সিপিবি কার্যালয় অবরুদ্ধ, হামলার অভিযোগ
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অবস্থান করছেন এমন অভিযোগ এনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় কার্যালয় অবরুদ্ধ করার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় একদল যুবক কার্যালয়টিতে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে সিপিবি।
সোমবার বিকেল থেকে একদল বিক্ষোভকারী সিপিবির কেন্দ্রীয় কার্যালয় অবরুদ্ধ করে রাখেন। এ সময় তারা মিছিল নিয়ে কার্যালয়ের সামনের সড়কে অবস্থান নেন। বিক্ষোভকারীরা ‘আওয়ামী লীগের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না’ এবং ‘লীগ ধর, জেলে ভর’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
বিক্ষোভের কারণে পল্টন মোড়সহ আশপাশের সড়কে যানবাহন আটকা পড়ে। এতে পল্টন, দৈনিক বাংলা মোড় ও গুলিস্তান এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, কার্যালয়টিতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অবস্থান করছেন। তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সিপিবির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। সিপিবির নেতাকর্মীরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে মিছিল করেছেন বলেও বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ।
ঘটনার পরপরই পল্টন থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা বিক্ষোভকারীদের শান্ত করার চেষ্টা করে এবং কোনো ধরনের সহিংসতা যেন না ঘটে, সেজন্য ভবনটির চারপাশে নিরাপত্তাবেষ্টনী তৈরি করে। এক পর্যায়ে পুলিশ রাস্তা থেকে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয়। এতে যান চলাচল স্বাভাবিক হওয়ায় যানজট কেটে যায়। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মুক্তিভবনের সামনের রাস্তায় ব্যারিকেড ও পুলিশ প্রহরা বজায় রাখা হয়েছে। তবে বিক্ষােভকারীরা কিছুটা সরে গিয়ে মিছিল ও স্লোগান দিতে থাকে।
এদিকে সিপিবির অভিযোগ, অবরুদ্ধ করার ঘটনার পর সোমবার রাত ১০টার দিকে একদল যুবক সিপিবির কার্যালয় কার্যালয় মুক্তিভবনে হামলাও চালিয়েছে। হামলার জন্য বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের দায়ী করেছে সিপিবি।
সিপিবির সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন সমকালকে বলেন, সন্ধ্যায় ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি দীপক শীলকে আটক ও পরে ছেড়ে দেওয়াকে কেন্দ্র করে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। কতিপয় যুবক সিপিবি কার্যালয় মুক্তিভবনে অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। তিনি বলেন, তাদের মিছিল বা কার্যালয় থেকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুল ইসলাম সমকালকে বলেন, সিপিবি কার্যালয়ের সামনে একটি মিছিলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। তবে সেখানে কোনো সংঘাত বা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন তিনি।
সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ ক্বাফি রতন বলেন, ঘটনাটি উসকানিমূলক ও অনাকাঙ্ক্ষিত। সিপিবি কার্যালয়ে গোপন রাজনৈতিক তৎপরতা চালানো কিংবা অন্য কোনো দলের নেতাকর্মীদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এ ধরনের ঘটনা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ঘটানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।



















