img

মোহাম্মদপুরে মা-মেয়ে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত সেই গৃহকর্মী গ্রেপ্তার

প্রকাশিত :  ০৭:৪১, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫

মোহাম্মদপুরে মা-মেয়ে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত সেই গৃহকর্মী গ্রেপ্তার

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডের একটি ফ্ল্যাটে মা ও মেয়েকে হত্যার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত গৃহকর্মী আয়েশাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, আজ বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুরে বরিশালের নলছিটি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মোহাম্মদপুর থানার ওসি মেজবাহ উদ্দিন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

তিনি বলেছেন, মোহাম্মদপুরে মা-মেয়েকে হত্যার ঘটনায় গৃহকর্মীকে ঝালকাঠি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

এর আগে এই জোড়া খুনের ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন গৃহকর্মী আয়েশাকে শনাক্ত করেছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

এর আগে পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্র জানায়, তরুণীর পরিচয় শনাক্ত হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে তা গ্রেপ্তারের পর প্রকাশ করা হবে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদেই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে তদন্তসংশ্লিষ্টদের ধারণা।

গত সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সকালে শাহজাহান রোডের ১৪ তলা ভবনের সপ্তম তলায় লায়লা আফরোজ (৪৮) ও তার মেয়ে নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিয়াকে (১৫) ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এই জোড়া হত্যার ঘটনায় সোমবার রাতে নিহত লায়লা আফরোজের স্বামী আ জ ম আজিজুল ইসলাম মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, সোমবার সকাল ৭টার দিকে আজিজুল ইসলাম স্কুলে যাওয়ার পর স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। বাসায় ফিরে তিনি স্ত্রী ও মেয়ের লাশ দেখতে পান। এজাহারে আরও উল্লেখ আছে, বাসা থেকে একটি মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, স্বর্ণালংকার, নগদ টাকাসহ বেশ কিছু মূল্যবান জিনিসপত্র খোয়া গেছে।

ভবনের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, হত্যার পর এক নারী স্কুলড্রেস পরে কাঁধে ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন। চার দিন আগে আয়েশা পরিচয় দিয়ে গৃহকর্মীর কাজ নেওয়া প্রায় ২০ বছর বয়সী এই তরুণীকে জোড়া খুনের সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করছেন স্বজনেরা।

সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, আয়েশা সেইদিন সকাল ৭টা ৫১ মিনিটে বাসায় প্রবেশ করেন এবং সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে নাফিসার স্কুলড্রেস পরে পালিয়ে যান।  

তদন্তসূত্র বলছে, গৃহকর্মী নিজের আসল নাম ও ঠিকানা গোপন করেছিলেন এবং বাসার কাজে যোগ দেওয়ার সময় সঙ্গে কোনো মোবাইল ফোনও ছিল না। পরে যে ফোনটি নিয়ে গেছেন, সেটি বাসা থেকে বেরিয়েই বন্ধ করেন। আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার বেশির ভাগই অচল থাকায় তাকে শনাক্ত করতে ম্যানুয়ালভাবে বিভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়েছে। 

সুরতহাল প্রতিবেদনে বলা হয়, লায়লা আফরোজের শরীরে প্রায় ৩০টি এবং নাফিসার দেহে ৪টি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেজবাহ উদ্দিন জানিয়েছেন, হত্যার কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার সকালে মা-মেয়ের মরদেহ নাটোরে পৌরসভার দক্ষিণ বড়গাছায় নেওয়া হয়। জোহরের নামাজের পর জানাজা শেষে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।


জাতীয় এর আরও খবর

img

আজকের পর আমাদের প্রার্থীরা কোনো দলের না, ১১ দলীয় ঐক্যের: নাহিদ

প্রকাশিত :  ২০:১৭, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

৪৭টি আসন ফাঁকা রেখে ২৫৩ আসনে সমঝোতা করেছে জামায়াত-এনসিপিসহ ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটের ১০টি দল। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেয়ার জন্য আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আজকের পর থেকে আমাদের কোনো দলের প্রার্থী থাকবে না, প্রার্থী হবে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। জামায়াতসহ ১১ দলের নির্বাচনী ঐক্যের চূড়ান্ত ঘোষণা দিতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলন থেকে জানানো হয়, মোট ২৫৩টি আসনের প্রার্থিতা নিয়ে জোটের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। এর মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি ৩০টি আসনে নির্বাচন করবে। তবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ কয়েকটি দলের জন্য বরাদ্দ আসনের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আজকে এক ঐতিহাসিক মুহূর্তে আমরা উপস্থিত হয়েছি। যেখানে সংস্কার ও বাংলাদেশের আজাদির পক্ষে থাকা এবং বৈষম্য ও দুর্নীতিবিরোধী অনেকগুলো দল একত্রে একটি প্ল্যাটফর্মে এসেছি। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন এবং গণভোটে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

তিনি বলেন, এখন থেকে কোনো প্রার্থী আর নিজ দলের পরিচয়ে পরিচিত হবেন না। প্রতিটি আসনে তারা জোটের অভিন্ন প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। জোটের প্রতিটি সদস্য দল তাদের ব্যক্তিগত দলীয় পরিচয় বিসর্জন দিয়ে একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে সমবেত হয়েছে। সারা বাংলাদেশের সব আসনে এখন থেকে আমাদের নির্দিষ্ট কোনো দলের প্রার্থী থাকবে না। আজ থেকে প্রতিটি প্রার্থীই এই ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের একক প্রতিনিধি হিসেবে বিবেচিত হবেন। জনগণের ম্যান্ডেট পাওয়ার জন্য এবং বৈষম্যবিরোধী লক্ষ্য অর্জনে এই সংহতি অপরিহার্য। 

এই নির্বাচনী ঐক্যকে ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত ও ঐতিহাসিক যাত্রা’ মন্তব্য করে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘গণ-অভ্যুত্থানের পরে আমরা যে আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে এগিয়ে যেতে চাইছি, (তা বাস্তবায়নে) আসন্ন নির্বাচনে এই পরীক্ষার মধ্য দিয়ে আমাদের উৎরাতে হবে।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘গণ–অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ; মহান মুক্তিযুদ্ধের সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের বাংলাদেশ এবং আমাদের ১৯৪৭ সালের আজাদির লড়াই—সব ঐতিহাসিক লড়াইকে ধারণ করে আসন্ন নির্বাচন ও গণভোটে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব। সারা বাংলাদেশের সব আসনে আমাদের কোনো দলের প্রার্থী থাকবে না। আজকের ঘোষণার পর থেকে নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী হিসেবেই তারা বিবেচিত হবেন।’

সংবাদ সম্মেলনে সূচনা বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। মুখ্য বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। এছাড়া নাহিদ ইসলাম, এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ ও খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের বক্তব্য দেন। ১১ দলের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন।

মঞ্চে ছিলেন এনসিপির মুখপাত্র ও সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির হাবীবুল্লাহ মিয়াজী, নেজামে ইসলাম পার্টির আমির সরওয়ার কামাল আজিজী, বিডিপির সভাপতি এ কে এম আনোয়ারুল হক, জাগপার জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি রাশেদ প্রধান প্রমুখ। তবে ১১–দলীয় ঐক্যের অন্যতম শরিক ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেউ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন না।

জাতীয় এর আরও খবর