img

বাংলাদেশে একদলীয় শাসন কায়েম করার চেষ্টা করা হচ্ছে: জামায়াত আমির

প্রকাশিত :  ১৪:৫০, ১৯ জুন ২০২৬

বাংলাদেশে একদলীয় শাসন কায়েম করার চেষ্টা করা হচ্ছে: জামায়াত আমির

দেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি দাবি করেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি সেই দিকেই অগ্রসর হচ্ছে।

আজ শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জের মাসদাইরে কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন।

সরকার ইতোমধ্যে অনেক অঘটন ঘটিয়ে ফেলেছে মন্তব্য করে জামায়াত আমির বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ; ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকের দিকে কালো হাত; বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগ্য ভিসিদের সরিয়ে দিয়ে দলের একান্ত অনুগত দলের কর্মীদেরকে ভিসি হিসেবে বসিয়ে দেওয়া; জেলা পরিষদের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নিজেদের দলীয় ক্যাডার এবং নেতাদেরকে প্রশাসক হিসেবে বসিয়ে দেওয়া; এইভাবে একটা দলীয় শাসন—একদলীয় শাসন বাংলাদেশে কায়েম করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

ইতিহাস ভুলে গেলে হবে না- জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শেখ মুজিবুর রহমান সাহেব একদলীয় বাকশাল কায়েম করেছিলেন। অর্ধবছরও ক্ষমতায় রাখতে পারেননি এরপরে। সুতরাং একদলীয় শাসন দেশের মানুষ মেনে নেবে না।’

জামায়াত আমির আরও বলেন, ‘সংসদে দাঁড়িয়ে বিরোধী দলকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করার এই সংস্কৃতি চালু করেছিল আওয়ামী লীগ। সবচেয়ে বেশি গালি দিতো বিএনপিকে। সাথে সাথে আমাদেরকেও একটু রাখতো, ছাড় দিত না। এখন বিএনপিও ওই পুরোনো আওয়ামী লীগ যা বলতো, সেই পুরোনো আমলের কথাগুলো এখন তারাও জপা শুরু করেছে। যে কথাগুলো জপতে জপতে আওয়ামী লীগ গিয়ে পড়েছে দিল্লিতে, আপনারা সেই কথাগুলো জপতে জপতে কোথায় গিয়ে পড়বেন?’

প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘একটা বড় বাজেট দেওয়া হয়েছে। অসুবিধা নাই, বাজেট দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের, বাস্তবায়ন করার দায়িত্বও সরকারের। শুধু এতটুকু বলবো, গত সাড়ে ১৫ বছরে এই বাজেট থেকে যেভাবে আওয়ামী লীগ আর তার দোসর ২৯ লাখ কোটি টাকা চুরি করে নিয়ে গিয়েছিল, সেই পথে আপনারা হাঁটবেন না। তবে কীভাবে আস্থা রাখব? কারণ সরকার গঠন করার আগে এবং পরে আপনারা তো চাঁদাবাজদের হাত আটকাতে পারেন নাই! একটা চাঁদাবাজকে আপনারা শাস্তির আওতায় আনেন নাই। ঘুষ-দুর্নীতি বন্ধ করেন নাই, বরং তার মিটার আগের থেকে বেড়ে গেছে। যদি এই অবস্থা জারি থাকে, তাহলে জনগণ জনগণের জায়গায় তার ভাগ্য নিয়ে হুমড়ি খাবে। আর কিছু দল, দলকানা কিছু মানুষ এবং কিছু গোষ্ঠীর হয়তো ভাগ্যের পরিবর্তন হবে। বাংলাদেশ আর এটা দেখতে চায় না।’

জুলাই যোদ্ধাদের অবদান খাটো করে না দেখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘২০২৬ সালে বাংলাদেশে কোন নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল না। সুতরাং, তাদের রক্ত ও ত্যাগের কারণে আজকের এই সংসদ, সরকার, বিরোধী দল।’

নারায়ণগঞ্জবাসীকে অভিনন্দন জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘বিগত নির্বাচনে হাজার জাল-জালিয়াতি, সন্ত্রাস, কালো টাকার ছড়াছড়ি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, হাজার জাতের মেকানিজম-ইঞ্জিনিয়ারিং, সব কিছুকে উপেক্ষা করে আপনারা ১১ দলীয় ঐক্যকে একটি আসন কমপক্ষে আপনারা উপহার দিতে পেরেছেন।’


জাতীয় এর আরও খবর

img

দেশজুড়ে বজ্রবৃষ্টির দাপট থাকবে আরও ৫ দিন

প্রকাশিত :  ১৭:২২, ১৯ জুন ২০২৬

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আগামী ৫ দিন দমকা হাওয়া, বজ্রপাত ও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময়ে কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণ হতে পারে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

পূর্বাভাসে বলা হয়, শনিবার (২০ জুন) রংপুর, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা ও বুলনা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। রোববার (২১ জুন) রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। শনি ও রোববার সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

সোমবার (২২ জুন) ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এদিন সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। বুধবার (২৪ জুন) রংপুর, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। মঙ্গল ও বুধবার সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, শনি-বুধবার পর্যন্ত দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। পরবর্তী বর্ধিত পাঁচ দিনেও বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।

আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থায় বলা হয়, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরের অন্যত্র দুর্বল থেকে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।

শুক্রবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল খুলনায় ৩৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে গোপালগঞ্জে ২২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সর্বোচ্চ ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ খোন্দকার হাফিজুর রহমান কালবেলাকে বলেন, ‘সক্রিয় দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে রোববার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।

সাধারণত ২৪ ঘণ্টায় ১১-২২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হলে তাকে মাঝারি, ২৩-৪৩ মিলিমিটার হলে তাকে মাঝারি-ভারী, ৪৪-৮৮ মিলিমিটার হলে ভারী এবং ৮৮ মিলিমিটারের বেশি হলে তাকে অতিভারী বৃষ্টিপাত বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর।


জাতীয় এর আরও খবর