img

সংসদে আরও ১০ স্থায়ী কমিটি, সভাপতি পদে নেই বিরোধীদলের কেউ

প্রকাশিত :  ১৯:৩৯, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সংসদে আরও ১০ স্থায়ী কমিটি, সভাপতি পদে নেই বিরোধীদলের কেউ
জাতীয় সংসদে নতুন করে আরও ১০টি স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব কমিটির কোনো একটির সভাপতির পদেও বিরোধী দলের সদস্যকে রাখা হয়নি।
আজ রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি আলাদাভাবে ১০টি কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেন। পরে সেগুলো কণ্ঠভোটে পাস হয়।

এর আগে, বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ১০টি সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়। এর একটিতেও বিরোধী দল থেকে সভাপতি দেওয়া হয়নি। এর প্রতিবাদে বিরোধী দলের অধিকাংশ সদস্যকে আসন ছেড়ে সংসদ কক্ষ ত্যাগ করতে দেখা যায়। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে ওয়াকআউটের ঘোষণা দেননি তারা।

জাতীয় সংসদের মোট সংসদীয় কমিটি ৫০টি। এর মধ্যে মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত ৩৯ ও বিষয়ভিত্তিক ১১টি সংসদীয় কমিটি রয়েছে। সর্বশেষ গঠিত এই ১০টিসহ এখন পর্যন্ত ৩৬টি কমিটি গঠন করা হলো। এর মধ্যে শুধু সরকারি হিসাব কমিটির সভাপতি দেওয়া হয়েছে বিরোধী দল থেকে।

খাদ‌্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি করা হয়েছে আবদুস সালাম পিন্টুকে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবুল খায়ের ভূঁইয়াকে এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি করা হয়েছে মুন্সী রফিকুল আলমকে।

এ ছাড়া স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি করা হয়েছে জয়নুল আবদিন ফারুককে।

মৎস‌্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি খায়রুল কবির খোকন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মাহমুদা হাবীবা, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি বরকতউল্লা বুলু ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি করা হয়েছে আবদুল ওয়াদুদ ভূঁঞাকে।

এ ছাড়া রোববার কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বদলে বিএনপির আরেক সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেনকে এ কমিটির সভাপতি করা হয়েছে।

জাতীয় এর আরও খবর

img

আটক ব্যক্তিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার না দেখালে ‘গুম’ হিসেবে গণ্য হবে: চিফ প্রসিকিউটর

প্রকাশিত :  ১১:৪৮, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাউকে আটক করার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদালতে হাজির করে গ্রেপ্তার না দেখালে সেটিকে আর সাধারণ আটক হিসেবে বিবেচনা করা হবে না। বরং ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার পরের সময়কে গুমের ঘটনা হিসেবে গণ্য করার সুযোগ তৈরি হবে। এ ক্ষেত্রে আটক ব্যক্তির আইনগত অধিকার নিশ্চিত করা এবং তার অবস্থান সম্পর্কে পরিবারকে অবহিত করাও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে ৬ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’ এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন পাস হয়। নতুন আইনকে গুমের অভিযোগের বিচার ও প্রতিকারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন চিফ প্রসিকিউটর।

গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন পাস হওয়াকে স্বাগত জানিয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনগত মাইলফলক। এর আগে এ বিষয়ে একটি অধ্যাদেশ থাকলেও তার কার্যকর প্রয়োগ দেখা যায়নি। নতুন আইন গুমের শিকার ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারের বিচার ও প্রতিকার পাওয়ার পথ আরও সুস্পষ্ট করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

চিফ প্রসিকিউটর জানান, অতীতে সংঘটিত গুমের অভিযোগগুলোও নতুন আইনের আলোকে পর্যালোচনা করা হবে। ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের বিচার পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারের নতুন আইনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আইনের কোনো সাংঘর্ষিক অবস্থান তৈরি হবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত ২৫১টি গুমের ঘটনা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে তদন্ত করছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। এসব ঘটনায় একই ধরনের পদ্ধতি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ায় ঘটনাগুলোকে ‘ব্যাপক ও পদ্ধতিগত হামলা’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আমিনুল ইসলাম। ইতোমধ্যে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের জবানবন্দি নেওয়া শুরু হয়েছে।


জাতীয় এর আরও খবর