img

কারী লাইফ অ্যাওয়ার্ডস ও গালা ডিনার : যুক্তরাজ্যের সেরা শেফ ও রেস্টুরেটার্সদের সম্মাননা

প্রকাশিত :  ২০:১৪, ১৬ অক্টোবর ২০২৩
সর্বশেষ আপডেট: ২৩:৫০, ১৬ অক্টোবর ২০২৩

কারী লাইফ অ্যাওয়ার্ডস ও গালা ডিনার : যুক্তরাজ্যের সেরা শেফ ও রেস্টুরেটার্সদের সম্মাননা

জনমত রিপোর্টঃ বরাবরের মত চোখ ধাঁধালো নান্দনিক আয়োজনে যুক্তরাজ্যের বাছাই করা সেরা শেফ ও রেস্টুরেটার্সদের হাতে অ্যাওয়ার্ডস তুলে দিয়েছে কারী লাইফ মিডিয়া গ্রুপ। 

১৫ অক্টোবর রোববার সেন্ট্রাল লন্ডনের অভিজাত  ম্যারিয়োট হোটেলের সুপরিসর ‘ওয়েস্ট মিন্সটার বল রুম’এ অনুষ্ঠিত হয় কারী লাইফ অ্যাওয়ার্ডস ও গালা ডিনার—২০২৩।

পাঁচটি বিভাগে মোট ৪৪টি অ্যাওয়ার্ডস প্রদান করা হয়। এরমধ্যে রয়েছে, কারি লাইফ এডিটর চয়েস রেস্টুরেন্টস অ্যাওয়ার্ডস, কারি লাইফ বেষ্ট রেষ্টুরেন্ট অ্যাওয়ার্ডস, কারি লাইফ বেষ্ট শেফ অব দ্যইয়ার, বেষ্ট টেকওয়ে অব দ্য ইয়ার এবং কারি লাইফ রেকমেন্ডেড রেস্টুরেন্ট-২০২৩।

এটি ছিলো ‘কারী লাইফ অ্যাওয়ার্ডস ও গালা ডিনার’ এর ১৪ তম আয়োজন। কারী ইন্ড্রাস্ট্রির অর্জন, সম্ভাবনাও সংকট  নিয়ে নিয়মিত প্রকাশনা ও বিভিন্ন দেশে‘ব্রিটিশ কারী ফেস্টিভ্যাল’ আয়োজনের মাধ্যমে কারী লাইফ ইতিমধ্যে ব্রিটিশ কারী ইন্ডাস্ট্রির বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য মূখপত্র হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে।


তারই ধারাবাহিকতায় যুক্তরাজ্যের কালিনারি ক্যালেন্ডারের বার্ষিক অন্যতম সেরা আয়োজন হিসেবে স্থান করে নিয়েছে ‘কারী লাইফ অ্যাওয়ার্ডস’।

যুক্তরাজ্যে কারী ইন্ডাস্ট্রির প্রেসটিজিয়াস এই অ্যাওয়ার্ডস অনুষ্ঠানে এবারও রেস্টুরেটার্স ও খাদ্য রসিকদের উপস্থিতি ছিলো দেখার মত। ৫ শতাধিক অতিথির এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন ব্রিটিশ রাজনীতিক, সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গণের স্বনামধন্য ব্যক্তিবর্গ।

যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসেন কারী ইন্ডাষ্ট্রির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ, রেস্টুরেন্ট মালিক ও শেফরা।


বিকাল সাড়ে চারটা থেকেই শুরু হয় অতিথিদের আগমণ। সন্ধ্যা ৬টা হতেই অতিথিদের জমজমাট উপস্থিতিতেভরে উঠে অনুষ্ঠানস্থল।

রকমারী ও সুস্বাধু ক্যানোপির সাথে চলে অতিথিদের ছবি তোলা ও আড্ডা। ৭ টায় শুরু হয় মূল আয়োজন।

যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে বছরে প্রায় ৪ বিলিয়ন পাউন্ডের অবদান রাখে কারি ইস্ট্রাষ্ট্রি। বিশাল এইরেস্টুরেন্ট সেক্টরের সেরাদের সম্মাননা জানানোর অনুষ্ঠানে অতিথিদের মধ্যে ছিলেন কনফেডারেশনঅব ব্রিটিশ ইন্ডাষ্ট্রিজ (সিবিআই) এর সাবেক প্রেসিডেন্ট, হাউজ অব লর্ডসের সদস্য লর্ড করণ বিলিমোরিয়া। লণ্ডন বিষয়ক উপ-মন্ত্রী এবং টেক ও ডিজিটাল ইকোনোমি বিষয়ক পার্লামেন্টারি আন্ডার সেক্রেটারি পল স্কালি এমপি। ওয়ার্থিং ওয়েস্টের এমপি ফাদার অব দ্য হাউস অব কমন্স স্যার পিটার বোটোমলি, সেন্ট অস্টেল অ্যান্ড নিউ কি আসনের এমপি, জুনিয়র লর্ড কমিশনার স্টীভ ডাবল এবং শ্যাডো ইনভেষ্টমেন্ট ও স্মল বিজনেস মন্ত্রী, বেথনাল গ্রীন অ্যান্ড বো আসনের এমপি রুশনারা আলী। 

স্যার বটমলি ও ষ্টিভ ডাবল এমপি তাদের এলাকার দুটি এওয়ার্ড বিজয়ি ব্যবসাকে সমর্থন জানানোর জন্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন।

অনুষ্ঠানটি চমৎকারভাবে উপস্থাপন করেন মুলধারার টিভি আইটিভির নিউজ রিডার লুকরেসিয়া মিলারিনি।


মঞ্চের আয়োজনের শুরুতে অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য রাখেন কারি লাইফ ম্যাগাজিনের প্রধান সম্পাদক সৈয়দ নাহাস পাশা।

কারি লাইফ অ্যাওয়ার্ডসের ১৪তম আয়োজনটি একটি বিশেষ কারণে গুরুত্বপূর্ণ। চলতি বছর কারি লাইফ ম্যাগাজিন প্রকাশনার ২০ বছর পূর্ণ হয়েছে।

তিনি বলেন, তিনি এবং তাঁর ভাই সৈয়দ বেলাল আহমদ ১৯৭০ এর দশকে যুক্তরাজ্যে আসার পর কারির প্রতি ব্রিটিশদের আগ্রহের মাত্রা দেখে অবাক হয়েছিলেন। ভারতীয় উপমহাদেশের বাইরে কারির এই নতুন আবাস খুঁজে পাওয়ার বিষয়টিকে তাঁরা উদযাপন ও সামনে এগিয়ে নেয়ার আকাঙ্খা থেকে দুই ভাই মিলে ২০ বছর আগে কারিলাইফ ম্যাগাজিন শুরু করেন। এরপর ২০০৯ সালে শুরু করেন ‘কারি লাইফ এওয়ার্ডস’। তিনি বলেন,এখন ভারত, বাংলাদেশ, শ্রীলংকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ ব্রিটিশ কারির কদর করেন।কারণ ব্রিটিশ কারি একটি স্বতন্ত্র স্বাদ ও বৈশিষ্ট অর্জন করেছে এবং এর বৈচিত্র অব্যাহত ভাবে বিকশিত হচ্ছে। 

রেস্টুরেন্ট সেক্টরের নানা চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে সৈয়দ নাহাস পাশা বলেন, রেস্টুরেন্ট সেক্টরের ন্যায্যদাবির পক্ষে কারি লাইফ টিম অব্যাহতভাবে ক্যাম্পেইন চালিয়ে যাবে। 


কোবরা বিয়ারের স্বত্তাধিকারী করণ বিলিমোরিয়া বলেন, করোনার ধকল কাটিয়ে উঠার আগেই শুরু হয় রাশিয়া-ইউক্রেনযুদ্ধ। ফলে শুরু হয় মূল্যস্ফীতির চাপ। এর উপর আছে কর্মী সংকট। কিন্তু এত চ্যালেঞ্জ স্বত্বেও এগিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাজ্যের কারি সেক্টর।

তিনি বলেন, রেস্টুরেন্ট পরিচালনা কেবল একটি ব্যবসা নয়, এটি নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের বাহণ। আবার অনেকর কাছে এটি পারিবারিক ঐতিহ্য। তিনি রেন্টুরেন্টগুলোর বিজনেস রেইট কমানোর জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান।

লর্ড বিলি মোরিয়া বলেন, ব্রিটেনের অর্থনীতি ষষ্ট অবস্থানে হতোনা ইমিগ্র্যান্টদের অবদান ছাড়া। তিনি ইমিগ্রেশনের সংখ্যা বেড়ে গেছে বলে নেতিবাচক প্রচারণা বন্ধের জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান। রেষ্টুরেন্ট ও হসপিটালিটি সেক্টরসহ দেশের বিভিন্ন সেক্টরে কর্মী সংকটের দিকে নজর দেয়ারও আহবান জানান তিনি।

ব্রিটিশ কারি ইন্ড্রাস্ট্রির মূখপত্র হিসেবে ‘কারি লাইফ ম্যাগাজিনের বিশেষ ভূমিকার প্রশংসা করে করণ বিলিমোরিয়া বলেন, তাদের কল্যাণে এখন ভারত, বাংলাদেশ, শ্রীলংকাসহ বিভিন্ন দেশে ‘ব্রিটিশকারি ফ্যাস্টিভেল’ হচ্ছে। ব্রিটিশ কারির বৈচিত্রের কথা তারা বিশ্বের কাছে তুলে ধরছেন। বিষয়টিকে অত্যন্ত চমৎকার বলে মন্তব্য করেন তিনি।

গত বছরের শেষদিকে ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘ব্রিটিশ কারি ফ্যাস্টিভেল’ উপলক্ষে কারি লাইফ টিমের সঙ্গে বাংলাদেশ সফরের কথা স্মরণ করেন বিলিমোরিয়া।

তিনি বলেন, নানা চ্যালেঞ্জ স্বত্বেও বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে।


লণ্ডন বিষয়ক উপ-মন্ত্রী এবং টেক ও ডিজিটাল ইকোনোমি বিষয়ক পার্লামেন্টারি আন্ডার সেক্রেটারি পল স্কালি এমপি বলেন, হসপিটালিটি বিষয়ক সমস্যা সমাধানের জন্য কভিড কালীন সময়ে হসপিটালিটি কাউন্সিল চালু করা হয়। এখন সরকার, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও এর প্রতিনিধিদের নিয়ে এক সঙ্গে সমস্যা সমাধানের জন্য কাজ করা হয়। এটাই সমস্যা সমাধানে সমানে এগিয়ে যাওয়ার পথ এবং আমাদের মিলে মিশে কাজ করতে হাবে। তিনি ইন্ডাষ্ট্রীর উদ্বেগের বিষয় যাতে সরকার শুনে সেটা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন।


অনুষ্ঠানের প্রধানস্পন্সর ‘জাস্ট ইট’এর প্রতিনিধি মাট হপার বলেন, মূল্যস্ফীতিসহ জীবিকা নির্বাহেরএই কঠিন সময়ে রেস্টুরেন্টগুলো বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। তাই ‘জাস্ট ইট’ রেস্টুরেন্টসেক্টরের বিজনেস রেইট অন্তত কয়েক বছরের জন্য ফ্রিজ রাখতে সরকারের প্রতি দাবি জানিয়ে অব্যাহতভাবে ক্যাম্পেইন করছে। 


কারী লাইফ ম্যাগাজিনের এবারের আয়োজনও ছিলো নতুনত্বে ভরা। নজরকাড়া সাংস্কৃতিক আয়োজনের পাশাপাশি ছিলো সুস্বাদু নানা পদের খাবার। এওয়ার্ড বিজয়ীদের মঞ্চে নেয়া হয় বিশেষ মর্যাদায়। আবার পুরো অনুষ্ঠানটি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

এবারের আয়োজনে হেডলাইন স্পন্সর ছিলো কাস্টোমারের কাছে রেস্টুরেন্টের খাবার পৌছে দেয়ার সেবা প্রদানকারী বড় প্রতিষ্ঠান ‘জাস্ট ইট। আরো সহযোগিতায় ছিলো ইউনিসফট, ওয়ার্ক পারমিট ক্লাউড, কোবরাবিয়ার ও ট্রেভেল লিংক।

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের রিপেয়ার পলিসি সম্পর্কে মতামত জানানোর আহ্বান

প্রকাশিত :  ০৯:২৯, ২১ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১২:৪৮, ২১ অক্টোবর ২০২৬

আপনি কি টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের ভাড়াটিয়া বা লিজহোল্ডার? হাউজিং রিপেয়ার সার্ভিসেস বা আবাসন মেরামত পরিষেবার মান উন্নত করতে কাউন্সিলের নতুন মেরামত নীতি প্রণয়নের কাজে আপনার মতামত জানান।

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল তার হাউজিং রিপেয়ার পলিসি বা নীতি পর্যালোচনা ও হালনাগাদ করছে। এ উদ্যোগের লক্ষ্য হলো বাসিন্দাদের চাহিদা ও অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিয়ে মেরামত পরিষেবাকে আরও কার্যকর, নির্ভরযোগ্য ও বাসিন্দাবান্ধব করে তোলা।

বাসিন্দাদের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা মেরামত পরিষেবার বিভিন্ন দিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই কাউন্সিলের ভাড়াটিয়া ও লিজহোল্ডারদের কাছ থেকে এ বিষয়ে মতামত ও পরামর্শ চাওয়া হচ্ছে।

যেসব বিষয়ে মতামত জানাতে পারবেন

প্রস্তাবিত মেরামত নীতি পর্যালোচনার আওতায় রয়েছে:

মেরামতের দায়িত্বঃ বাড়ির কোন ধরনের মেরামতের দায়িত্ব কাউন্সিলের এবং কোনগুলোর দায়িত্ব ভাড়াটিয়া বা লিজহোল্ডারের, তা স্পষ্ট করা।

মেরামতের অগ্রাধিকারঃ জরুরি ও সাধারণ মেরামতের ক্ষেত্রে কোন কাজ কত দ্রুত সম্পন্ন করা প্রয়োজন, তা নির্ধারণ।

অ্যাপয়েন্টমেন্টের মানদণ্ডঃ মেরামতের জন্য নির্ধারিত সময়ে কর্মীদের উপস্থিতি এবং অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থার মান উন্নয়ন।

পরিষেবার মান ও কার্যকারিতা: মেরামতের কাজ কতটা ভালোভাবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হচ্ছে, তা মূল্যায়ন ও উন্নত করা।

যেভাবে মতামত জানাবেন

কাউন্সিলের রিপেয়ার পলিসি (মেরামত নীতি) পর্যালোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য বাসিন্দাদের সামনে কয়েকটি সুযোগ রয়েছে। তাঁরা টাউন হলে আয়োজিত পরামর্শ সভায় সরাসরি অংশ নিতে পারবেন। পাশাপাশি অনলাইনে সভায় যোগ দেওয়া, অনলাইন জরিপে মতামত দেওয়া অথবা হাউজিং ইমপ্রুভমেন্ট ফোরামের মাধ্যমে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ তুলে ধরতে পারবেন।

বাসিন্দাদের দেওয়া মতামত ও পরামর্শ পর্যালোচনা করে মেরামত পরিষেবার ভবিষ্যৎ উন্নয়নের পরিকল্পনা তৈরিতে কাজে লাগানো হবে।

আপনার মতামত কেন গুরুত্বপূর্ণ?

বাড়ির মেরামতসংক্রান্ত সমস্যা, কাজ সম্পন্ন হতে দেরি, অ্যাপয়েন্টমেন্টের অভিজ্ঞতা কিংবা পরিষেবার মান সম্পর্কে বাসিন্দাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা নীতি উন্নয়নে সহায়তা করতে পারে। এই পরামর্শ প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে আপনি এমন একটি মেরামত পরিষেবা গড়ে তুলতে অবদান রাখতে পারেন, যা বাসিন্দাদের প্রয়োজনের প্রতি আরও বেশি সাড়া দেবে এবং আগামী বছরগুলোতে আরও উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে।

আপনি কাউন্সিলের ভাড়াটিয়া বা লিজহোল্ডার হলে আপনার মতামত জানান এবং মেরামত পরিষেবার ভবিষ্যৎ গঠনে অংশ নিন।

বিস্তারিত জানতে এবং মতামত জানানোর সুযোগগুলো সম্পর্কে জানতে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের ওয়েবসাইট দেখুন। টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের ওয়েবসাইট

কমিউনিটি এর আরও খবর