img

জাপানে নারী হত্যার অভিযোগে মার্কিন মেরিন সেনা গ্রেপ্তার

প্রকাশিত :  ০৭:০১, ০৫ অক্টোবর ২০২৬

জাপানে নারী হত্যার অভিযোগে মার্কিন মেরিন সেনা গ্রেপ্তার

জাপানের ওকিনাওয়ায় এক নারীকে হত্যার অভিযোগে এক মার্কিন মেরিন সেনাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একটি হোটেল থেকে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধারের পর হত্যাকাণ্ড ও লুটের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে জাপান সরকার।

জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি জানান, রোববার এক মার্কিন মেরিন সেনাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর একদিন আগে শনিবার ভোরে ওকিনাওয়ার রাজধানী নাহার একটি হোটেল থেকে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

জাপানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম ডেভিন জ্যাকব ব্যালার্ড। তার বয়স ২০ বছর। তিনি নাহার কাছাকাছি যুক্তরাষ্ট্রের ফুতেনমা মেরিন ঘাঁটিতে দায়িত্ব পালন করতেন। নিহত নারীর নাম ইয়াগি আন্না, বয়স ৩৯ বছর।

স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে হোটেলে আন্নার মরদেহ পাওয়া যায়। পুলিশ ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্ত করছে।

এনএইচকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোটেলের নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে একজন বিদেশির মতো দেখতে ব্যক্তিকে এক নারীর সঙ্গে হোটেলে ঢুকতে এবং পরে ওই নারীর কিছু জিনিসপত্র নিয়ে বের হতে দেখা যায়। পরে হোটেলের আশপাশ থেকে আন্নার কিছু জিনিস উদ্ধার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশের সন্দেহ, শনিবার রাত ২টা থেকে ভোর ৪টার মধ্যে আন্নাকে হত্যা করা হয়। তার মানিব্যাগসহ আরও কিছু জিনিস নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরে শনিবার রাতে নাহা থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরের ওকিনাওয়া শহরের একটি বিনোদন এলাকায় ব্যালার্ডকে আটক করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, আন্নার গলায় চাপ দেওয়ার কারণে শ্বাসরোধ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে ব্যালার্ড হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি ঘটনাটিকে ‘অত্যন্ত গুরুতর ও নিন্দনীয়’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, জাপান সরকার এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে।

জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিৎসু মোতেগির কার্যালয় জানিয়েছে, রোববার জাপানে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত জর্জ গ্লাসকে তলব করা হয়। তাকে মার্কিন সেনাদের শৃঙ্খলা আরও জোরদার করা এবং এ ধরনের ঘটনা যাতে পুনরায় না ঘটে, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ওকিনাওয়ার গভর্নর জেন্তা কোজাও জাপানে থাকা মার্কিন সেনাদের মধ্যে কঠোর শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে জাপান সরকার ও মার্কিন কর্তৃপক্ষের কাছে শক্ত অবস্থান নেওয়া হবে।

মার্কিন তৃতীয় মেরিন এক্সপেডিশনারি ফোর্স জানিয়েছে, তাদের এক সেনার বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগের বিষয়ে তারা জাপানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা করছে। নিহত নারীর পরিবার ও স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে তারা।

টোকিওতে মার্কিন দূতাবাসও জানিয়েছে, ঘটনার তদন্তে জাপান সরকার ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র।

জাপানে কয়েক হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। তাদের একটি বড় অংশ দক্ষিণাঞ্চলীয় ওকিনাওয়া প্রিফেকচারে থাকা বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে দায়িত্ব পালন করছে। এ কারণে মার্কিন সেনাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে ওকিনাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় পর্যায়ে নানা উদ্বেগ রয়েছে।

সূত্র: এবিসি নিউজ


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

ফ্লাইদুবাইয়ের সেই বিমান নিয়ে ভয়ংকর পরিকল্পনা করেছিল ইসরাইল

প্রকাশিত :  ০৭:০৬, ০৬ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৩:৩৩, ০৬ অক্টোবর ২০২৬

ইসরাইলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের সেই যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাইয়ের চেষ্টা হলে সেটি নিয়ে ভয়ংকর পরিকল্পনা করেছিল ইসরাইল। যদি বিমানটি ছিনতাই হতো, তবে সেটি গুলি করে ভূপাতিত করার জন্য প্রস্তুত ছিল ইসরাইল। 

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইটটি ছিনতাইয়ের সংকেত পাঠানোর পর ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় জরুরি প্রোটোকল সক্রিয় করে। বিমানটিতে ১৭০ জনের বেশি যাত্রী ও ক্রু ছিলেন, যাদের বেশিরভাগই ইসরাইলি নাগরিক।

সিবিএস নিউজ জানায়, ফ্লাইটটি কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে প্রায় ১৮ হাজার ফুট নিচে নেমে গেলে ইসরাইলি বিমানবাহিনী ককপিটে যোগাযোগের চেষ্টা করে। কিন্তু কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এরপর দ্রুত একটি কমিটি গঠন করে কমান্ড সেন্টার চালু করা হয় এবং যুদ্ধবিমান আকাশে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়।

এ সময় বিমানটি ইসরাইলের দিকে না গিয়ে সৌদি আরবের দিকে মোড় নেয়। সৌদি আরবও নিজেদের যুদ্ধবিমান প্রস্তুত করে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ জানতে পারে, ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছার হামলাকারী সহকারী পাইলট হামাম আল-হামামিকে প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছেন। ককপিটের দরজা খোলার পর কয়েকজন যাত্রী ও ফ্লাইদুবাই কর্মী হামামিকে কাবু করেন। পরে দুই অফ-ডিউটি পাইলট বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেন। শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবের তাবুকে জরুরি অবতরণ করে বিমানটি।

সিবিএসের সূত্রগুলো বলেছে, বিমানটি ছিনতাই হয়েছে নিশ্চিত হলে এবং ছিনতাইকারী রেডিও যোগাযোগ বন্ধ রাখলে সেটি ভূপাতিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ছিল শুধু ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর হাতে।

ইসরাইল দীর্ঘদিন ধরেই ৯/১১-এর মতো কোনো ঘটনা মোকাবিলায় এমন প্রোটোকল অনুশীলন করে আসছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে এ নিয়ে ইসরাইলের পক্ষ থেকে কিছু জানানো হয়নি।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর