img

স্বাভাবিক হচ্ছে গ্যাস সরবরাহ, কমছে সংকট

প্রকাশিত :  ০৬:০২, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্বাভাবিক হচ্ছে গ্যাস সরবরাহ, কমছে সংকট

প্রায় দুই মাস পর দেশের গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি আবারও সংকট শুরুর আগের পর্যায়ে ফিরেছে। মহেশখালীর দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) থেকে গ্যাস সরবরাহ প্রায় স্বাভাবিক হয়ে আসায় শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে গ্যাসের চাপও কিছুটা কমেছে। ফলে সাম্প্রতিক সময়ের তুলনায় গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতিতে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।

তবে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ ঘাটতি এখনো ১২৫ কোটি ঘনফুট।

পেট্রোবাংলার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুপুরে দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ হয়েছে দৈনিক ২৬১ কোটি ঘনফুট (এমএমসিএফডি)। এর মধ্যে দুটি ভাসমান টার্মিনাল থেকে ৯৯ কোটি এবং দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে ১৬২ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে।

এক প্রতিবেদনে ডেইলি স্টার জানায়, ২১ জুলাই একটি ভাসমান টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির পর এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে।

এর আগে দুটি টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন প্রায় ১০০ কোটি ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ হতো। তখন দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল ২৬০ থেকে ২৬৫ কোটি ঘনফুট। টার্মিনালে ত্রুটির পর সরবরাহ কমে যাওয়ায় শিল্প-কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হয় এবং কমে যায় বিদ্যুৎ উৎপাদন। আবাসিক গ্রাহকরাও গ্যাসের চাপ নিয়ে ভোগান্তিতে পড়েন।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম জানান, কয়েক সপ্তাহ ধরে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো দৈনিক প্রায় ৮৭ কোটি ঘনফুট গ্যাস পেলেও এখন তা বেড়ে ৯৫ কোটি ঘনফুট হয়েছে। বরাদ্দ বাড়ায় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রায় পাঁচ হাজার ৫০০ মেগাওয়াটে পৌঁছাতে পারে।

পাওয়ার গ্রিড কম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) হিসাবেও এর প্রতিফলন দেখা গেছে। গতকাল গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে পাঁচ হাজার ৪৭৪ মেগাওয়াট। সংকটের সময় তা প্রায়ই পাঁচ হাজার মেগাওয়াটের নিচে বা কাছাকাছি ছিল।

এর আগে সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্যবসায়ী নেতাদের জানিয়েছিলেন, এলএনজি সরবরাহ বাড়ায় মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে গ্যাস ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে। তবে সরবরাহ বাড়লেও দেশের দীর্ঘদিনের গ্যাসঘাটতি কাটেনি। সরকারি হিসাবে, দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮৬ কোটি ঘনফুট। বর্তমান সরবরাহেও ঘাটতি রয়েছে ১২৫ কোটি ঘনফুট, যা মোট চাহিদার প্রায় ৩২ শতাংশ।

আগস্টে দেশে গ্যাসের গড় সরবরাহ নেমে এসেছিল ২২৩ দশমিক ৫ কোটি ঘনফুটে। এতে নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী ও গাজীপুরসহ শিল্পাঞ্চলের অনেক কারখানায় উৎপাদন কমানো, ইউনিট বন্ধ রাখা কিংবা ব্যয়বহুল বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের পরিস্থিতি তৈরি হয়।

এদিকে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন কমে প্রায় ১৬০ কোটি ঘনফুটে নেমে আসায় এলএনজির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। এর মধ্যে কাতার থেকে এলএনজি সরবরাহে বাধা তৈরি হওয়ায় বাংলাদেশকে স্পট মার্কেট থেকে জরুরি ভিত্তিতে এলএনজি কিনতে হচ্ছে। যুদ্ধের আগে স্পট মার্কেটে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম ১০ থেকে ১২ ডলার থাকলেও এখন তা প্রায় ৩০ ডলারে উঠেছে।

জাতীয় এর আরও খবর

img

একনেকে অনুমোদন পেল ৩ মেট্রোরেল প্রকল্প

প্রকাশিত :  ০৯:৩৩, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীর তিনটি মেট্রোরেল প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত একনেকের বৈঠকে প্রকল্প তিনটির অনুমোদন দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেকের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পগুলো হলো— মেট্রো রেল লাইন-৫ সাউদার্ন রুট, মেট্রো রেল লাইন-১ এবং মেট্রো রেল লাইন-৫ নর্দান রুট।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, তিনটি মেট্রো রেল প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকা।

প্রকল্পগুলোর মধ্যে জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) অর্থায়নে এমআরটি লাইন-১ (বিমানবন্দর-কমলাপুর) ও এমআরটি লাইন-৫ নর্দান (হেমায়েতপুর-ভাটারা) প্রকল্পের সংশোধিত ব্যয় প্রস্তাব রয়েছে।
পাশাপাশি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ অর্থায়নে নতুন এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন (গাবতলী-দাশেরকান্দি) প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, শুরুতে একনেকের মূল এজেন্ডায় শুধু এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন প্রকল্পটি উপস্থাপনের কথা ছিল। তবে পরে সমন্বিত অগ্রগতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জাপানের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন এমআরটি লাইন-১ ও এমআরটি লাইন-৫ নর্দান প্রকল্পের ব্যয় ও মেয়াদ সংশোধনের প্রস্তাবও একই সভায় উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জাইকার অর্থায়নে ৩১ দশমিক ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি লাইন-১ বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৩৯৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা।
২০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এমআরটি লাইন-৫ নর্দান প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৯ হাজার ৮৪৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।

আর ১৩ দশমিক ১০ কিলোমিটার পাতালপথসহ মোট ১৭ দশমিক ২০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা।

জাতীয় এর আরও খবর