img

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের আবার সংঘাতে জড়ানোর আগ্রহ নেই: বিশ্লেষক

প্রকাশিত :  ১৭:১২, ২৮ জুন ২০২৬

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের আবার সংঘাতে জড়ানোর আগ্রহ নেই: বিশ্লেষক

যুদ্ধবিরতির সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষরের পরও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে শান্তি প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে ভিয়েনাভিত্তিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক উলফগাং পুশতাইয়ের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই রয়েছে।

তাহলে সমঝোতার পরও পাল্টাপাল্টি হামলা হলো কেন? আলজাজিরাকে পুশতাই বলেন, বাস্তবতা হলো- ইরান এখনও হরমুজ প্রণালির ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার বিষয়ে অনড়। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র এবং আরব রাষ্ট্রগুলো প্রণালি দিয়ে অবাধে নৌযান ও জাহাজ চলাচলে স্বাধীনতার ওপর জোর দিচ্ছে। নিজেদের অবস্থান জানান দিতে ইরান এখন পর্যন্ত দুইবার জাহাজে হামলা চালিয়েছে। জবাবে যুক্তরাষ্ট্র যে পাল্টা আঘাত করবে- তা আশ্চর্যজনক কিছু নয়।

দুই পক্ষের হামলার ধরনের দিকেও ইঙ্গিত করেছেন পুশতাই। তিনি বলেন, পাল্টাপাল্টি হামলার ধরনের দিকে নজর দিলে দেখা যায়- কোনো পক্ষই পুরো মাত্রায় যুদ্ধ চায় না। তাই এই সমস্যার একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের সুযোগ এখনও আছে।

পুশতাই বলেন, ‘যেকোনো হামলা অবশ্যই দুঃখজনক। ক্ষয়ক্ষতি, বিশেষ করে বেসামরিক স্থাপনার ওপর আঘাত অত্যন্ত অনভিপ্রেত। কিন্তু ইরান যে পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে, তা থেকে বোঝা যায় যে, আপাতত পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটানোর ইচ্ছা তাদের নেই।’

এই প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক উল্লেখ করেন, ইরান ভালো করেই জানে তারা যদি পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর আরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় তাহলে আরব দেশগুলো সরাসরি ও পূর্ণাঙ্গভাবে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে। তাই এখনকার সংঘাতটি কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। 

শনিবার মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের সিরিক ও কেশম দ্বীপসহ কয়েকটি স্থানে হামলা করে। সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) দাবি, কিকু নামের একটি তেলবাহী ট্যাংকারে ইরানের ড্রোন হামলার জবাবে তারা এই পদক্ষেপ নেয়। 

রোববার ইরানের বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) বাহিনী জানিয়েছে, তারা কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের আলি আল সালেম বিমান ঘাঁটি এবং বাহরাইনের সালমান বন্দরে থাকা মার্কিন পঞ্চম নৌবহর লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ করেছে।

কুয়েত ও বাহরাইন উভয়ই ইরানের হামলার নিন্দা জানিয়েছে। এর বাইরে নিন্দা জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এ ধরনের হামলা উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি। 

অন্যদিকে ইরানের এক শীর্ষ কূটনীতিক সতর্ক করে বলেছেন, যেসব রুটের বিষয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরান একমত হয়েছে সেগুলো বাদ দিয়ে হরমুজ প্রণালি ‘বাইপাসের’ চেষ্টা হলে তা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেবে।

ইরাক সফরে থাকা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, হরমুজ প্রণালি এখনও এককভাবে তেহরানের নিয়ন্ত্রণে আছে। আগামী ৩০ দিন প্রণালিটি সম্পূর্ণভাবে তাদের নজরদারি ও ব্যবস্থাপনায় থাকবে।

আব্বাস আরাঘচি বলেন, সমস্ত বাধা দূর হওয়ার পর এই জলপথের পূর্ণ সক্ষমতা ফিরিয়ে আনা হবে। তেহরান বর্তমানে এই লক্ষ্যে কাজ করছে। দায়িত্বটি সম্পূর্ণভাবে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ওপর ন্যস্ত। 

অন্য কারও ভূমিকার প্রসঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে অন্য কোনো পক্ষ বা রাষ্ট্রের ভূমিকা নেই। সমঝোতা স্মারকের অধীনে এটি অত্যন্ত স্পষ্ট। যেকোনো ধরনের হস্তক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে। তখন প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হবে। 


জাতীয় এর আরও খবর

img

কক্সবাজার-মিয়ানমার সীমান্তে ৪.৪ মাত্রার ভূমিকম্প

প্রকাশিত :  ১৭:৪৯, ২৮ জুন ২০২৬

কক্সবাজারসহ দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় রোববার রাতে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। রাত পৌনে ১০টার দিকে এ কম্পন টের পাওয়া যায়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোথাও কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি।

ইউরোপিয়ান-মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টারের (ইএমএসসি) তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৪ দশমিক ৪। এর উৎপত্তিস্থল ছিল কক্সবাজার-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কক্সবাজার ছাড়াও চট্টগ্রাম বিভাগের কয়েকটি জেলা এবং দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হয়। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হালকা কম্পন অনুভবের কথা জানিয়েছেন। 

সাম্প্রতিক সময়ে দেশে একের পর এক মৃদু ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত ২২ জুন রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় ৪ দশমিক ৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ওই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর রূপগঞ্জ-সংলগ্ন এলাকা। কম্পনটি ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও আশপাশের কয়েকটি জেলায় অনুভূত হলেও কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

এর আগে ১২ জুন সিলেট-ভারত সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় ৪ দশমিক ৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ওই কম্পন দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল। একই মাসের ৭ জুন ভুটানের পুনাখা অঞ্চলে উৎপন্ন ৫ দশমিক ৬ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় অনুভূত হয়। যদিও এর কেন্দ্রস্থল ছিল বাংলাদেশের বাইরে, তারপরও রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এর প্রভাব পড়ে।

ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ ভারতীয়, ইউরেশীয় ও বার্মা টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলের কাছাকাছি অবস্থিত হওয়ায় দেশটি ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষ করে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চল সক্রিয় ভূতাত্ত্বিক ফল্টলাইনের কাছাকাছি হওয়ায় এসব এলাকায় মাঝেমধ্যেই মৃদু ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছোট ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পগুলো বড় কোনো ভূমিকম্পের পূর্বাভাস না হলেও এগুলো ভূগর্ভস্থ ফল্টলাইনের সক্রিয়তার ইঙ্গিত দেয়।


জাতীয় এর আরও খবর