img

জ্যামে আটকে সন্তান প্রসব, ‘চিকিৎসার অভাবে’ নবজাতকের মৃত্যু

প্রকাশিত :  ১০:১৮, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫

 জ্যামে আটকে সন্তান প্রসব, ‘চিকিৎসার অভাবে’ নবজাতকের মৃত্যু

সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজারে বালুবাহী ট্রাক-ট্রলি ও ঠেলাগাড়ির দীর্ঘ যানজটে আটকে গিয়ে এক অন্তঃসত্ত্বা নারী গাড়িতেই সন্তান প্রসব করেন। হাসপাতালে নেওয়ার পর ওবই নবজাতকের মৃত্যু। নবজাতকের পরিবারের অভিযোগ, তবে সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে মারা গেছে শিশুটি।

রবিবার (৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের টিলাগাং রাবারড্রাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লক্ষীপুর ইউনিয়নের চকবাজার এলাকার শফিকুল ইসলাম (৩০) তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রৌশনারা বেগমকে (২৩) নিয়ে হাসপাতালে যাচ্ছিলেন। পথে খাসিয়ামারা নদী থেকে বালু বহনকারী গাড়ির জ্যামে আটকে যান তারা।

দীর্ঘ সময় আটকে থাকার মধ্যে গাড়িতেই প্রসব করেন রৌশনারা। নবজাতক জন্মের পর প্রায় দেড় ঘণ্টা জ্যামে আটকে থাকার কারণে শিশুটি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।

পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে দোয়ারাবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নবজাতককে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনার পর শোকাহত পিতা শফিকুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভে এসে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বিচার দাবি করেন।

দোয়ারাবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আবু সালেহীন খান বলেন, ‘শিশুটি জন্মের পরপরই শ্বাসনালীতে ব্লক হয়েছিল। মাত্র দুই-তিন মিনিট অক্সিজেন পেলেই তাকে বাঁচানো যেত।’

খাসিয়ামারা নদীর ইজারাদার শাহজালাল কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী ও সুরমা ইউপি চেয়ারম্যান হারুন অর রশীদ জানান, ‘সড়ক সরু হওয়ায় গাড়ি ক্রস করতে সমস্যা হয়। জ্যাম এড়াতে সবাইকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, ভবিষ্যতে যাতে আর জ্যাম না লাগে।’

দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অরূপ রতন সিংহ বলেন, ‘বালু উত্তোলনের কারণে জনদুর্ভোগ তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে ইজারাদার ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমাধান নেওয়া হবে।’

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

মৌলভীবাজারে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

প্রকাশিত :  ১৭:২৪, ১২ জুন ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৮:৪৪, ১২ জুন ২০২৬

মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে মুজিবুর রহমান (২৬) নামের এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। দেশজুড়ে পুশইন ও সীমান্তে হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও সমাবেশের মধ্যেই এই ঘটনা ঘটল।

আজ শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের দত্তগ্রাম সীমান্তের নিশ্চিন্তপুর এলাকায় ওই বাংলাদেশিকে হত্যা করা হয় বলে জানান কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম মুন্না। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তিনি বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।’

শরীফপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিপা রানী দাস বলেন, ‘খবর নিয়ে জানতে পেরেছি- বিকেলে নিশ্চিন্তপুর এলাকায় মনু নদীতে নামার পর মুজিবুর ভারতীয় সীমানায় চলে গেলে বিএসএফ তাকে গুলি করে। তার মরদেহ ঘটনাস্থলেই পড়ে আছে।’

এদিকে শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়ন (৪৬ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘সীমান্ত এলাকায় গুলির ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।’

বিএনপি সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম মাসে অর্থাৎ ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সীমান্তে কোনো হত্যাকাণ্ড ঘটেনি, যা ইতিবাচক হিসেবে প্রশংসিত হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে (মার্চ, এপ্রিল, মে ও জুন) সীমান্ত পরিস্থিতি অবনতি হয়।

জুন মাসে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির মাসিক প্রতিবেদনে বলা হয়, শুধু মে মাসে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ছয়টি হামলার ঘটনায় ছয়জন নিহত ও ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজন গুলিবিদ্ধ। এছাড়া বিএসএফের হাতে ১৪ জন বাংলাদেশি আটক হয়েছেন।

আইন ও সালিশ কেন্দের (আসক) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ৯ মে পর্যন্ত কমপক্ষে ছয় বাংলাদেশি নাগরিক সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর গুলি ও নির্যাতনে নিহত হয়েছেন।

অন্যদিকে গত মে মাসের শেষভাগ থেকে ভারত থেকে পুশইনের চেষ্টা আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেড়েছে। বিশেষ করে ভারতে সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের পর এই প্রবণতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।


সিলেটের খবর এর আরও খবর