img

মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন

প্রকাশিত :  ০৭:৪৪, ১১ জুন ২০২৬

মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন

জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

এতে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ মন্ত্রিপরিষদের অন্য সদস্যরা অংশ নেন।

অনুমোদিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বিকেলে জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

আসন্ন ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। 

এর বিপরীতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ব্যবধান দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। বাজেটের বিশাল এই ঘাটতি পূরণে সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক-দুই উৎস থেকেই অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে।

প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। 

এর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নেওয়া হবে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকার অর্থ সংগ্রহ করা হবে।

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে এই বাজেট প্রস্তাব পেশ করা হবে। এটি দেশের ৫৫তম বাজেট। এছাড়া বর্তমান সরকারের মেয়াদে অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটি আমির খসরুর প্রথম বাজেট উপস্থাপন।

নিয়ম অনুযায়ী, সংসদে উপস্থাপনের আগে বাজেটটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হবে এবং পরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এতে সম্মতি জানিয়ে সই করবেন। ১ জুলাই থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে নতুন এই অর্থবছর।


 


 

জাতীয় এর আরও খবর

img

সেই মাহদীকে মারধর, ছাত্রদলের বিরুদ্ধে অভিযোগ

প্রকাশিত :  ১২:৪৫, ১১ জুন ২০২৬

ধাওয়া খেয়ে থানায় আশ্রয় নেওয়া হবিগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা শাখার সদস্যসচিব ও সাবেক সমন্বয়ক মাহাদী হাসান মারধরের শিকার হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে তেকে মাধর করা হয়। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাকে মারধর করেছে বলে অভিযোগ মাহদীর।

আগের দিনের ধাওয়ার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করতেই বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে গিয়েছিলেন বলে জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার দুপুরে মাহদী হাসানের ফেসুক পেজ থেকে লাইভ ভিডিওতে এই হামলা ও মারধরের অভিযোগ করা হয়। ভিডিওতে মাহদীর পাঞ্জাবি ছেঁড়া অবস্থায় দেখা যায়। এছাড়া তাকে কান্না করতে দেখা যায়।

ভিডিওতে একজন অভিযোগ করে বলেন, বুধবার ছাত্রদল নেতাকর্মীরা মাহদীকে ধাওয়া করে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সিসিটিভি ঢুটেজে এ দৃশ্যধরা পড়েছে। সেই ফুটেজ সংগ্রহের জন্য বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে তথ্য অধিকারে আবেদন করেন। এই আবেদন করে বের হওয়ার পরই তাকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলা করে।

ভিডিওতে জানানো হয়, হামলায় আহত মাহদীকে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

তবে হামলার কোন অভিযোগ এখন পর্যন্ত পাননি বলে জানিয়েছেন হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদ হোসেন।

হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমদ রিঙ্গনের দাবি, ছাত্রদলের কেউ হামলা চালায়নি।

এর আগে বুধবার ছাত্রদলের কর্মীরা ধাওয়া করছে অভিযোগ করে মাহাদী নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লাইভ করেন। এ সময় দেখা যায়, তিনি আতঙ্কে কাঁপছেন।

প্রাণ বাঁচাতে আরেকজনকে সঙ্গে নিয়ে রিকশায় করে ছুটছেন হবিগঞ্জ সদর থানার দিকে। লাইভের শেষ দিকে তিনি থানা কমপাউন্ডের ভেতরে ঢুকে পুলিশের কাছে সাহায্যের আবেদন জানান।

বুধবার (১০ জুন) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লাইভে এসে তিনি অভিযোগ করেন, ব্যক্তিগত মত প্রকাশের জেরে ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মী তাকে ধাওয়া করে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন এবং প্রাণভয়ে তিনি পুলিশের কাছে গিয়েছেন।

এ সময় তিনি প্রশ্ন তোলেন, ভিন্নমত বা ব্যক্তিগত মতামত দেওয়ার অধিকার তাঁর নেই কি না। প্রাণ রক্ষার্থে তিনি দৌড়ে ও রিকশায় চড়ে হবিগঞ্জ সদর থানায় প্রবেশ করেন এবং ডিউটি অফিসারের রুমে আশ্রয় নেন।

মাহাদী হাসান বলেন, ‘ছাত্রদল আমার ওপর সামনে এসে অ্যাটাক করতে আসতেছে। আমার কি পারসোনাল কোনো মতামত দেওয়ার অধিকার নাই? ছাত্রদলের লোকজন আমার পেছনে ধাওয়া দিচ্ছে। আমার কি পারসোনাল অধিকার নাই?’

লাইভের শেষাংশে তিনি জানান, তিনি থানার ডিউটি অফিসারের কক্ষে অবস্থান করছেন। মাহাদীর দাবি, একটি ড্রাইভিং পরীক্ষায় অংশ নিতে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। নিরাপত্তা নিয়ে আগেই সংশ্লিষ্টদের অবহিত করেছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মাহাদী আরও দাবি করেন, তিনি আগে থেকেই সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়টি জানিয়েছিলেন এবং পরীক্ষা দিতে কোনো সমস্যা হবে না বলে আশ্বাসও পেয়েছিলেন। কিন্তু ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি ভিন্ন রূপ নেয়।

এ বিষয়ে হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদ হোসেন বুধবার জানান, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে নিয়ে মাহাদী হাসানের কিছু মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার বিরোধের তথ্য তারা জেনেছেন।

তবে হামলার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা যে ভিডিওটি দেখেছি, সেখানে ছাত্রদলের কাউকে শনাক্ত করা যায়নি। মাহাদীও নির্দিষ্ট করে কাউকে দেখাতে পারেননি।’

জাহিদ হোসেন জানান, মাহদী হাসান মৌখিকভাবে অভিযোগ দিয়েছেন এবং বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে ভিডিওতে নির্দিষ্ট কোনো হামলাকারীকে শনাক্ত করা যায়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, গত ১ জানুয়ারি হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানায় এনামুল হাসান নয়ন নামে এক তরুণকে আটক করা হলে তিনি সেখানে যান। এ সময় ‘বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে কিন্তু জ্বালাই দিয়েছিলাম’– এমন বক্তব্য দিয়ে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।

ওইদিনের একটি ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা জুলাই আন্দোলনকারীরা সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়েছি। আপনি প্রশাসনের লোক হয়ে আমাদের ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছেন। হবিগঞ্জে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন হয়েছিল, এখানে ১০ জন নিহত হয়েছেন। বানিয়াচং থানা আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে আমরা আগুনে জ্বালিয়ে দিয়েছিলাম। আমাদের এতগুলো ছেলে কি এমনি এমনি ভেসে এসেছে?’

ঘটনাটি ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিলে পরদিন ৩ জানুয়ারি পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে সমর্থকদের বিক্ষোভের মুখে ৪ জানুয়ারি আদালত থেকে জামিন পান তিনি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের দিন বানিয়াচং থানায় হামলা, অগ্নিসংযোগ ও অস্ত্র লুটের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় পুলিশ সদস্যদের অবরুদ্ধ করা হয়। উদ্ধার অভিযানের সময় উপপরিদর্শক (এসআই) সন্তোষ চৌধুরীকে ছিনিয়ে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন থানার সামনে একটি গাছে তার মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। সেই ঘটনাকে ঘিরেই মাহাদীর জানুয়ারির বক্তব্য নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।

জাতীয় এর আরও খবর