img

ব্যাটারিচালিত রিকশার গতি ও ফি নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন

প্রকাশিত :  ১৮:৫৪, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

ব্যাটারিচালিত রিকশার গতি ও ফি নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন

সিটি করপোরেশন এলাকায় চলাচলকারী ব্যাটারিচালিত তিন চাকার ই-রিকশার সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার নির্ধারণ করেছে সরকার। তবে স্কুল, হাসপাতাল, ধর্মীয় উপাসনালয় ও জনবহুল এলাকায় এসব যানবাহন ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৫ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারবে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। দেশের সব সিটি করপোরেশন এলাকায় চলাচলরত ই-রিকশার ক্ষেত্রে এ বিধিমালা প্রযোজ্য হবে।

নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা বা ই-রিকশার নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে পাঁচ বছরের জন্য। এসব যানবাহনের সর্বোচ্চ গতিসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার।

পাশাপাশি, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড ও নিরাপত্তাবৈশিষ্ট্য পূরণ না করলে কোনো ই-রিকশা সড়কে চলাচল করতে পারবে না।

নতুন বিধিমালায় ই-রিকশার চলাচলের স্থান, গতি, যাত্রী ধারণক্ষমতা, নিবন্ধন, ফি, ফিটনেস, প্রযুক্তিগত মান এবং চালকদের দায়িত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ই-রিকশাকে সবসময় সড়কের বাম লেন দিয়ে চলাচল করতে হবে। তবে জাতীয় মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং প্রধান বাস চলাচলের সড়ক বা করিডোরে এসব যান চলতে পারবে না।

সাধারণ অবস্থায় ই-রিকশার সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার হলেও স্কুল, হাসপাতাল, ধর্মীয় উপাসনালয় ও জনবহুল এলাকায় তা ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটারের মধ্যে রাখতে হবে।

যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। ই-রিকশার আকার ও ধারণক্ষমতা অনুযায়ী চালক ছাড়া সর্বোচ্চ দুই অথবা চারজন যাত্রী বহন করা যাবে। যাত্রীর হাতে বহনযোগ্য মালামাল ছাড়া অন্য কোনো বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়া ই-রিকশায় ৪০ ডেসিবেলের বেশি তীব্রতার হর্ন ব্যবহার করা যাবে না।

ই-রিকশার নিবন্ধন পেতে আবেদনকারীকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে এবং তার বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে। নির্ধারিত ফি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সংশ্লিষ্ট আবেদন ফরম পূরণ করে কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে হবে। আবেদন ও দাখিল করা কাগজপত্র যাচাইয়ের পাশাপাশি বুয়েটের নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড এবং নিরাপত্তাবৈশিষ্ট্যের সঙ্গে ই-রিকশার সামঞ্জস্য পরীক্ষা করা হবে। এসব বিষয়ে সন্তুষ্ট হলে আবেদন পাওয়ার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে নিবন্ধন দেয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে যাত্রী ধারণক্ষমতার ভিত্তিতে। দুজন যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার প্রারম্ভিক এককালীন নিবন্ধন ফি ৮ হাজার টাকা এবং বার্ষিক নবায়ন ফি ৪ হাজার টাকা। অন্যদিকে, চারজন যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার এককালীন নিবন্ধন ফি ১০ হাজার টাকা এবং বার্ষিক নবায়ন ফি ৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া প্রতিটি ই-রিকশার ফিটনেস সার্টিফিকেটের জন্য ১ হাজার টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রতিটি নিবন্ধিত ই-রিকশার জন্য কিউআর কোডযুক্ত স্বতন্ত্র নিবন্ধন নম্বর ও নির্দিষ্ট নম্বর প্লেট দেওয়া হবে। এসব নম্বর ও প্লেট যানবাহনের দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করতে হবে। একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে এক বা একাধিক সিটি করপোরেশন থেকে সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশার নিবন্ধন নেওয়া যাবে। তবে কোনো একটি সিটি করপোরেশনে নিবন্ধিত ই-রিকশা অন্য সিটি করপোরেশন এলাকায় বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে চালানো যাবে না।

বিধিমালা অনুযায়ী, ই-রিকশার নিবন্ধনের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর। মেয়াদ শেষ হলে নির্ধারিত ফি দিয়ে নিবন্ধন নবায়ন করতে হবে। নিবন্ধন গ্রহণ বা নবায়ন ছাড়া কোনো ই-রিকশা সড়কে চলাচল করতে পারবে না। বর্তমানে সড়কে চলাচলরত ই-রিকশাগুলোকেও নিবন্ধন পেতে হলে বুয়েটের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী নকশা পরিবর্তন করতে হবে।

প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি ই-রিকশায় বুয়েট নির্ধারিত মানদণ্ড ও নিরাপত্তাবৈশিষ্ট্য থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি যানবাহনে স্পিডোমিটার বা ওডোমিটার স্থাপন করতে হবে। কোনো যান্ত্রিক বা নিরাপত্তাজনিত ত্রুটিযুক্ত এবং নিবন্ধনবিহীন অবৈধ ই-রিকশা সড়কে চালানো যাবে না। বিধিমালায় প্রতিটি ই-রিকশার অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল নিবন্ধনের তারিখ থেকে ১২ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। এ সময়সীমা শেষ হলে সংশ্লিষ্ট ই-রিকশার নম্বর প্লেটসহ নিবন্ধন বাতিল করতে হবে।

ব্যাটারি চার্জের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট ব্যবস্থা অনুসরণের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ই-রিকশার ব্যাটারি সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের লাইসেন্সপ্রাপ্ত চার্জিং পয়েন্ট অথবা নির্ধারিত গ্যারেজে চার্জ দিতে হবে। এসব চার্জিং পয়েন্ট বা গ্যারেজে নবায়নযোগ্য জ্বালানি কিংবা সৌরশক্তি ব্যবহারের ব্যবস্থা রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

নতুন বিধিমালায় ই-রিকশাচালকদের দায়িত্ব ও নিষিদ্ধ কার্যক্রমও উল্লেখ করা হয়েছে। নিবন্ধন ছাড়া যান চালানো, অনুমোদিত গতিসীমা অতিক্রম করা, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, অননুমোদিত ব্যাটারি ব্যবহার, মোটর বা যানবাহনের কাঠামো পরিবর্তন এবং নিষিদ্ধ সড়ক বা এলাকায় ই-রিকশা চালানো আইনত দণ্ডনীয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া বিপজ্জনকভাবে যান চালানো এবং দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়াও দণ্ডনীয় অপরাধ বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে। দুর্ঘটনা ঘটলে চালককে সঙ্গে সঙ্গে থামতে হবে।

জাতীয় এর আরও খবর

img

পাবনায় বজ্রপাতে একসঙ্গে ছয়জনের মৃত্যু

প্রকাশিত :  ১০:৪৪, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

পাবনার একটি বিলে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে একসঙ্গে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও তিনজন। শুক্রবার বিকেল পাঁচটার দিকে পাবনা সদর উপজেলার মালঞ্চি ইউনিয়নের সোনাপাতি বিলে এ ঘটনা ঘটে।

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম ছয়জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে যাচ্ছি। সেখানে পৌঁছে বিস্তারিত জানাতে পারব।

মালঞ্চি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির হোসেন বাবু বলেন, কয়েকজন কিশোর সোনাপাতি বিলে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। বিকেল পাঁচটার দিকে বৃষ্টি শুরু হলে তারা একটি পলিথিনের তৈরি ঘরে আশ্রয় নেন। এ সময় সেখানে বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই ছয়জনের মৃত্যু হয়।

চেয়ারম্যান আরও বলেন, বজ্রপাতে আহত তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহতরা কিশোর ও তরুণ। তাদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।


জাতীয় এর আরও খবর