img

তরুণ উদ্যোক্তাদের সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা অর্থায়ন দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক, মিলবে যেভাবে

প্রকাশিত :  ১১:৩৬, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৪:১৯, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তরুণ উদ্যোক্তাদের সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা অর্থায়ন দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক, মিলবে যেভাবে

উপজেলা পর্যায় থেকে সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তা বাছাই করে তাদের অর্থায়নের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত প্রতিটি উদ্যোক্তাকে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন করা হবে। এর মধ্যে ৫০ শতাংশ থাকবে ব্যাংক ঋণ এবং বাকি ৫০ শতাংশ দেওয়া হবে অনুদান হিসেবে।

বৃহস্পতিবার (৩ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচির বিস্তারিত জানানো হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস ডিপার্টমেন্টের উদ্যোগে কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করা হবে।

কর্মসূচির আওতায় তফসিলি ব্যাংকগুলো তাদের বিদ্যমান শাখা নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে উপজেলা পর্যায়ে সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান ও চিহ্নিত করবে। পরে উদ্যোক্তার ব্যবসায়িক ধারণা ও প্রকৃত অর্থের চাহিদা যাচাই করে অর্থায়ন করা হবে।

নির্বাচিত উদ্যোক্তাদের জন্য সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকার অর্থায়ন প্যাকেজ নির্ধারণ করা হয়েছে। গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের সুদ বা মুনাফার হার সর্বোচ্চ ৪ থেকে ৫ শতাংশ হবে। এ ঋণের জন্য কোনো সহায়ক জামানত প্রয়োজন হবে না।

তবে নির্ধারিত সময়ে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে অনুদানের অর্থ সুদবিহীন ঋণে রূপান্তরিত হবে। পাশাপাশি ঋণ হিসাবটি প্রচলিত নিয়মে শ্রেণিকৃত হয়ে খেলাপি হিসেবে বিবেচিত হবে। ফলে সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা ভবিষ্যতে ঋণ পাওয়ার যোগ্যতা হারাবেন।

বাংলাদেশের প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের মধ্যে আবেদনের শেষ তারিখে বয়স সর্বোচ্চ ২৮ বছর এবং সংশ্লিষ্ট উপজেলার বাসিন্দা হলে এ কর্মসূচিতে আবেদন করা যাবে। আগে থেকে ব্যবসা পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকা বাধ্যতামূলক নয়। তবে আবেদনকারীর একটি বাস্তবসম্মত ব্যবসায়িক ধারণা থাকতে হবে।

কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, হস্তশিল্প, মৎস্য, পশুপালন, পর্যটন, সেবা ও প্রযুক্তিভিত্তিকসহ সব ধরনের বৈধ উদ্যোগ এ কর্মসূচির আওতায় বিবেচনা করা হবে। আবেদন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা যাবে। সংশ্লিষ্ট উপজেলার বাসিন্দারা যেকোনো তফসিলি ব্যাংকের শাখায় নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে পারবেন।

কর্মসূচির বিস্তারিত নির্দেশনা সংবলিত সার্কুলার আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর জারি করা হবে। সার্কুলার জারির পর এক মাস আবেদন গ্রহণ করা হবে।

প্রাথমিকভাবে আট বিভাগের আট জেলা—মানিকগঞ্জ, ফেনী, নওগাঁ, ঝিনাইদহ, ভোলা, হবিগঞ্জ, রংপুর ও নেত্রকোনার ৬৪টি উপজেলায় কর্মসূচি শুরু হবে। প্রতিটি উপজেলা থেকে ১০ জন করে মোট ৬৪০ জন তরুণ উদ্যোক্তা নির্বাচিত হবেন।

পরবর্তী সময়ে দেশের অন্যান্য জেলার উপজেলাতেও কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হবে। তখন প্রতি বছর প্রায় ৫ হাজার তরুণ উদ্যোক্তাকে অর্থায়ন ও সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, শুধু অর্থায়ন নয়, নির্বাচিত উদ্যোক্তাদের উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞ মেন্টরের পরামর্শ, ব্যবসা নিবন্ধন ও ব্যবসায়িক পরিকল্পনা তৈরিতে সহায়তা এবং বাজার সংযোগের সুযোগও দেওয়া হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রত্যাশা, এ উদ্যোগের মাধ্যমে সফল ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরির পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং উপজেলা পর্যায়ের তরুণরা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন।


জাতীয় এর আরও খবর

img

রাজধানীতে কালো ধোঁয়ার গাড়ি দেখলেই ব্যবস্থা

প্রকাশিত :  ০৭:৪৫, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীর সড়কে কালো ধোঁয়া নির্গত করতে দেখা গেলেই সংশ্লিষ্ট যানবাহনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত জুলাই মাসে কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে ৯১৫টি মামলা দায়ের করেছে ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগ।

ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) আনিছুর রহমান এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানান। 

আনিছুর রহমান বলেন, রাজধানীতে কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহন অহরহ চলাচল করছে। তবে গাড়ির মান বা ফিটনেস নিশ্চিত করা ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। ট্রাফিক পুলিশ মূলত আইন ভঙ্গ হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়। প্রতিবছর গাড়িগুলো বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কাছ থেকে ফিটনেস সনদ নেয়। সাধারণত গাড়ির ইঞ্জিনে সমস্যা হলে কালো ধোঁয়া বের হয়। আবার জ্বালানির মান ভালো না হলেও দ্রুত ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের কথা শোনা যায়। কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে ট্রাফিক পুলিশ নিয়মিত মামলা করছে। মামলার পরিসংখ্যান দেওয়া সম্ভব হলেও, শুধু পরিসংখ্যান প্রকাশ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না।

কালো ধোঁয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত শব্দ, ত্রুটিপূর্ণ ইঞ্জিন বা নিম্নমানের জ্বালানি ব্যবহারের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শব্দ দূষণের জন্য গত মাসে প্রচুর মামলা হয়েছে। 

আনিছুর রহমান বলেন, আমরা নীরব এলাকা ঘোষণা করেছি, সাইনবোর্ড দিয়েছি। কিন্তু ওই সাইনবোর্ড কেউ পড়ে না। নীরব এলাকা শুরু কোনটা, শেষ কোনটা—এটাও কেউ দেখে না। কেউ সারাক্ষণ হর্ন বাজাচ্ছে। এজন্য যদি আপনি মামলা করতে চান তাহলে আবার প্রমাণ দরকার।


জাতীয় এর আরও খবর