img

প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি, উড্ডয়ন হতে পারে রাত সাড়ে ১০টায়

প্রকাশিত :  ১৪:১০, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি, উড্ডয়ন হতে পারে রাত সাড়ে ১০টায়

জাপানের টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী উড়োজাহাজে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছে। এ কারণে ফ্লাইটের নির্ধারিত যাত্রা বিলম্বিত হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ১৮ মিনিটে ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করার কথা ছিল। তবে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে যাত্রা করতে রাত সাড়ে ১০টার বাজতে পারে বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, পুশব্যাকের পর রানওয়ের দিকে ট্যাক্সি করার সময় উড়োজাহাজটির স্পয়লারে ত্রুটি ধরা পড়লে উড্ডয়ন স্থগিত করা হয়। এতে উড়োজাহাজটি বিমানবন্দরে আটকে পড়েছে।

এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সফরসঙ্গীদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক শাহনুর আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী ফ্লাইটটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে জাপানের নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে উড্ডয়নে বিলম্ব হচ্ছে। ত্রুটি সারাতে প্রকৌশলীরা কাজ করছেন।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস সূত্রে জানা গেছে, ভিভিআইপি যাত্রীদের বহনকারী বিজি-৩৭৭ ফ্লাইটটির নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে যাত্রার কথা ছিল।

বোর্ডিং শেষে উড়োজাহাজটিকে টার্মিনাল থেকে পুশব্যাক করা হয়। পরে রানওয়ের দিকে যাওয়ার সময় ককপিটে স্পয়লারের ত্রুটি-সংক্রান্ত সংকেত দেখা যায়। তাৎক্ষণিকভাবে উড্ডয়নের সিদ্ধান্ত বাতিল করেন পাইলট। পরে কন্ট্রোল টাওয়ারের সঙ্গে সমন্বয় করে উড়োজাহাজটিকে নির্ধারিত পার্কিং এলাকায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পরপরই উড়োজাহাজটির কারিগরি পরীক্ষা ও মেরামতের কাজ শুরু করেন প্রকৌশলীরা।

সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল শাখার তথ্য অনুযায়ী, ইঞ্জিনিয়ার সাদেকুল ইসলাম ভূঁইয়া ও প্রকৌশলী মান্নানের নেতৃত্বে একটি কারিগরি দল ত্রুটি সারানোর চেষ্টা করছে।

প্রকৌশলীদের প্রাথমিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, ত্রুটি মেরামত করে উড়োজাহাজটিকে পুনরায় উড্ডয়নযোগ্য অবস্থায় আনতে দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। তবে মেরামতের কাজ শেষ হওয়া এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার ওপরই ফ্লাইটটির পরবর্তী যাত্রা নির্ভর করছে।

উল্লেখ্য, উড়োজাহাজের ডানায় থাকা স্পয়লার অবতরণের সময় উড্ডয়নক্ষমতা কমিয়ে গতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। পাশাপাশি উড্ডয়নের বিভিন্ন পর্যায়েও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই স্পয়লারে ত্রুটি দেখা দিলে উড়োজাহাজের নিরাপদ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও মেরামত সম্পন্ন করা জরুরি।

জাতীয় এর আরও খবর

img

পুলিশের লোকের ধাওয়া খেয়ে নদীতে ঝাঁপ দেয় তাহসিফ, আমি পালিয়ে আসি: জিজ্ঞাসাবাদে দীপ

প্রকাশিত :  ১০:৪৩, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

তুরাগ নদ থেকে উদ্ধার হওয়া বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরির (২৮) মৃত্যুর ঘটনায় আটক তাঁর বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানিয়েছেন, ঘটনার রাতে কয়েকজন তাঁকে ও তাহসিফকে ধাওয়া করলে তাহসিফ নদে ঝাঁপ দেন। এ সময় তিনি নিজে পালিয়ে প্রাণে বাঁচেন বলে দাবি করেছেন।

পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে দীপ আরও চাঞ্চল্যকর দাবি করে বলেছেন—সেই ধাওয়াকারীরা মূলত ‘পুলিশের লোক’ ছিল। এদিকে মরদেহ উদ্ধারের স্থান থেকে মাত্র ৫০ গজ দূরে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা থেকে নম্বরপ্লেটবিহীন একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে মোটরসাইকেলটি উদ্ধারের পর তা রাজধানীর উত্তরখান থানায় নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় ছায়াতদন্তে নৌ পুলিশকে সহায়তা করছে পিবিআই।

পিবিআই সদর দপ্তরের আইন ও গণমাধ্যম শাখার বিশেষ পুলিশ সুপার মো. আবু ইউসুফ জানান, উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলটি তাহসিফের কি না তা যাচাই করা হচ্ছে, তবে প্রাথমিকভাবে এটি তারই বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিখোঁজ হওয়ার আগে সংগৃহীত সিসিটিভি ফুটেজে তাহসিফের ব্যবহৃত বাইকটির পেছনে কোনো নম্বরপ্লেট দেখা যায়নি; উদ্ধার হওয়া গাড়িটিতেও কোনো নম্বরপ্লেট মেলেনি।

পিবিআইয়ের তদন্ত সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তারা জানান, যে রাজবাড়ী ঘাট এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে, সেটি মূলত চিহ্নিত মাদক স্পট। পুলিশের ধারণা, মাদক কারবারিদের কিংবা কোনো দলের ধাওয়া খেয়ে তাহসিফ আত্মরক্ষার্থে নদে ঝাঁপ দিয়ে পানিতে ডুবে মারা যেতে পারেন।

তবে দীপকে নিয়ে রাতভর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানোর পর তিনি দাবি করেন, ধাওয়াকারীরা সাধারণ অপরাধী নয়, বরং পুলিশের লোক ছিল। দীপের এই বিস্ফোরক দাবিসহ পুরো বক্তব্য এখন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

সিসিটিভি ফুটেজ ও পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উত্তরার বাসা থেকে নিজের মোটরসাইকেল নিয়ে বের হন তাহসিফ। রাত ১টা ৩৫ মিনিটে মায়ের মুঠোফোনে শেষ ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে জানিয়েছিলেন তিনি দ্রুত ফিরছেন, কিন্তু এরপর থেকে তার মোবাইল বন্ধ হয়ে যায়। পরদিন বুধবার বিকেলে তুরাগ নদের রাজবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তার ভাসমান লাশ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। লাশ উদ্ধারের সময় হাতঘড়ি ও পকেটের সামগ্রী মিললেও তার বাইকটি নিখোঁজ ছিল।

মৃত্যুরহস্যের জট খুলতে বৃহস্পতিবার রাতে মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে তাহসিফের ‘বন্ধুস্থানীয় ছোট ভাই’ দীপকে হেফাজতে নেয় পিবিআই মেট্রো উত্তর। উত্তরার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছিল, রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের গ্যারেজের সামনে দীপের সঙ্গে হাত মিলিয়ে আলাদা দুটি বাইকে এলাকা ছাড়েন তাহসিফ।

গতকাল বৃহস্পতিবার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে ময়নাতদন্ত শেষে উত্তরায় তাহসিফের দাফন সম্পন্ন হয়। তার বাবা কে এম এনায়েতুল করিম এই মৃত্যুকে সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে দাবি করে বলেছেন, ‘এটা কোনোভাবেই আত্মহত্যা নয়। সরকার সুষ্ঠু তদন্ত করলেই প্রকৃত অপরাধীদের মুখোশ উন্মোচিত হবে।’


জাতীয় এর আরও খবর