img

সাতক্ষীরায় ৭৩ কোটি ৭৫ লক্ষাধিক টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ধ্বংস করলো বিজিবি

প্রকাশিত :  ১০:৪৪, ২৮ জুন ২০২৬

সাতক্ষীরায় ৭৩ কোটি ৭৫ লক্ষাধিক টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ধ্বংস করলো বিজিবি

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি) কর্তৃক দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তে পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে জব্দকৃত প্রায় ৭৩ কোটি ৭৫ লক্ষাধিক টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য আনুষ্ঠানিকভাবে ধ্বংস করা হয়েছে।

অদ্য (২৮ জুন) সকাল ১১:৩০ ঘটিকায় সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে আয়োজিত \"মাদকদ্রব্য ধ্বংসকরণ অনুষ্ঠান-২০২৬\"-এ এ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজিবি দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান, পিবিজিএম, বিপিএম (সেবা), বিজিওএম, পিএসসি।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন। পরবর্তীতে প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। সীমান্তে বিজিবির সদস্যরা দিন-রাত নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। তিনি আরও বলেন, মাদক একটি বহুমাত্রিক সামাজিক সমস্যা, যা মোকাবিলায় শুধু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়; বরং সর্বস্তরের জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সচেতনতা অপরিহার্য। তিনি মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

প্রধান অতিথি সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়নের সদস্যদের দক্ষতা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং নিজ হাতে মাদকদ্রব্য ধ্বংস কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন কর্তৃক ২০২৫ সালের ০১ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ৩,৭৯১ বোতল বিভিন্ন প্রকার মদ, ৪,৫২৪ বোতল ফেনসিডিল ও সমজাতীয় মাদক, ৪৭,২৭০ পিস ইয়াবা, ৬,০৭,৭৬৯ পিস বিড়ি ও সিগারেট, ৩৩.৪০০ কেজি গাঁজা, ৬৩,১৩,১২০ পিস বিভিন্ন প্রকার অবৈধ ঔষধ, ৩৫ কেজি তামাকের গুঁড়া, ২ বোতল লিকুইড সীসা এবং মাদক তৈরিতে ব্যবহৃত ১০০ কেজি বট পাতা, ৭২.৫০ মিলিলিটার উচ্চমূল্যের মাদক এলএসডি, ৮.৫৮৩ কেজি ক্রিস্টাল মেথ (আইস/আইস মেথ) এবং আফিম তৈরির কেমিক্যাল ২০ বোতল ধ্বংস করা হয়। উল্লেখ্য, সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন সদর ও অধীনস্থ বিওপি কর্তৃক দায়িত্বপূর্ণ সাতক্ষীরা সদর ও কলারোয়া সীমান্ত এলাকায় বিগত ২০২৫ সালের ০১ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে ১২৬ কোটি ৬৬ লক্ষ ৩৬ হাজার ৮৫৬ টাকা মূল্যের বিভিন্ন চোরাচালান পণ্যসহ এর সাথে জড়িত ৪৮ জন ব্যক্তিকে আটক করেছে। এর মধ্যে ৭৩ কোটি ৭৫ লক্ষাধিক টাকা মূল্যের বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়। 

অনুষ্ঠানে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বিজিবি খুলনা সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার, সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক, বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট,র‍্যাব-৬ এর কোম্পানী কমান্ডার,  মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক, পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা, কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের কর্মকর্তা এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকগণ। উপস্থিত সকলেই মাদকের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। 

জাতীয় এর আরও খবর

img

কক্সবাজার-মিয়ানমার সীমান্তে ৪.৪ মাত্রার ভূমিকম্প

প্রকাশিত :  ১৭:৪৯, ২৮ জুন ২০২৬

কক্সবাজারসহ দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় রোববার রাতে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। রাত পৌনে ১০টার দিকে এ কম্পন টের পাওয়া যায়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোথাও কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি।

ইউরোপিয়ান-মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টারের (ইএমএসসি) তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৪ দশমিক ৪। এর উৎপত্তিস্থল ছিল কক্সবাজার-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কক্সবাজার ছাড়াও চট্টগ্রাম বিভাগের কয়েকটি জেলা এবং দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হয়। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হালকা কম্পন অনুভবের কথা জানিয়েছেন। 

সাম্প্রতিক সময়ে দেশে একের পর এক মৃদু ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত ২২ জুন রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় ৪ দশমিক ৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ওই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর রূপগঞ্জ-সংলগ্ন এলাকা। কম্পনটি ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও আশপাশের কয়েকটি জেলায় অনুভূত হলেও কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

এর আগে ১২ জুন সিলেট-ভারত সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় ৪ দশমিক ৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ওই কম্পন দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল। একই মাসের ৭ জুন ভুটানের পুনাখা অঞ্চলে উৎপন্ন ৫ দশমিক ৬ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় অনুভূত হয়। যদিও এর কেন্দ্রস্থল ছিল বাংলাদেশের বাইরে, তারপরও রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এর প্রভাব পড়ে।

ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ ভারতীয়, ইউরেশীয় ও বার্মা টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলের কাছাকাছি অবস্থিত হওয়ায় দেশটি ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষ করে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চল সক্রিয় ভূতাত্ত্বিক ফল্টলাইনের কাছাকাছি হওয়ায় এসব এলাকায় মাঝেমধ্যেই মৃদু ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছোট ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পগুলো বড় কোনো ভূমিকম্পের পূর্বাভাস না হলেও এগুলো ভূগর্ভস্থ ফল্টলাইনের সক্রিয়তার ইঙ্গিত দেয়।


জাতীয় এর আরও খবর