img

ব্রিকসের যৌথ ঘোষণায় ঐকমত্য, নিন্দা ‘সব ধরনের আগ্রাসনের’

প্রকাশিত :  ১০:৫৫, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ব্রিকসের যৌথ ঘোষণায় ঐকমত্য, নিন্দা ‘সব ধরনের আগ্রাসনের’

ভারতের নয়াদিল্লিতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন শুরুর আগেই যৌথ ঘোষণার বিষয়ে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। শনিবার বিকেলে এ ঘোষণাপত্র প্রকাশের কথা রয়েছে।

ঘোষণায় কোনো দেশের নাম সরাসরি উল্লেখ না করে সব ধরনের আগ্রাসনের নিন্দা জানানো হবে। পাশাপাশি চলমান সংঘাত ও বিরোধ মেটাতে সংলাপ এবং কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরা হবে।

এনডিটিভি জানিয়েছে, শনিবার বিকেল ৪টায় ‘ব্রিকস নিউ দিল্লি ডিক্লারেশন’ প্রকাশ করা হবে। এর আগে রয়টার্স চারটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছিল, নেতারা ঘোষণাপত্রটি অনুমোদন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যৌথ ঘোষণায় কী ধরনের ভাষা ব্যবহার করা হবে, তা নিয়ে ব্রিকসের সদস্যদেশগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য ছিল। বিশেষ করে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের অবস্থানের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য থাকায় ঐকমত্যে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছিল।

এবারের সম্মেলনের আগে ব্রিকসের কূটনীতিকেরা কয়েক দিন ধরে যৌথ ঘোষণার ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন। শেষ পর্যন্ত এমন একটি ভাষায় ঐকমত্য হয়েছে, যা ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত-দুই দেশই মেনে নিতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

চলমান যুদ্ধের কারণে আগস্টে ইরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেন স্থগিত করে সংযুক্ত আরব আমিরাত। যুদ্ধের সময় আমিরাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনাও ঘটেছে।

এর আগে মে মাসে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে ইরান ও আমিরাতের মতপার্থক্যের কারণে কোনো যৌথ বিবৃতি দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে এবার সদস্যদেশগুলোকে একটি অভিন্ন অবস্থানে আনতে পারাকে ভারতের কূটনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভারত এবার ব্রিকসের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছে। দেশটি মধ্যপ্রাচ্যের সংকট মোকাবিলায় ‘সংলাপ ও কূটনীতিকে’ সমাধানের পথ হিসেবে তুলে ধরছে। একই সঙ্গে জ্বালানি নিরাপত্তা এবং সরবরাহ বহনকারী জাহাজের নিরাপদ চলাচলের ওপরও জোর দিচ্ছে নয়াদিল্লি।

বৈশ্বিক অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক নীতিনির্ধারণে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে চাইছে ব্রিকস। জোটের কয়েকটি দেশ বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) মতো প্রতিষ্ঠানে সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছে। তাদের অভিযোগ, এসব প্রতিষ্ঠানে পশ্চিমা দেশগুলোর প্রভাব বেশি।

এবারের সম্মেলনে বাণিজ্য সহযোগিতা বাড়ানো, বাণিজ্যিক বাধা কমানো এবং ব্যবসার সুযোগ সম্প্রসারণে জোর দিচ্ছে ভারত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ইসরায়েল, ইরান ও উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের ভারসাম্য ধরে রাখার চেষ্টা করছেন।

নয়াদিল্লির এবারের সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা এবং আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানসহ জোটের নেতারা অংশ নিচ্ছেন।

ব্রিকসের সদস্যদেশগুলোর সম্মিলিত জনসংখ্যা বিশ্বের ৪০ শতাংশের বেশি। বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও তাদের অংশ প্রায় এক-চতুর্থাংশ। সূত্র- এনডিটিভি ও রয়টার্স

 


জাতীয় এর আরও খবর

img

হাম ও হামের উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু

প্রকাশিত :  ১১:০০, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃত্যু ১ হাজার ১৯ জনে দাঁড়াল। গত একদিনে নতুন করে ৮৫৫ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ দেখা গেছে। 

শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে শনিবার পর্যন্ত সারাদেশে হাম ও হামের উপসর্গে মোট ১ হাজার ১৯ জনের প্রাণহানি হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গে ৯১৯ জন ও হামে আক্রান্ত হয়ে ১০০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৩৯ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে আরও ৮১৬ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে শনিবার পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৭০ হাজার ৬৩৮ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এই সময়ে মোট ২০ হাজার ৬ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৫০ হাজার ২০২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৪৮৫ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।


জাতীয় এর আরও খবর