img

‘অতীতে তো স্পিকারকে পিটিয়ে মারা হয়েছে এই সংসদে’

প্রকাশিত :  ১০:০৯, ৩১ আগষ্ট ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১১:০৬, ৩১ আগষ্ট ২০২৬

‘অতীতে তো স্পিকারকে পিটিয়ে মারা হয়েছে এই সংসদে’

গত ২৭ আগস্ট ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম দিনে বিরোধী দলের হইচইয়ের মধ্যে কথাটি বলেছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সেদিন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল সংসদ। বিরোধী দলের সদস্যরা অভিযোগ করছিলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেছেন। আপত্তি, হইচই ও হট্টগোলে একপর্যায়ে সংসদের কার্যক্রমে অচলাবস্থার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়।

পরিস্থিতি শান্ত করতে গিয়ে স্পিকার টেনে আনেন সংসদের অতীতের একটি কালো অধ্যায়। কিন্তু তার সেই মন্তব্যের পরই সামনে আসে একটি প্রশ্ন- কোন স্পিকারকে হত্যা করা হয়েছিল?

গত রোববার (৩০ আগস্ট) সংসদে স্থায়ী কমিটি গঠন ও পুনর্গঠন নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরও প্রসঙ্গটি তোলেন। তিনি বলেন, ‘অতীতে তো স্পিকারকে পিটিয়ে মারা হয়েছে, ডেপুটি স্পিকার শাহেদ আলী সাহেবকে হত্যা করা হয়েছে, জুতা ছোড়াছুড়ি হয়েছে। আমরা সেই কালো ইতিহাসে ফিরে যেতে চাই না।’

তাহলে কী ঘটেছিল সেই সংসদে?

উত্তর খুঁজতে হলে ফিরতে হবে প্রায় ৬৮ বছর আগে, ১৯৫৮ সালের সেপ্টেম্বরে। তবে একটি বিষয় শুরুতেই পরিষ্কার করা দরকার। যে ঘটনাটির কথা বলা হচ্ছে, সেটি বর্তমান জাতীয় সংসদ ভবনে ঘটেনি। তখন পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক পরিষদের অধিবেশন চলছিল। সেই পরিষদ ভবনও আজকের জাতীয় সংসদ ভবন নয়।

আর সেই রক্তাক্ত ঘটনার কেন্দ্রে ছিলেন স্পিকার আব্দুল হাকিম এবং ডেপুটি স্পিকার শাহেদ আলী।

১৯৫৮ সালে পূর্ব পাকিস্তানের রাজনীতি ছিল তীব্র অস্থির। আতাউর রহমান খানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায়। অন্যদিকে প্রাদেশিক পরিষদের স্পিকার ছিলেন আব্দুল হাকিম। তিনি ছিলেন আইনজীবী, সাহিত্যিক এবং শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের কৃষক শ্রমিক পার্টির নেতা। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনের পর তিনি প্রাদেশিক পরিষদের স্পিকার নির্বাচিত হন।

স্পিকার হিসেবে আব্দুল হাকিমের সঙ্গে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সম্পর্ক ক্রমেই তিক্ত হয়ে উঠছিল। আওয়ামী লীগের অভিযোগ ছিল, তিনি নিরপেক্ষতার সীমা ছাড়িয়ে সরকারের বিরোধিতা করছেন। অন্যদিকে স্পিকারের অবস্থান ছিল, পরিষদের নিয়ম ও স্পিকারের ক্ষমতার প্রশ্নে তিনি আপস করবেন না।

এই টানাপোড়েন একপর্যায়ে সরাসরি স্পিকারকে অপসারণের উদ্যোগে গড়ায়।

১৯৫৮ সালের ২০ সেপ্টেম্বর স্পিকার আব্দুল হাকিমের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব ওঠে। প্রস্তাবটি পাস হওয়ার পর ২৩ সেপ্টেম্বর ডেপুটি স্পিকার শাহেদ আলীর সভাপতিত্বে পরিষদের অধিবেশন বসে। এরপর যা ঘটেছিল, তা পাকিস্তান আমলের সংসদীয় ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ ঘটনা হয়ে আছে।

শাহেদ আলী যখন স্পিকারের চেয়ারে বসেন, বিরোধী সদস্যরা সেটি মেনে নেননি। উত্তপ্ত বিতর্ক দ্রুত হাতাহাতিতে গড়ায়। এরপর আর সংসদীয় বিতর্কের মধ্যে ঘটনাটি আটকে থাকেনি।

ছোড়া হতে থাকে কাগজপত্র, পেপারওয়েট, চেয়ার ও আসবাবের অংশ। মাইক্রোফোনের স্ট্যান্ডও ব্যবহৃত হয় অস্ত্র হিসেবে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায়, একপর্যায়ে ডেপুটি স্পিকার শাহেদ আলী মাথায় গুরুতর আঘাত পান। তিনি রক্তাক্ত হয়ে পড়ে যান। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

তৎকালীন ঘটনাবলি নিয়ে বিভিন্ন প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় আঘাতের ধরন ও সংঘর্ষের বিবরণে কিছু পার্থক্য রয়েছে। তবে মূল ঘটনাটি নিয়ে ঐতিহাসিক সূত্রগুলোতে বড় ধরনের মতভেদ নেই: ২৩ সেপ্টেম্বর ১৯৫৮ পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদে ভয়াবহ সংঘর্ষে ডেপুটি স্পিকার শাহেদ আলী গুরুতর আহত হন এবং কয়েক দিন পর তার মৃত্যু হয়।

ঘটনাটি এতটাই নজিরবিহীন ছিল যে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও তা গুরুত্ব পায়।

তৎকালীন ‘Time’ ম্যাগাজিন ঘটনাটিকে ‘Death in the Chair’ শিরোনামে প্রকাশ করে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিষদে প্রথমে স্পিকার আব্দুল হাকিমকে কেন্দ্র করে সরকার ও বিরোধীদের সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে ডেপুটি স্পিকার শাহেদ আলী তার জায়গায় সভাপতিত্ব করতে গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। তাকে মাথায় আঘাত করা হয় এবং তিনি গুরুতর আহত হন। দুই দিন পর তার মৃত্যু হয়।

অন্যদিকে ‘বাংলাপিডিয়া’র তথ্য অনুযায়ী, শাহেদ আলীকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং ঘটনার চতুর্থ দিন, ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯৫৮ তিনি মারা যান।

প্রাদেশিক পরিষদের ডেপুটি স্পিকার শাহেদ আলী

আইনজীবী ও রাজনীতিক শাহেদ আলী ১৮৯৯ সালে চাঁদপুর জেলার মতলব থানার আশ্বিনপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। দর্শন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা শেষে তিনি আইন পেশায় যুক্ত হন এবং পরবর্তী সময়ে তৎকালীন বঙ্গ ও পূর্ববঙ্গের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

শাহেদ আলী ১৯২১ সালে ঢাকা কলেজ থেকে দর্শনে বিএ (অনার্স) এবং ১৯২৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শনে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯২৫ সালে তিনি বিএল ডিগ্রি লাভ করেন। পরের বছর, ১৯২৬ সালে, কুমিল্লা জেলা বারে আইনজীবী হিসেবে যোগ দেন।

১৯২৯ সালে শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নেতৃত্বাধীন কৃষক প্রজা পার্টিতে যোগদানের মধ্য দিয়ে শাহেদ আলীর রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয়। তিনি দলটির কেন্দ্রীয় ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য এবং কুমিল্লা জেলা শাখার সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৩৭ সালে তিনি বঙ্গীয় আইনসভার সদস্য নির্বাচিত হন।

১৯৫৩ সালে এ কে ফজলুল হকের নেতৃত্বে কৃষক শ্রমিক পার্টি গঠিত হলে শাহেদ আলী তার রাজনৈতিক নেতৃত্ব অনুসরণ করে দলটিতে যোগ দেন। তিনি কৃষক শ্রমিক পার্টির ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য ছিলেন। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে শাহেদ আলী পূর্ববঙ্গ প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। পরের বছর, ১৯৫৫ সালে, তিনি পরিষদের ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন। ১৯৫৮ সালে তিনি কৃষক শ্রমিক পার্টি ছেড়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেন।

আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করা শাহেদ আলী প্রায় তিন দশক ধরে সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কৃষক প্রজা পার্টি, কৃষক শ্রমিক পার্টি ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে তার রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ছিল। বঙ্গীয় আইনসভার সদস্য এবং পরবর্তীতে পূর্ববঙ্গ প্রাদেশিক পরিষদের ডেপুটি স্পিকার হিসেবে তিনি তৎকালীন রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

শেখ মুজিবের ভূমিকা নিয়ে যা বলা হয়েছিল?

শাহেদ আলীর মৃত্যুর পর তৎকালীন রাজনৈতিক অঙ্গনে অভিযোগ ওঠে, সংঘর্ষে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ভূমিকা ছিল। এসব অভিযোগের মধ্যে শেখ মুজিবুর রহমানের নামও আসে।

১৯৯৮ সালে এ বিষয়ে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন তৎকালীন প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য হাশিমউদ্দিন আহমেদ (ময়মনসিংহ জেলার একজন প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ ও সাবেক সংসদ সদস্য) দাবি করেছিলেন, সংঘর্ষের সময় শেখ মুজিবের হাতে হান্টার ছিল এবং তিনি স্পিকারের দিকে এগিয়ে গিয়েছিলেন। পরে শাহেদ আলীকে রক্তাক্ত অবস্থায় পুলিশ নিয়ে যায়।

তবে তার এই সাক্ষাৎকারটি ‘প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি ও পরবর্তী রাজনৈতিক বয়ান হিসেবে’ উপস্থাপন করাই শ্রেয়। কেননা, ঘটনাটির দায় নির্ধারণে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের পরস্পরবিরোধী অভিযোগ পাওয়া যায়। ঐতিহাসিক সূত্রে নিশ্চিতভাবে প্রতিষ্ঠিত বিষয় হলো, পরিষদে সংঘর্ষের মধ্যে শাহেদ আলী গুরুতর আহত হন এবং পরে মারা যান।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী তৎকালীন প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য, কথাশিল্পী ও ভাষাসৈনিক অধ্যাপক শহীদ আলীর বর্ণনা অনুযায়ী, ওই দিন পরিষদে উত্তপ্ত পরিস্থিতির একপর্যায়ে গ্যালারি থেকে ডেপুটি স্পিকার শহীদ আলীর দিকে খাতাপত্র ও ডাস্টার ছোড়া হয়। পরে পরিষদে ব্যাপক হট্টগোল ও সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন তাকে ধরে তার চেয়ারের দিকে নিয়ে যান। এরপর সশস্ত্র পুলিশ পরিষদকক্ষে প্রবেশ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। ঘটনার কয়েক দিন পর ডেপুটি স্পিকার শহীদ আলীর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।

অধ্যাপক শহীদ আলীর দাবি, তিনি পুরো ঘটনাটি পরিষদকক্ষে উপস্থিত থেকে প্রত্যক্ষ করেছিলেন। তার বর্ণনায়, ওই ঘটনার পর তৎকালীন শ্রমিক পার্টি সংবাদপত্রে বিবৃতি দিয়ে অভিযোগ তোলে। একই সঙ্গে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জার কাছে পাঠানো এক টেলিগ্রামেও ঘটনার জন্য শেখ মুজিবকে দায়ী করা হয়েছিল।

তৎকালীন রাজনীতিতে অবশ্য শেখ মুজিবকে ঘিরে অভিযোগ থেমে থাকেনি। কৃষক শ্রমিক পার্টির পক্ষ থেকেও অভিযোগ তোলা হয়েছিল বলে বিভিন্ন বর্ণনায় উল্লেখ আছে। শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের পক্ষ থেকেও অভিযোগের কথা পরবর্তী রাজনৈতিক লেখায় এসেছে।

আসল ইতিহাসটি কী?

ইতিহাসের দলিলগুলো অন্তত একটি বিষয়ে স্পষ্ট। ১৯৫৮ সালের সেপ্টেম্বরে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদে স্পিকার আব্দুল হাকিমকে ঘিরে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী পক্ষের সংঘাত চরমে পৌঁছেছিল। স্পিকারকে সরানোর রাজনৈতিক লড়াই, ডেপুটি স্পিকার শাহেদ আলীর সভাপতিত্ব গ্রহণ এবং সেটিকে কেন্দ্র করে পরিষদে ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়। সেই সংঘর্ষে শাহেদ আলী গুরুতর আহত হন এবং ২৬ সেপ্টেম্বর মারা যান।

অর্থাৎ, সংসদে সম্প্রতি বলা ‘স্পিকারকে পিটিয়ে মারা হয়েছে’ কথাটির পেছনে রয়েছে একটি রক্তাক্ত ইতিহাস। ১৯৫৮ সালে আইনপ্রণেতাদের সংঘর্ষে সংসদকক্ষই পরিণত হয়েছিল সহিংসতার ময়দানে।

তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনও জরুরি। জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেছেন, ‘স্পিকারকে হত্যা করা হয়েছে’; এ তথ্য সত্য নয়। ১৯৫৮ সালে নিহত ব্যক্তি ছিলেন ডেপুটি স্পিকার শাহেদ আলী। স্পিকার আব্দুল হাকিমের মৃত্যু হয়েছিল ১৯৬৮ সালে।

তাছাড়া, বর্তমান সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের বক্তব্যে ‘স্পিকার হত্যা’ বলা হলেও, ইতিহাসের নির্দিষ্ট ঘটনাটি ছিল ‘ডেপুটি স্পিকার শাহেদ আলীর মৃত্যু’।


জাতীয় এর আরও খবর

img

নবম-দশম ওয়েজ বোর্ড একসঙ্গে বাস্তবায়ন হবে: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা

প্রকাশিত :  ০৭:৪৭, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নতুন জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের পাশাপাশি সাংবাদিকদের সুযোগ-সুবিধার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

তিনি বলেছেন, সাংবাদিকদের চাকরি ও জীবিকার নিশ্চয়তা দিতে না পারলে ভালো সাংবাদিকতা পাওয়া সম্ভব নয়। এ কারণে নবম ও দশম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নসহ সাংবাদিকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে সরকার দ্রুত কাজ করবে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি জানাতে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

বেসরকারি সংবাদপত্র ও টেলিভিশনে কর্মরত সাংবাদিকদের জন্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং নবম ও দশম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নের বিষয়ে জানতে চাইলে জাহেদ উর রহমান বলেন, সাংবাদিকদের বিষয়টি ‘রিয়েল প্রবলেম’। ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংকটসহ এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কাজ করছে।

একপর্যায়ে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, অষ্টম ওয়েজ বোর্ডের পর নবম ওয়েজ বোর্ডের আলোচনা হলেও এর বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে দাবি থাকা দশম ওয়েজ বোর্ডও বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। জবাবে উপদেষ্টা বলেন, অবশ্যই বাস্তবায়ন..., আমি আপনার সঙ্গে দ্বিমত করছি না।

নবম ও দশম ওয়েজ বোর্ড একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা হবে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একসঙ্গে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, নিশ্চয়ই করবো এবং আমি এটা একেবারেই একমত নীতিগতভাবে। আমরা যদি সাংবাদিকদের চাকরি এবং তাদের জীবিকাকে সঠিকভাবে নিশ্চয়তা দিতে না পারি, আমরা বেটার জার্নালিজম পাবো না। এ বিষয়ে দ্রুত কাজ করার কথাও জানান তিনি।

ব্রিফিংয়ে মূল্যস্ফীতি ও নতুন বেতন কাঠামো নিয়েও কথা বলেন জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি ৫ থেকে ৬ শতাংশের মধ্যে থাকলে তা সহনীয় ও ভালো বলা যায়। কিন্তু দেশের মূল্যস্ফীতি দীর্ঘদিন ধরে দুই অঙ্কে ছিল এবং তা ডাবল ডিজিট অতিক্রম করেছে। বর্তমানে অবশ্য কিছুটা কমেছে।

নতুন পে-স্কেলের কারণে মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা আছে কিনা? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বিপুলসংখ্যক মানুষের বেতন বাড়লে কিছুটা মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবে নতুন বেতন কাঠামোয় সবার বেতন দ্বিগুণ হয়ে যাবে বিষয়টি এমন নয়।

তার ভাষ্য, দীর্ঘদিন নতুন বেতন স্কেল না হওয়ায় অনেক সরকারি কর্মচারীর নিয়মিত ইনক্রিমেন্টের মাধ্যমে বর্তমান বেতন নতুন স্কেলের কাছাকাছি চলে গেছে। ফলে নতুন স্কেল কার্যকর হলে অনেকের বেতন প্রত্যাশিত হারে বাড়বে না।

তিনি বলেন, নতুন স্কেলে বেতন ১০০ শতাংশ বাড়ার বিষয়টি দেখে মনে হতে পারে সবার বেতন দ্বিগুণ হয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি সেরকম নয়। অনেক জ্যেষ্ঠ কর্মচারী নিয়মিত ইনক্রিমেন্টের কারণে নতুন স্কেলের বেতনের কাছাকাছি পর্যায়ে পৌঁছে গেছেন।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে এই উপদেষ্টা বলেন, মূল্যস্ফীতির কারণগুলো মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংক তার হাতে থাকা বিভিন্ন নীতিগত উপকরণ ব্যবহার করে কাজ করবে। পাশাপাশি সরকারও প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ নেবে।

মূল্যস্ফীতিতে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দিতে সরকারের সামাজিক সহায়তা বাড়ানোর উদ্যোগের কথাও জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, বছরের শেষ নাগাদ ৪০ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে। বর্তমানে এ নিয়ে নিবিড়ভাবে কাজ চলছে এবং প্রায় নিখুঁত একটি তালিকা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।

৪০ লাখ পরিবারে গড়ে পাঁচজন সদস্য ধরলে প্রায় দুই কোটি মানুষ এই সহায়তার আওতায় আসবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দুই কোটি মানুষের কাছে প্রতি মাসে এই সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

এছাড়া খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি, ওএমএস ও টিসিবির পণ্য বিক্রির আওতাও বাড়ানো হয়েছে বলে জানান তিনি। এর মাধ্যমে মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে সুরক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।

জাতীয় এর আরও খবর