শ্রীমঙ্গলে রান্নাঘরের লাকড়ির স্তূপ থেকে দাঁড়াশ সাপ উদ্ধার
প্রকাশিত :
০৮:৫৫, ০১ অক্টোবর ২০২৬ সর্বশেষ আপডেট: ১৪:০৬, ০১ অক্টোবর ২০২৬
সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় একটি বাড়ির রান্নাঘর থেকে একটি দাঁড়াশ সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুর দুইটার দিকে উপজেলার উত্তর ভাড়াউড়া এলাকায় মানিক মিয়ার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই সময় মানিক মিয়ার স্ত্রী রান্নাঘরে রান্না করছিলেন। হঠাৎ তিনি রান্নাঘরে রাখা লাকড়ির ওপর একটি সাপ দেখতে পান। সাপটি দেখেই তিনি চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন। তাঁর চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি আশপাশের লোকজনও ছুটে আসেন।
রান্নাঘরে সাপ দেখে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কেউ কেউ সাপটিকে মেরে ফেলার উদ্যোগ নিতে চান। তবে এ সময় বাবু নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি সাপটি না মারার জন্য সবাইকে অনুরোধ করেন। পরে তিনি বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনে বিষয়টি জানান।
এদিকে লোকজনের চিৎকার-চেঁচামেচিতে সাপটি লাকড়ির স্তূপের নিচে চলে গিয়ে লুকিয়ে পড়ে। খবর পেয়ে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
পরে তাঁরা প্রায় ৪০ মিনিট ধরে রান্নাঘরে রাখা লাকড়িগুলো একে একে সরিয়ে সাপটির অবস্থান শনাক্ত করেন। একপর্যায়ে লাকড়ির নিচ থেকে একটি দাঁড়াশ সাপ বেরিয়ে আসে। কোনো ধরনের আঘাত না করে সাপটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারের পর দাঁড়াশ সাপটি শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কোথাও কোনো বন্য প্রাণী ধরা পড়লে, আহত বা অসুস্থ অবস্থায় পাওয়া গেলে সেটিকে না মেরে দ্রুত নিকটস্থ বন বিভাগে খবর দিতে হবে। প্রয়োজনে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকেও বিষয়টি জানানো যেতে পারে।
সাড়ে চার হাজারের বেশি সদস্য নিয়ে পুলিশের স্বতন্ত্র ইউনিট হচ্ছে
প্রকাশিত :
১৫:৩৪, ০১ অক্টোবর ২০২৬ সর্বশেষ আপডেট: ১৬:৩০, ০১ অক্টোবর ২০২৬
পরিবর্তনশীল অপরাধের ধরন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বিস্তারের প্রেক্ষাপটে সাইবার অপরাধ দমন ও প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত জোরদারে যাত্রা শুরু করেছে পুলিশের বিশেষায়িত ‘সাইবার পুলিশ ইউনিট’। ৪ হাজার ৫৯২ জন জনবল নিয়ে গঠিত এ ইউনিটের নেতৃত্বে থাকবেন একজন অতিরিক্ত আইজিপি।
বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ সদর দপ্তরের হল অব ইন্টেগ্রিটিতে ইউনিটটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পরিবর্তনশীল অপরাধের ধরন এবং এআইয়ের যুগে পুলিশকে আধুনিক প্রযুক্তি ও মেধানির্ভর বাহিনীতে রূপান্তরের চেষ্টা চলছে। সাইবার অপরাধ দমন, ডিজিটাল নিরাপত্তা জোরদার এবং প্রযুক্তিভিত্তিক তদন্ত সক্ষমতা বাড়াতেই এই ইউনিট গঠন করা হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, প্রাথমিকভাবে অতিরিক্ত আইজিপি ইকবাল হোসেনকে সাইবার পুলিশ ইউনিটের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিভাগীয় পর্যায়ে ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজি এবং জেলা পর্যায়ে পুলিশ সুপার বা দায়িত্বপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা এ ইউনিটের কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করবেন। থানায় সাইবারকেন্দ্রিক সেবা ও তদন্তের জন্য ওসির নেতৃত্বে এসআই, এএসআই ও কনস্টেবল পদায়ন করা হবে।
অনুমোদিত অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী, ইউনিটটির মোট জনবল ৪ হাজার ৫৯২ জন। বিদ্যমান পুলিশ বাহিনী থেকে অভিজ্ঞ ও প্রশিক্ষিত সদস্যদের পদায়নের পাশাপাশি নতুন নিয়োগের মাধ্যমে এই জনবল কাঠামো পূর্ণাঙ্গ করা হবে।
সাইবার পুলিশ ইউনিটে আন্তর্জাতিক মানের কারিগরি দক্ষতা নিশ্চিত করতে আউটসোর্সিং ও চুক্তিভিত্তিক বিশেষজ্ঞ নিয়োগের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সিস্টেম অ্যানালিস্ট, ফাইন্যান্সিয়াল ডেটা অ্যানালিস্ট, সাইবার সিকিউরিটি এক্সপার্ট, নেটওয়ার্ক অ্যাডমিনিস্ট্রেটর, ডার্ক ওয়েব অ্যানালিস্ট, ক্রিপ্টো অ্যানালিস্ট, ম্যালওয়্যার অ্যানালিস্ট, সোশ্যাল মিডিয়া অ্যানালিস্ট, ইমার্জেন্সি রেসপন্স কনসালটেন্ট ও ডিজাস্টার রিকভারি এক্সপার্টসহ বিভিন্ন পদে দক্ষ বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেওয়া হবে।
এসব বিশেষজ্ঞের জন্য আলাদা ও আকর্ষণীয় বেতন কাঠামোর ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি নিয়মিত পুলিশ বাহিনীর আইটি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্যদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সাইবার পুলিশ ইউনিটে পদায়ন করা হবে। ইউনিটের কার্যক্রম তদারক ও পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের দেশে-বিদেশে উচ্চতর বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। কাজের অবদানের ভিত্তিতে কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞদের বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার কথাও জানান মন্ত্রী।
সাইবার পুলিশ ইউনিটের অধীনে আধুনিক ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবরেটরি স্থাপনের উদ্যোগের কথাও অনুষ্ঠানে জানানো হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানি লন্ডারিং, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক অপরাধ, গুজব, আর্থিক অপরাধ, মাদক ও উগ্রবাদের মতো অপরাধ মোকাবিলায় কেমিক্যাল ল্যাবের পাশাপাশি ডিজিটাল ও ফরেনসিক ল্যাবের প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে। এ বাস্তবতায় সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও সাইবার সরঞ্জামসমৃদ্ধ ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এর আগে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে বিচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত সাইবার তদন্তের সমন্বয়হীনতা দূর করে এখন থেকে একটি সুসংগঠিত কাঠামোর অধীনে কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। একক আমব্রেলার আওতায় সাইবার পুলিশ ইউনিটের কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
এই বিশেষায়িত ইউনিটের মাধ্যমে বাংলাদেশে সাইবার স্পেসের অপব্যবহার এবং বিভিন্ন ধরনের সাইবার অপরাধ দমন ও প্রতিরোধ আরও কার্যকর হবে বলে আশা প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, আইজিপি আলী হোসেন ফকিরসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।