img

কানাইঘাটে বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ‘ধর্ষণ’, গ্রেপ্তার ৩

প্রকাশিত :  ১৬:৩৬, ০৪ জুলাই ২০২৫

 কানাইঘাটে বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ‘ধর্ষণ’, গ্রেপ্তার ৩

সিলেট জেলার কানাইঘাটে বাকপ্রতিবন্ধী এক কিশোরী (১৬) অপহরণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার (৪ জুলাই) ভোর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে পৃথক স্থান থেকে তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে তিনজনই অপহরণ ও ধর্ষণের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে বলে জানান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।

গেপ্তারকৃতরা হলেন- শুভংকর দাস (২৭), বাবুল আহমদ (২৮), ও ফাহাদ মিয়া। তিনজনই কানাইঘাটের বাসিন্দা।

কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুল আউয়াল জানান, বাক ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ পূর্বপরিকল্পিত। ধর্ষক তিনজনই পরিবহন শ্রমিক। এর মধ্যে বাবুল আহমদ (২৮) দীর্ঘদিন ধরে বাকপ্রতিবন্ধী ভিকটিমকে নজরে রাখছিল।

তিনি বলেন, ঘটনার দিন রাতে বাকপ্রতিবন্ধী ভিকটিম পরিবারের অগোচরে ঘর থেকে বেরিয়ে গাজী বুরহান উদ্দিন রাস্তায় চলে আসে। এ সুযোগে বাবুল আহমদ (২৮) ভিকটিমকে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। তখন সে শুভংকর দাস (২৭) কে গাড়ি নিয়ে কচুপাড়া রাস্তায় আসতে বলে। একই সময় সে তৃতীয় ব্যক্তি ফাহাদ মিয়া (২৫) কেও আসতে বলে।

১০ মিনিটের মধ্যে শুভংকর নোহা গাড়ি নিয়ে কচুপাড়ায় অপহরণস্থলে আসলে বাবুল আহমদ (২৮) ও ফাহাদ মিয়া (২৫) বাকপ্রতিবন্ধী ভিকটিমকে জোর করে নোহা গাড়িতে তুলে গাজী বুরহান উদ্দিন রাস্তা ধরে কায়স্তগ্রাম বালুর মাঠ এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে তিনজন মিলে ভিকটিমকে রাতভর ধর্ষণ করে। ভোরের আলো ফুটে ওঠার আগে তারা ভিকটিমকে বালুর মাঠে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। সকালে কায়স্তগ্রামের লোকজন আহত অবস্থায় ভিকটিমকে পেয়ে নিজেদের জিম্মায় রেখে ভিকটিমের পরিবারকে খবর দেয়। ভিকটিমের পরিবার সকাল ৯টার দিকে গিয়ে বাকপ্রতিবন্ধী ভিকটিমকে শনাক্ত করে এবং তাকে আহত ও অসুস্থ অবস্থায় সিলেট এম.এ.জি. ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি করে।

এরপর বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) ভিকটিমের মা কানাইঘাট থানায় এসে অভিযোগটি লিখিত আকারে দাখিল করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ দ্রুত তদন্ত ও দায়ীদের গ্রেপ্তারে নামে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

মৌলভীবাজারে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

প্রকাশিত :  ১৭:২৪, ১২ জুন ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৮:৪৪, ১২ জুন ২০২৬

মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে মুজিবুর রহমান (২৬) নামের এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। দেশজুড়ে পুশইন ও সীমান্তে হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও সমাবেশের মধ্যেই এই ঘটনা ঘটল।

আজ শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের দত্তগ্রাম সীমান্তের নিশ্চিন্তপুর এলাকায় ওই বাংলাদেশিকে হত্যা করা হয় বলে জানান কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম মুন্না। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তিনি বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।’

শরীফপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিপা রানী দাস বলেন, ‘খবর নিয়ে জানতে পেরেছি- বিকেলে নিশ্চিন্তপুর এলাকায় মনু নদীতে নামার পর মুজিবুর ভারতীয় সীমানায় চলে গেলে বিএসএফ তাকে গুলি করে। তার মরদেহ ঘটনাস্থলেই পড়ে আছে।’

এদিকে শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়ন (৪৬ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘সীমান্ত এলাকায় গুলির ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।’

বিএনপি সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম মাসে অর্থাৎ ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সীমান্তে কোনো হত্যাকাণ্ড ঘটেনি, যা ইতিবাচক হিসেবে প্রশংসিত হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে (মার্চ, এপ্রিল, মে ও জুন) সীমান্ত পরিস্থিতি অবনতি হয়।

জুন মাসে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির মাসিক প্রতিবেদনে বলা হয়, শুধু মে মাসে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ছয়টি হামলার ঘটনায় ছয়জন নিহত ও ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজন গুলিবিদ্ধ। এছাড়া বিএসএফের হাতে ১৪ জন বাংলাদেশি আটক হয়েছেন।

আইন ও সালিশ কেন্দের (আসক) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ৯ মে পর্যন্ত কমপক্ষে ছয় বাংলাদেশি নাগরিক সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর গুলি ও নির্যাতনে নিহত হয়েছেন।

অন্যদিকে গত মে মাসের শেষভাগ থেকে ভারত থেকে পুশইনের চেষ্টা আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেড়েছে। বিশেষ করে ভারতে সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের পর এই প্রবণতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।


সিলেটের খবর এর আরও খবর