হাম ও হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, বাড়ছে সংক্রমণ
প্রকাশিত :
১৪:৩৮, ১৯ জুন ২০২৬
হাম ও হামের উপসর্গে সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৭৮ জন। আর ১৫ মার্চ থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯০ হাজার ৯৮২ জনে।
একই সময়ে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ৯৬ জন এবং ১৫ মার্চ থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত মোট নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা ১০ হাজার ৮৬৯ জন বলে জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ১৫ মার্চ থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭৫ হাজার ১৫৬ জন এবং এর মধ্যে ৭১ হাজার ৩৯৬ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।
এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম উপসর্গে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত এ ধরনের উপসর্গে মোট মৃত্যু হয়েছে ৫৭৭ জন শিশুর।
অন্যদিকে, একই সময়ে নিশ্চিত হাম রোগে ৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আগামী ৫ দিন দমকা হাওয়া, বজ্রপাত ও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময়ে কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণ হতে পারে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
পূর্বাভাসে বলা হয়, শনিবার (২০ জুন) রংপুর, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা ও বুলনা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। রোববার (২১ জুন) রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। শনি ও রোববার সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
সোমবার (২২ জুন) ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এদিন সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। বুধবার (২৪ জুন) রংপুর, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। মঙ্গল ও বুধবার সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, শনি-বুধবার পর্যন্ত দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। পরবর্তী বর্ধিত পাঁচ দিনেও বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।
আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থায় বলা হয়, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরের অন্যত্র দুর্বল থেকে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।
শুক্রবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল খুলনায় ৩৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে গোপালগঞ্জে ২২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সর্বোচ্চ ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ খোন্দকার হাফিজুর রহমান কালবেলাকে বলেন, ‘সক্রিয় দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে রোববার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।
সাধারণত ২৪ ঘণ্টায় ১১-২২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হলে তাকে মাঝারি, ২৩-৪৩ মিলিমিটার হলে তাকে মাঝারি-ভারী, ৪৪-৮৮ মিলিমিটার হলে ভারী এবং ৮৮ মিলিমিটারের বেশি হলে তাকে অতিভারী বৃষ্টিপাত বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর।