img

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা নিয়ে হাইকোর্টের রায় আপিল বিভাগে স্থগিত

প্রকাশিত :  ০৭:৫৭, ০৯ জুন ২০২৬

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা নিয়ে হাইকোর্টের রায় আপিল বিভাগে স্থগিত

সুপ্রিম কোর্টের জন্য তিন মাসের মধ্যে পৃথক স্বাধীন সচিবালয় করার নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের রায় স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনানির জন্য আগামী ১৬ জুন নির্ধারণ করেছেন আদালত। আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হাইকোর্টের রায় স্থগিত থাকবে।

আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। অপরপক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।

এর আগে সকালে তিন মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক স্বাধীন সচিবালয় করার নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি শুরু হয়।

গত ২১ মে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ।

গত ৭ এপ্রিল ১৮৫ পৃষ্ঠার হাইকোর্টের রায় প্রকাশ করা হয়। এর আগে ২ সেপ্টেম্বর বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর বেঞ্চ এই রায় দেন।

রায়ে অধস্তন আদালতের দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতিদান ও ছুটি মঞ্জুরিসহ) শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির-সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের এমন বিধান বাতিল করেন হাইকোর্ট। ফলে অধস্তন আদালতের দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ, শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত হলো। একইসঙ্গে অধস্তন আদালতের জন্য ২০১৭ সালে করা শৃঙ্খলাবিধি বাতিল করা হয়েছে।

আদালতে রিটকারীদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। অ্যামিকাস কিউরি ছিলেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট শরীফ ভূঁইয়া। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।

২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ, ২০১৭ সালের জুডিসিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এবং বিচার বিভাগীয় পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশনা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের সাত আইনজীবী রিটটি করেন। পরে একই বছরের ২৭ অক্টোবর হাইকোর্ট ‍রুল জারি করেন।

সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিচার-কর্ম বিভাগে নিযুক্ত ব্যক্তিদের এবং বিচার বিভাগীয় দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল-নির্ধারণ, পদোন্নতি ও ছুটি মঞ্জুরিসহ) ও শৃঙ্খলা বিধান রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত। সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি তা প্রয়োগ করে থাকেন।

রিটকারীদের আইনজীবীর মতে, ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অধস্তন আদালতের দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতিদান ও ছুটি মঞ্জুরিসহ) শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত রয়েছে।

একই অনুচ্ছেদ রাষ্ট্রপতি এ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করবেন বলে উল্লেখ রয়েছে। মূলত রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত এ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের সরাসরি হস্তক্ষেপ দেখা যায়, যা বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে খর্ব করে।

১৯৭২ সালের সংবিধানে অধস্তন আদালতের দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতিদান ও ছুটি মঞ্জুরিসহ) শৃঙ্খলা বিধানের এ দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত ছিল।

১৯৭৪ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতিদান ও ছুটি মঞ্জুরিসহ) শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত করা হয়। পরে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে এবং ‘সুপ্রিমকোর্টের সহিত পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক তাহা প্রযুক্ত হইবে’ শব্দগুলো সন্নিবেশিত করা হয়।

এরপর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ পঞ্চম সংশোধনী আইন অসাংবিধানিক মর্মে ঘোষণা করলে পঞ্চদশ সংশোধন আইন, ২০১১ এর মাধ্যমে ১১৬ অনুচ্ছেদের বর্তমান একই বিধানটি প্রতিস্থাপন করা হয়। বর্তমানে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদে এ বিধানটিই বিদ্যমান রয়েছে।


জাতীয় এর আরও খবর

img

‘টিআইবির প্রতিবেদনকে পত্রিকার কাটিং–নির্ভর বলার ভিত্তি নেই'

প্রকাশিত :  ১৮:৩১, ০৯ জুন ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৮:৩৫, ০৯ জুন ২০২৬

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সংসদ ও পুলিশের প্রতিক্রিয়ায় টিআইবির ব্যাখ্যা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী সরকারের প্রথম ১০০ দিন নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে আলোচনা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য এবং পুলিশ কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়ার জবাব দিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

সংস্থাটি বলেছে, তাদের গবেষণা কোনোভাবেই শুধু পত্রিকার কাটিংয়ের ওপর নির্ভর করে তৈরি করা হয়নি; বরং স্বীকৃত সামাজিক বিজ্ঞান গবেষণা পদ্ধতি অনুসরণ করে বিভিন্ন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ, যাচাই ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রতিবেদন প্রণয়ন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (০৯ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে টিআইবি জানায়, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সরকারের ১০০ দিন : সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতিবিরোধী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক প্রতিবেদন নিয়ে বিভিন্ন মহলে যে আলোচনা হয়েছে, তা সংস্থাটিকে অনুপ্রাণিত করেছে।

টিআইবির মতে, এ ধরনের প্রতিক্রিয়া তাদের গবেষণা ও জনস্বার্থভিত্তিক কার্যক্রমকে আরও ফলপ্রসূ করতে সহায়তা করবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যথার্থই উল্লেখ করেছেন, টিআইবি কোনো তদন্ত সংস্থা নয়। সংস্থাটি মূলত গবেষণাভিত্তিক দুর্নীতিবিরোধী ও সুশাসনসংক্রান্ত কাজ করে থাকে। সামাজিক বিজ্ঞান গবেষণার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত গুণগত ও পরিমাণগত পদ্ধতি অনুসরণ করে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদনে ব্যবহৃত তথ্যের উৎস প্রসঙ্গে টিআইবি জানায়, বাংলাদেশ পুলিশ এবং ৩টি সুপরিচিত মানবাধিকার সংগঠন থেকে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এসব তথ্যসূত্র প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। ফলে প্রতিবেদনটি কেবল পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ কাটিংয়ের ওপর নির্ভরশীল এমন মন্তব্যের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই বলে দাবি সংস্থাটির।

টিআইবি আরও বলেছে, গবেষণার প্রয়োজনে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য সংগ্রহ করা হলেও তা সরাসরি ব্যবহার করা হয় না। সংশ্লিষ্ট সরকারি, বেসরকারি এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ বিভিন্ন উৎস থেকে সংগৃহীত তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই-বাছাই শেষে সেগুলো বিশ্লেষণে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তাই প্রতিবেদনকে ঢালাওভাবে ‘পত্রিকার কাটিংনির্ভর’ বলে আখ্যা দেওয়া মূল বিষয়কে এড়িয়ে যাওয়ার একটি অযৌক্তিক প্রচেষ্টা।

বিবৃতিতে প্রশ্ন তুলে বলা হয়, দেশের জনপ্রতিনিধি, সরকার ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং নিজেদের কার্যক্রম প্রচারের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ওপর নির্ভর করে। সে বিবেচনায় গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যকে সামগ্রিকভাবে অবমূল্যায়নের কোনো সুযোগ নেই।

পুলিশের প্রতিক্রিয়ার প্রসঙ্গ টেনে টিআইবি বলেছে, পুলিশ কর্তৃপক্ষ সংবাদ সম্মেলনে তাদের মূল পর্যবেক্ষণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক-এসব বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেনি। তবে অতীত সরকারের মেয়াদের সঙ্গে তুলনামূলক বিশ্লেষণের যে প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে, তা উক্ত গবেষণার পরিধির বাইরে। ফলে সে বিষয়ে মন্তব্য করা টিআইবির জন্য যৌক্তিক নয় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে বিবৃতিতে।


জাতীয় এর আরও খবর