ধারণ করা হয় ৯৫ টাকা ১২ পয়সা।
ফেব্রুয়ারির শেষভাগ থেকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত শুরু হলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে মার্চ মাসে। প্রথম দফায় ৯৫ টাকা ১২ পয়সা থেকে একলাফে দাম বাড়িয়ে ১১২ টাকা ৪১ পয়সা করা হয়।
পরিস্থিতি আরও জটিল হলে ২৪ মার্চ মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিতীয় দফায় দাম বাড়িয়ে ২০২ টাকা ২৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়। সর্বশেষ এপ্রিলে তা আরও বেড়ে ২২৭ টাকা ৮ পয়সায় পৌঁছায়।
বাংলাদেশকে ১১০ কোটি ডলার জরুরি সহায়তা দেবে বিশ্বব্যাংক
প্রকাশিত :
০৯:৪৮, ২৭ জুন ২০২৬
বৈশ্বিক সার ও জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার প্রভাব মোকাবিলা, খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার এবং মানুষের জীবিকা সুরক্ষায় বাংলাদেশকে জরুরি সহায়তা হিসেবে প্রায় ১ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, অর্থাৎ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। শুক্রবার (২৬ জুন) পৃথক দুটি প্রকল্পের আওতায় এই বিপুল অর্থায়নের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে খাদ্য, সার ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে সীমিত আর্থিক সক্ষমতার কারণে বাংলাদেশের ক্ষুদ্র কৃষক, দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন। এই ধাক্কা সামাল দিতেই এই বিশেষ ঋণ সহায়তার হাত বাড়িয়েছে সংস্থাটি।
বাংলাদেশ ও ভুটানের জন্য বিশ্বব্যাংকের বিভাগীয় পরিচালক জ্যাঁ পেসমে বলেন, “এই সহায়তার মাধ্যমে ধান উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সারের সরবরাহ নিশ্চিত করা, মানুষের জীবিকা ও কর্মসংস্থান রক্ষা এবং জরুরি জনসেবা অব্যাহত রাখতে বড় ভূমিকা রাখা হবে।”
‘ইমার্জেন্সি সাপোর্ট ফর ফুড সিকিউরিটি প্রজেক্ট’-এর আওতায় এই অর্থ ব্যয় করা হবে। এ দিয়ে ২০২৬ সালের জুলাই-অক্টোবরের আমন মৌসুম এবং ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বোরো মৌসুমে প্রয়োজনীয় সার আমদানি করা হবে।
বাংলাদেশের মোট সারের চাহিদার ৮৫ শতাংশেরও বেশি আমদানিনির্ভর। এই প্রকল্পের আওতায় ৬ লাখ মেট্রিক টন গুরুত্বপূর্ণ সার আমদানি করা হবে, যার অর্ধেকই ইউরিয়া। এর ফলে দেশের প্রায় ১৪ লাখ হেক্টর জমিতে ক্ষুদ্র কৃষকদের ধান উৎপাদন নিরবচ্ছিন্ন রাখা সম্ভব হবে।
বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ সুলেমান কৌলিবালি বলেন, দেশের মোট ধান উৎপাদনের প্রায় ৯০ শতাংশ আসে আমন ও বোরো থেকে। দেশের অর্ধেক মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় সারের অভাব খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য পরিস্থিতির ওপর মারাত্মক আঘাত হানত।
‘কনটিনজেন্ট ইমার্জেন্সি রেসপন্স প্রজেক্ট’-এর আওতায় এই বড় তহবিলটি দ্রুত ছাড় করা হবে। এর সিংহভাগ ব্যয় হবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের নগদ সহায়তা এবং জীবিকা পুনরুদ্ধার কর্মসূচিতে। বাকি অংশ খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহের মতো জরুরি সেবা সচল রাখতে জ্বালানি খাতে ব্যয় করা হবে। চলতি ৩০ জুনের মধ্যেই এই অর্থ ছাড় করার কথা রয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ লেসলি জিন ইউ করদেরো জানান, বিদ্যমান প্রকল্পগুলোর অব্যবহৃত অর্থ পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে এই জরুরি তহবিল তৈরি করা হয়েছে। ফলে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এড়িয়ে মানুষ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও কর্মসংস্থানকে অর্থনৈতিক ধাক্কা থেকে দ্রুত সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে।