img

ন্যাম ভবনে দ্বিতীয় স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ, এমপি নজরুল ও প্রথম স্ত্রী পুলিশ হেফাজতে

প্রকাশিত :  ১৮:৩৭, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ন্যাম ভবনে দ্বিতীয় স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ, এমপি নজরুল ও প্রথম স্ত্রী পুলিশ হেফাজতে

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তাকে ও তার প্রথম স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শেরেবাংলা নগর থানায় নেওয়া হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ ইবনে মিজান রাত ১০টার দিকে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, সন্ধ্যা সাতটার দিকে ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের দোতলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট একটি ঝুলন্ত মরদেহের খবর পাওয়া যায়। পরে শেরেবাংলা নগর থানার পুলিশ, সিআইডি, পিবিআই ও ডিবির দল ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে গিয়ে পুলিশ জানতে পারে, কক্ষটি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্যের।

মোহাম্মদ ইবনে মিজান বলেন, সিআইডি ঘটনাস্থলে ক্রাইম সিনের কাজ করেছে। থানা-পুলিশ মরদেহের সুরতহাল করেছে। পরে পরিচয় নিশ্চিত হয়ে জানা যায়, ওই নারী সংসদ সদস্যের দ্বিতীয় স্ত্রী।

মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।

গাজী নজরুল ইসলাম জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়নে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। গত জুলাইয়ে তাঁর ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে এক তরুণীর সঙ্গে তাঁকে দেখা যায়। পরে গাজী নজরুল ইসলাম জানান, ওই তরুণী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুন।

এরপর ২২ জুলাই জামায়াতে ইসলামী গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে। দলটির পক্ষ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে চিঠি দেওয়া হয়।

জাতীয় এর আরও খবর

img

আশুলিয়ায় পোশাক কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭

প্রকাশিত :  ১৮:৪৩, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৯:৩১, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাভারের আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় প্রীতি গ্রুপের এফএনএস কারখানার ভেতরে থাকা একটি লরির গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজনের নাম জয়নাব বেগম বলে জানা গেছে।

তিনি কারখানার পাশে একটি কাপড়ের দোকান করতেন। এ ছাড়া বাকি ৬ জনের মরদেহ আগুনে পুড়ে যাওয়ায় তাদের পরিচয় জানা যায়নি বলে জানিয়েছেন ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যার হাউস ইন্সপেক্টর আব্দুস সালাম। 

এ ছাড়াও আগুনে কারখানার কর্মচারী ও পথচারীসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। তাদেরকে উদ্ধার করে স্থানীয় নারী ও শিশুস্বাস্থ্য হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে। 

রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে জামগড়া চৌরাস্তা এলাকার প্রীতি গ্রুপের এফএনএস পোশাক কারখানার লরিতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় ২ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। 

জিরাবো ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার শাহাবুদ্দিন বলেন, সন্ধ্যায় আগুন লাগার খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে আসি।

সাভার ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট এবং জিরাবো মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের ৬ ইউনিটের টানা দুই ঘণ্টার চেষ্টায় রাত পৌনে ৯টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। 

ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যার হাউস ইন্সপেক্টর আব্দুস সালাম বলেন, কারখানার বাইরে সিলিন্ডার ভর্তি লরিতে বিস্ফোরণের ঘটনায় ওই লরিগুলোর পাশ থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে একজনের লাশ লরির ভেতরে পাওয়া গেছে এবং বাকিদের মরদেহ লরির পাশে পড়েছিল। এ ছাড়া সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে পার্শ্ববর্তী একটি দোকানে গিয়ে পড়লে জয়নাব বেগম নামে সেখানকার এক দোকানি মারা গিয়েছে।

এ ছাড়া অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আহতদেরকে উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করেন স্থানীয়রা।

তবে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষ বলে জানান এই কর্মকর্তা। 

প্রীতি গ্রুপের এফএনএস কারখানার অ্যাডমিন-ম্যানেজার হেমায়েত উদ্দিন বলেন, ‘কারখানার সীমানা ঘেরা প্রাচীরের পাশে থাকা লরির সিলিন্ডার বিস্ফোরণে আগুন লাগে। তবে কারখানার ভেতর কোনো শ্রমিক আটকে নেই। এর আগেই সবাই বাইরে চলে এসেছেন। কিন্তু কাভার্ড ভ্যানের পাশে থাকা বেশ কয়েকজন অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গেছে। 

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী রনি বলেন, ‘বিস্ফোরণের শব্দে ও আগুনে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আমি নিজে দুজন দগ্ধ ও গুরুতর আহত এক শ্রমিককে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছি। এ ছাড়া কারখানার পাশে রাস্তায় থাকা রিকশাচালকসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণে বয়লার বা পাইপের লোহার খণ্ড উড়ে গিয়ে পাশের বাড়িঘর ও রাস্তায় পড়ে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। 

আশুলিয়ার নারী ও শিশু হাসপাতালের ব্যবস্থাপক হারুন অর রশীদ বলেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আমাদের হাসপাতালে এখন পর্যন্ত ১৬ জন ব্যক্তি ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে তিনজনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় এবং তাদের পুরো শরীর দগ্ধ হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ঢামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।