img

‘সালাহউদ্দিন আহমদ, গ্রেট জব!...বিএনপি জোস কাজ করছে’— ‍সালমান মুক্তাদির

প্রকাশিত :  ০৬:৪৭, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘সালাহউদ্দিন আহমদ, গ্রেট জব!...বিএনপি জোস কাজ করছে’— ‍সালমান মুক্তাদির

চাঁদা না দেওয়ায় রাজধানীর ইসিবি চত্বরে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের নতুন সৃজনশীল স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। হামলাকারীরা স্টুডিওর মূল্যবান ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি, শুটিং সরঞ্জাম, কর্মীদের মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ লুট করে নিয়ে গেছে বলে জানা গেছে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে। সালমান মুক্তাদিরের অভিযোগ, চাঁদা দাবি করার পর তা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা প্রতিশোধমূলকভাবে এ হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে।

ঘটনার সময় সালমান মুক্তাদির ঢাকার বাইরে অবস্থান করছিলেন। খবর পেয়ে দ্রুত বিমানে করে ঢাকায় ফিরে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত স্টুডিওতে উপস্থিত হন তিনি। সেখানে ফেসবুক লাইভে এসে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া স্টুডিওর চিত্র তুলে ধরেন এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ক্ষোভ ও শ্লেষ প্রকাশ করেন।

স্টুডিওর এক প্রত্যক্ষদর্শী কর্মকর্তা জানান, রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন লোক হঠাৎ করে ভেতরে ঢুকে তাণ্ডব শুরু করে। তাদের কয়েকজনের হাতে ধারালো চাপাতি ও আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। প্রাণভয়ে অফিসের কর্মীরা শৌচাগারে গিয়ে আশ্রয় নিলে হামলাকারীরা সেখানেও ঢুকে অস্ত্রের মুখে তাদের জিম্মি করে মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। তবে ঘটনায় কোনো কর্মী শারীরিকভাবে গুরুতর আহত হননি।

লাইভে এসে সালমান মুক্তাদির বলেন, ‘আজকে আমাদের লাস্ট ব্রাউনফিশ (Brownfish) স্টুডিওর শুট। একটু আগে এখানে অ্যাটাক হয়েছিল। আর এই পুরা অ্যাটাকে আমাদের ফুল স্টুডিও ডেস্ট্রয় হয়ে গেছে।’ তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে ব্যঙ্গ করে বলেন, ‘এই ভিডিওটা শুধুমাত্র খুবই স্পেশালি বানানো আমাদের যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ওনার জন্য। আপনি প্লিজ কোনো টেনশন নিবেন না। দিস ইজ নরমাল ইন বাংলাদেশ। দ্যাটস হোয়াই আই অ্যাম স্মাইলিং।’

তিনি আরও দাবি করেন, এমন নান্দনিক স্টুডিও দেশের মূলধারার চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনেও (এফডিসি) ছিল না। তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এমন একটা দেশ, যেই দেশে যদি আপনি কিছু করতে চান, অ্যান্ড এইটা করার সময় যদি আপনি কারো তোষামোদি না করেন, আপনার যদি কোনো ব্যাকআপ না থাকে, আপনি যদি কোনো পার্টিকে ফলো না করেন, আপনি যদি সিকিউরিটি টাকাপয়সা দিয়ে কিনতে না পারেন—দিস ইজ হোয়াট হ্যাপেনস টু ইউ!’

বিএনপিকে সরাসরি দায়ী করে সালমান বলেন, ‘হুএভার ব্রোক দিস—এই বিএনপির লোকজন যারা করছে এটা—তোমাদের চাঁদাবাজি ক্যান নট টেক অ্যাওয়ে মাই ড্রিম! তোমাদের চাঁদাবাজি তোমাদেরকে এই যে ফকিন্নি, মিসকিন রাখছে এইজন্য বিকজ তোমরা স্বপ্ন দেখতে পারো না। তোমরা যতকিছু চুরি করে ফেলো, চাঁদাবাজি করে ফেলো, তোমরা এর থেকে বড় আর হইতে পারবা না। দিস ইজ ইওর লেভেল।’

হামলার পর কান্নারত তরুণ সহকর্মীদের বুকে জড়িয়ে সান্ত্বনা দেন তিনি। কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘তোমরা কান্নাকাটি করিস না। দিস ইজ নাথিং। তোমরা সালমান মুক্তাদিরকে চেনো নাই! আমি এর থেকে বড় কিছু করব, ইনশাআল্লাহ। আমরা কালকে থেকেই আবার কাজ শুরু করব।’ তিনি উল্লেখ করেন, স্টুডিওটি গড়ে তুলতে তার স্ত্রী দিনের পর দিন নিজে দাঁড়িয়ে কাজ তদারকি করেছেন এবং সহকর্মীরা রাত জেগে পাহারা দিয়েছেন।

আর্থিক ক্ষতির বিষয়ে সালমান জানান, আনুমানিক ৩০ থেকে ৪০ জন ক্লায়েন্টের শুটিংয়ের মূল্যবান ফুটেজ ও কাজ স্টুডিওর সিস্টেমে জমা ছিল। সবকিছু খোয়া যাওয়ায় সামগ্রিক ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে একটি মামলা দায়ের করা হবে।

ভিডিওর শেষভাগে তিনি আবারও প্রশাসন ও দেশের বাস্তবতাকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আপনি এটা নিয়ে একদম টেনশন কইরেন না। আপনার জন্য এই ভিডিওটা না, বাংলাদেশি মানুষের জন্য এই ভিডিও। ইফ ইউ ওয়ান্ট টু স্টে ইন বাংলাদেশ, প্লিজ চাটুকারিতা করে চাঁদাবাজিকে সাপোর্ট করবেন, যাতে এই ধরনের কাহিনী আপনাদের সাথে না হয়। অ্যান্ড সালাহউদ্দিন আহমদ, গ্রেট জব! আই লাভ ইওর ওয়ার্ক। থ্যাংক ইউ সো মাচ। বিএনপি জোস কাজ করছে।’


জাতীয় এর আরও খবর

img

সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলায় প্রজন্ম লীগ নেতা গ্রেপ্তার

প্রকাশিত :  ১৮:৪১, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীর ইসিবি চত্বর এলাকায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের এক নেতাসহ আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। এ নিয়ে এ ঘটনায় গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচজনে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট ও বেইলি রোড এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলেন যথাক্রমে শাহ আলম অনিক ও মো. শাহরিয়ার। এর আগে মো. মামুন, আসলাম, মুন্নাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ডিবিপ্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শাহ আলম অনিক মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক। সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার তথ্য পেয়েছে পুলিশ।

এর আগে রোববার দুপুরের পর রাজধানীর বেইলি রোড এলাকা থেকে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত শাহরিয়ারকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। তিনি নিউ গিনি প্রপার্টিজের পক্ষ থেকে করা মামলার এক নম্বর আসামি। এছাড়া ভাসানটেক বস্তির মো. মামুন, মজুমদার মোড় এলাকার আসলাম ও মুন্নাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শাহ আলম অনিক একসময় ছাত্রলীগ ও পরে যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে তিনি মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে পরিচয় দিতেন। ৫ আগস্টের পর তিনি ‘কিলার ইব্রাহিমের’ দলে যোগ দেন এবং সেখানে ক্যাশিয়ার হিসেবে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউ গিনি প্রপার্টিজ এলাকায় সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। সালমান মুক্তাদিরের অভিযোগ, দুই ট্রাকে করে লোকজন এসে স্টুডিওতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে। পরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে হামলা ও ভাঙচুরের ভিডিও প্রকাশ করেন তিনি। এ সময় তিনি হামলার পেছনে চাঁদাবাজির অভিযোগও তোলেন।

পুলিশ জানায়, নিউ গিনি প্রপার্টিজের কাছ থেকে একটি ফ্লোর ভাড়া নিয়ে স্টুডিওটি তৈরি করেছিলেন সালমান মুক্তাদির। হামলার সময় স্টুডিওটির বিভিন্ন অংশ ভাঙচুর করা হয়।

ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, স্টুডিওর জমির মালিক নিউ গিনি প্রপার্টিজ লিমিটেড এবং এলাকার অন্য জমির মালিকদের মধ্যে বিরোধের জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় করা মামলায় পুলিশ হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। গ্রেপ্তার পাঁচজনের বিরুদ্ধে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।


জাতীয় এর আরও খবর