img

শ্রীমঙ্গলে স্বামী–স্ত্রীর ছদ্মবেশে কুখ্যাত মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

প্রকাশিত :  ০৭:১২, ১০ নভেম্বর ২০২৫

শ্রীমঙ্গলে স্বামী–স্ত্রীর ছদ্মবেশে কুখ্যাত মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলায় স্বামী–স্ত্রীর ছদ্মবেশে অভিযান চালিয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী মো. স্বপন মিয়া (৩৫)। তিনি উপজেলার কুঞ্জবন এলাকার মো. আরজু মিয়ার ছেলে।

পুলিশ জানায়, স্বপন মিয়া ২০১৫ সালের শ্রীমঙ্গল থানার মামলা নং–০৭(০৪)২০১৫ খ্রিষ্টাব্দ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৯০–এর ১৯(১) এর ৩(ক)/১৯(১) এর ৭(ক) ধারায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি পলাতক ছিলেন। আদালত থেকে তাঁর নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ার পর পুলিশ একাধিকবার তাঁর বাড়িতে অভিযান চালালেও স্বপন মিয়া প্রতিবারই কৌশলে পালিয়ে যান।

অবশেষে শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলামের পরিকল্পনা ও দিকনির্দেশনায় এক অভিনব কৌশল নেওয়া হয়। 
গত ৮ নভেম্বর বিকেল সাড়ে চারটার দিকে এএসআই মো. শরাফত আলী বোরকা পরে স্ত্রী সেজে এবং কনস্টেবল মো. রোকন উদ্দিন স্বামী সেজে মোটরসাইকেলে কুঞ্জবন এলাকায় আসামির বাড়িতে যান।
ওই সময় আসামি তাঁদের প্রকৃত পরিচয় বুঝে ওঠার আগেই এএসআই শরাফত আলী বোরকা পরা অবস্থায় ঝাঁপিয়ে পড়ে স্বপন মিয়াকে আটক করেন। পরে সহকর্মীদের সহযোগিতায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ওসি মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আসামি স্বপন মিয়া সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরাচালান ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জড়িত ছিলেন। তাঁর নামে একাধিক মামলা রয়েছে।’
গ্রেপ্তার আসামিকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানামূলে মামলা সংশ্লিষ্ট নথিপত্রসহ শনিবার (৮ নভেম্বর) আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

মৌলভীবাজারে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

প্রকাশিত :  ১৭:২৪, ১২ জুন ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৮:৪৪, ১২ জুন ২০২৬

মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে মুজিবুর রহমান (২৬) নামের এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। দেশজুড়ে পুশইন ও সীমান্তে হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও সমাবেশের মধ্যেই এই ঘটনা ঘটল।

আজ শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের দত্তগ্রাম সীমান্তের নিশ্চিন্তপুর এলাকায় ওই বাংলাদেশিকে হত্যা করা হয় বলে জানান কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম মুন্না। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তিনি বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।’

শরীফপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিপা রানী দাস বলেন, ‘খবর নিয়ে জানতে পেরেছি- বিকেলে নিশ্চিন্তপুর এলাকায় মনু নদীতে নামার পর মুজিবুর ভারতীয় সীমানায় চলে গেলে বিএসএফ তাকে গুলি করে। তার মরদেহ ঘটনাস্থলেই পড়ে আছে।’

এদিকে শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়ন (৪৬ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘সীমান্ত এলাকায় গুলির ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।’

বিএনপি সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম মাসে অর্থাৎ ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সীমান্তে কোনো হত্যাকাণ্ড ঘটেনি, যা ইতিবাচক হিসেবে প্রশংসিত হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে (মার্চ, এপ্রিল, মে ও জুন) সীমান্ত পরিস্থিতি অবনতি হয়।

জুন মাসে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির মাসিক প্রতিবেদনে বলা হয়, শুধু মে মাসে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ছয়টি হামলার ঘটনায় ছয়জন নিহত ও ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজন গুলিবিদ্ধ। এছাড়া বিএসএফের হাতে ১৪ জন বাংলাদেশি আটক হয়েছেন।

আইন ও সালিশ কেন্দের (আসক) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ৯ মে পর্যন্ত কমপক্ষে ছয় বাংলাদেশি নাগরিক সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর গুলি ও নির্যাতনে নিহত হয়েছেন।

অন্যদিকে গত মে মাসের শেষভাগ থেকে ভারত থেকে পুশইনের চেষ্টা আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেড়েছে। বিশেষ করে ভারতে সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের পর এই প্রবণতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।


সিলেটের খবর এর আরও খবর