img

কুলাউড়ার সন্তান থেকে দেশের শীর্ষ শিল্পপতি: আজম জে. চৌধুরীর অনন্য যাত্রা

প্রকাশিত :  ০৫:৪৪, ১৩ জুলাই ২০২৬

কুলাউড়ার সন্তান থেকে দেশের শীর্ষ শিল্পপতি: আজম জে. চৌধুরীর অনন্য যাত্রা

সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার হোসেনপুর গ্রামের এক কিশোরের স্বপ্ন একদিন ছড়িয়ে পড়বে দেশের শিল্প, জ্বালানি, নৌপরিবহন ও আর্থিক খাতে—এ কথা হয়তো তখন কেউ ভাবেননি। কিন্তু মেধা, সততা, অধ্যবসায় ও দূরদর্শিতাকে পুঁজি করে সেই কিশোরই আজ বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষ শিল্পপতি আজম জে. চৌধুরী।

১৯৫৪ সালের ৩১ অক্টোবর কুলাউড়া উপজেলার কাদিরপুর ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামে তাঁর জন্ম। শৈশব ও বেড়ে ওঠা কেটেছে কুলাউড়ার সবুজ-শ্যামল পরিবেশে। স্থানীয় মানুষের কাছে তিনি আজও কুলাউড়ার গর্ব, যাঁর সাফল্যের গল্প নতুন প্রজন্মকে স্বপ্ন দেখতে শেখায়।

শিক্ষাজীবনের শুরু কুলাউড়াতেই। তিনি নবীন চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। এরপর উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেন সিলেটের ঐতিহ্যবাহী মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজে। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ শেষ করে তিনি চাকরির নিরাপদ পথ বেছে নেননি। ১৯৭৭ সালে একটি ছোট তেল-বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান দিয়ে ব্যবসায়িক যাত্রা শুরু করেন। সেই উদ্যোগই সময়ের পরিক্রমায় রূপ নেয় দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী ইস্ট কোস্ট গ্রুপে (East Coast Group)। বর্তমানে এ গ্রুপের কার্যক্রম জ্বালানি, শিপিং, ব্যাংকিং, বীমা, চা, লজিস্টিকসসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ খাতে বিস্তৃত।

আজম জে. চৌধুরী বর্তমানে এমজেএল বাংলাদেশ পিএলসি (MJL Bangladesh PLC)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি দেশের শীর্ষ বেসরকারি ব্যাংকগুলোর একটি প্রাইম ব্যাংক পিএলসি (Prime Bank PLC)-এর সাবেক চেয়ারম্যানও ছিলেন। তাঁর নেতৃত্ব, ব্যবসায়িক প্রজ্ঞা ও দীর্ঘ অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের করপোরেট অঙ্গনে বিশেষ মর্যাদা লাভ করেছে।

দেশের শিল্পোন্নয়ন ও ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ২০১৯ সালে ‘দ্য ডেইলি স্টার–ডিএইচএল বিজনেস পারসন অব দ্য ইয়ার’ সম্মাননা লাভ করেন। এই পুরস্কার তাঁর দীর্ঘ কর্মময় জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

ব্যবসায়িক সাফল্যের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। ইস্ট কোস্ট গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হাজারো মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। দেশের জ্বালানি খাতের বিকাশ, শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় তাঁর অবদান বিশেষভাবে প্রশংসিত।

কুলাউড়ার সাধারণ এক পরিবার থেকে উঠে এসে জাতীয় পর্যায়ে সাফল্যের শিখরে পৌঁছানোর গল্প আজম জে. চৌধুরীকে অনন্য করে তুলেছে। তাঁর জীবন যেন একটি বার্তা—গ্রামের মাটি থেকে উঠে এসেও কঠোর পরিশ্রম, সততা ও দূরদর্শিতার মাধ্যমে বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা সম্ভব।

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার মানুষ তাই গর্ব করেই বলেন, আজম জে. চৌধুরী শুধু একজন সফল শিল্পপতি নন; তিনি কুলাউড়ার স্বপ্ন, বাংলাদেশের শিল্পায়নের এক উজ্জ্বল পথিকৃৎ।


সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

চাকরির পরীক্ষা দিতে ঢাকা গিয়ে নিখোঁজ জকিগঞ্জের রাজন, লাশ মিলল হবিগঞ্জে

প্রকাশিত :  ১২:৩৬, ১৩ জুলাই ২০২৬

চাকরির ইন্টারভিউ দিতে ঢাকা গিয়েছিলেন সিলেটের জকিগঞ্জের মাহবুব সরোয়ার রাজন (৩০)। পরীক্ষা শেষে শুক্রবার ঢাকা থেকে সিলেটের উদ্দেশে রওয়ানা হন। কিন্তু আর বাড়ি ফেরা হয়নি রাজনের। রোববার হবিগঞ্জ থেকে তার তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

রাজন জকিগঞ্জ উপজেলার গন্ধগত্ত এলাকার বাসিন্দা। রোববার দিনে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ–সাটিয়াজুরি রেলস্টেশনের মধ্যবর্তী দাসপাড়া এলাকায় রেললাইনের পাশের ঝোপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে পুলিশ। এরপর রোববার (১২ জুলাই) রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে রাজনের ছবি দেখে শনাক্ত করে তার পরিবার।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মাহবুব সরোয়ার রাজন ঢাকা বিমানবন্দর এলাকা থেকে উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনে সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। এরপর থেকেই তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে শায়েস্তাগঞ্জ–সাটিয়াজুরি রেলপথের দাসপাড়া এলাকায় উদ্ধার হওয়া মরদেহটি তার বলে পরিবারের সদস্যরা শনাক্ত করেন।

নিহতের বড় ভাই মাহবুব হাসান মুন্না রেলওয়ের কর্মচারী। তিনি জানান, রাজনের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পর পরিবার উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতাও নেওয়া হয়। রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে তারা জানতে পারেন যে, হবিগঞ্জের বহুবল উপজেলার মিরপুর ইউনিয়নের দাশপাড়া এলাকায় একটি ঝুপড়ি ঘর থেকে স্থানীয়রা দুপুরের দিকে একটি মরদেহ উদ্ধার করেছেন। পরে মরদেহটি রাজনের বলে শনাক্ত করা হয়।

নিহতের চাচা কামরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, রাজনের মৃত্যু কীভাবে হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিতভাবে কিছু জানা যায়নি।

তিনি আরও জানান, রাজনের সঙ্গে দীর্ঘ সময় যোগাযোগ করতে না পেরে রোববার দিনের বেলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা চাওয়া হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, রাজনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সবশেষ অবস্থান রাত ২টা ৩০ মিনিটে হবিগঞ্জের বহুবল এলাকায় শনাক্ত করা হয়েছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে, ওই সময়ের মধ্যে তার সঙ্গে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে।

পারিবারিক সূত্রে আরও জানা গেছে, মাহবুব সারওয়ার রাজন প্রায় আট মাস আগে বিয়ে করেন।

এ বিষয়ে জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, নিহতের পরিবারের মাধ্যমে ঘটনাটি জেনেছি। প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে।

তার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “নিহতের স্বজনরা আসার পর মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে রেলওয়ে পুলিশ তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর