সৌদির ডাকে সাড়া দেননি ট্রাম্প, বাব এল-মান্দেবের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে হুতিরা
ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা শুক্রবার লোহিত সাগরের একটি দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। এই দ্বীপটি জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বাব এল-মান্দেব প্রণালির মাঝখানে অবস্থিত। এটি দখলের মধ্য দিয়ে তারা প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার প্রচেষ্টা সম্পন্ন করেছে।
আল-জাজিরার সাংবাদিক মাহা আলি ইয়েমেনের্ তাইজ শহর থেকে জানান, বৃহস্পতিবার ভোরে হুতি যোদ্ধারা উপকূলীয় শহর আল-মাখায় পৌঁছান। শহরটি মোখা নামেও পরিচিত। পরে তারা উপকূলের কাছের কয়েকটি দ্বীপ দখল করতে সমুদ্রের দিকে অগ্রসর হন।
শুক্রবার ইয়েমেন সরকারের কয়েকটি সূত্র রয়টার্সকে জানায়, হুতি যোদ্ধারা বাব আল-মান্দেব উপকূলের ধুবাব শহরেও পৌঁছেছেন।
সরকারি বাহিনী সরে যাওয়ার পর যোদ্ধাবাহী নৌকা বাব আল-মান্দেব প্রণালির কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত মায়ুন দ্বীপে পৌঁছেছে বলে সরকারি কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। দ্বীপটি পেরিম নামেও পরিচিত।
একটি সূত্র এএফপিকে বলেছে, ‘বাব আল-মান্দেব এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার কাজ হুতিরা সম্পন্ন করেছে।’
সানাভিত্তিক ইয়েমেন প্রেস এজেন্সি মাঠপর্যায়ের সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, হুতি বাহিনী প্রণালির ওপর নজরদারির কৌশলগত আল-ওমারি সামরিক ক্যাম্পও দখল করেছে।
তবে সানা থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক নাবিল আল-ইউসুফি জানান, বাব আল-মান্দেবের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বিষয়ে হুতি সরকারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
হুতিদের ভান্ডারে রয়েছে জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রসহ ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র। ছবি : ইউএসএনআই ডটক ওআরজি
বাব আল-মান্দেব লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রবেশদ্বার। একই সঙ্গে এটি সৌদি আরবের তেল টার্মিনালগুলোর দিকে যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ পথ। হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে এই পথে ইউরোপে অপরিশোধিত তেল পাঠানো সম্ভব।
এর আগে জাহাজ চলাচল লক্ষ্য করে হুতিদের ধারাবাহিক হামলার কারণে লোহিত সাগরে নৌযান চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল।
সানা থেক আল জাজিরার সাংবাদিক ইউসুফ মাওরি বলেন, ‘এখন হুতিদের হাতই শক্তিশালী। তাদের হাতে চাপ প্রয়োগের ক্ষমতা রয়েছে। তারা বাব আল-মান্দেব এবং লোহিত সাগর দিয়ে চলাচলকারী নৌযান নিয়ন্ত্রণ করছে।’
হুতিদের পেছনে ঠেলে দিতে ইয়েমেন সরকারের বাহিনী পাল্টা অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে; এমন লক্ষণও খুব একটা দেখা যাচ্ছে না বলে জানান তিনি।
হুতিদের অগ্রযাত্রার খবরের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের গড় দাম গ্যালনপ্রতি ৬ ডলার ছাড়িয়েছে। শুক্রবার বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে থেকে লেনদেন শেষ হওয়ার পথে ছিল। মে মাসের মাঝামাঝির পর এই প্রথম তেলের দাম এতটা বাড়ল।
শুক্রবার আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) পূর্বাভাস দিয়েছে, চলতি বছর বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহ ও চাহিদা আগের ধারণার চেয়েও বেশি কমতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের স্বাভাবিক তেল সরবরাহ ব্যবস্থা ২০২৭ সাল পর্যন্ত ব্যাহত হতে পারে বলেও সংস্থাটি জানিয়েছে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল রপ্তানি বাধাগ্রস্ত করে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের ওপর সফলভাবে চাপ সৃষ্টি করেছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ কমে যাওয়ার পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে তেলের দামও বেড়েছে।
সূত্র : আল-জাজিরা



















