img

রুমিন ফারহানার বক্তব্য ঘিরে সংসদে ব্যাপক হট্টগোল, গালাগালের অভিযোগ

প্রকাশিত :  ১৯:১৫, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৯:২০, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রুমিন ফারহানার বক্তব্য ঘিরে সংসদে ব্যাপক হট্টগোল, গালাগালের অভিযোগ

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার বিএনপি সরকারের তীব্র সমালোচনামূলক বক্তব্যকে ঘিরে জাতীয় সংসদে ব্যাপক হট্টগোল ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ‘ব্যাংক রেজোল্যুশন (সংশোধন) বিল’-এর ওপর আলোচনা চলাকালে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সরকারি দলের সদস্যদের তুমুল হইচইয়ের কারণে কিছু সময়ের জন্য অধিবেশনের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এ সময় রুমিন ফারহানা অভিযোগ করেন, তিনি বক্তব্য দেওয়ার সময় সরকারি দলের দিক থেকে তাকে লক্ষ্য করে অশালীন ভাষায় গালাগাল করা হয়েছে।

বিলের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘প্রত্যেকটা সরকারের একটা চরিত্র থাকে। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর গ্যাস–বিদ্যুৎ সংকট হবে না, এটা হইতে পারে না। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আবার সারের সংকট হবে না, গরিব কৃষক সারকারখানায় গিয়ে সেটা লুট করবেন না; সেটাও হতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি সরকারের আমলে দেশ দুর্নীতিতে শীর্ষে এবং ঋণখেলাপির পরিমাণ ৬ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। বর্তমান সংসদকে ‘অসহিষ্ণু’ আখ্যা দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের মেয়াদের আচরণের সঙ্গে তুলনা করে তিনি দাবি করেন, এই সংসদের অধিকাংশ সদস্যই ঋণখেলাপি, যারা নির্বাচনের আগে উচ্চ আদালতের রিটের মাধ্যমে নাম কাটান।

রুমিনের এমন বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে সরকারি দলের সদস্যরা সমস্বরে চিৎকার ও হট্টগোল শুরু করেন। নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে মাইক বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও রুমিন দাঁড়িয়ে মাইক ছাড়াই কথা বলতে থাকেন এবং স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানান যে তাকে অশালীন গালি দেওয়া হচ্ছে। এ সময় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদও দাঁড়িয়ে এর প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, একজন সংসদ সদস্যকে এভাবে গালি দেওয়া যায় না।

উত্তপ্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে সভাপতির আসনে থাকা ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল সংসদ সদস্যদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্ট করেন, প্রত্যেক সদস্যেরই সংসদে নিজের বক্তব্য উপস্থাপনের পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে। বক্তব্য চলাকালে বাধা দেওয়া গণতান্ত্রিক রীতিনীতির পরিপন্থী উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো বক্তব্য অসংসদীয় হলে তা কার্যবিবরণী থেকে বাদ (এক্সপাঞ্জ) দেওয়ার এখতিয়ার স্পিকারের রয়েছে। একই সঙ্গে হাউসের সার্বিক শৃঙ্খলা রক্ষায় নিজ দলের সদস্যদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চিফ হুইপকে তার দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দেন ডেপুটি স্পিকার।

পরবর্তীতে আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, কোনো সদস্যের বক্তব্য অসংসদীয় হলে স্পিকার রুলিং দিতে পারেন কিংবা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী তার জবাব দিতে পারেন। অন্যদিকে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি দাবি করেন, বর্তমান সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছে এবং সদস্যদের বক্তব্য উপস্থাপনে সংযত হওয়া দরকার। পরে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী অনাকাঙ্ক্ষিত এ পরিস্থিতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মূল অর্থনৈতিক সংস্কারের বিল নিয়ে আলোচনা না করে সম্পূর্ণ একটি অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করা দুঃখজনক।


জাতীয় এর আরও খবর

img

ভারতে ব্রিকস সম্মেলনে যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ১০:৩৪, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আসন্ন ব্রিকস সম্মেলনে ভারতে যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অনুকূল পরিবেশ হলেই প্রধানমন্ত্রী ভারতে দ্বিপক্ষীয় সফরে যাবেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

বৃহস্পতিবার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রোহিঙ্গা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তৃতা করে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি এ কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রীর এই বক্তব্যে তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে দুদেশের মধ্যে যে আশা-নিরাশার দোলাচল চলছিল সেটির অবসান ঘটল। 

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ব্রিকসের অষ্টাদশতম শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর। এ সম্মেলনের আয়োজক ভারত। নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে সরকার প্রধান তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, আগামী সপ্তাহে ভারতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নিচ্ছেন না। ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে যে প্রক্রিয়ায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, তাতে সন্তুষ্ট নয় ঢাকা। তবে সরকারপ্রধানের ভারতে দ্বিপক্ষীয় সফর হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণ প্রশ্নে কিছুদিন ধরেই আলোচনা চলছিল। সবশেষ ৪ সেপ্টেম্বর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছিলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ নিয়ে তাদের কাছে নতুন কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই।

বৃহস্পতিবার প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে ব্রিকসে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। অনুকূল পরিবেশ হলেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারতে দ্বিপক্ষীয় সফরে যাবেন।

বাংলাদেশ ব্রিকসের সদস্য না হলেও বর্তমানে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রীকে সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল দিল্লি। তবে শেষ পর্যন্ত সেই আমন্ত্রণে সাড়া দিচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে গেল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানও ভারতের আমন্ত্রণ জানানোর প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি জানান। তিনি বিষয়টিকে ‘সিরিয়াসলি’ নেওয়ার কথাও বলেন।

সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কাজের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেছিলেন, সরকার শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে চায় কি না, কেউ কেউ এ ধরনের স্পেকুলেট করছেন। কেউ কেউ এটা আসলে চায় না, ভারতের ওপর একটা চাপ তৈরির জন্য।

তিনি সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, আমরা একটা কথা খুব ক্লিয়ারলি বলতে চাই—মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সঙ্গে যখন এটাকে কন্ডিশন হিসেবে দেওয়া হয়েছে, ইউ হ্যাভ টু টেক ইট সিরিয়াসলি।


জাতীয় এর আরও খবর