img

যানজট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে একগুচ্ছ নির্দেশনা

প্রকাশিত :  ১৫:০৯, ২৯ আগষ্ট ২০২৬

যানজট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে একগুচ্ছ নির্দেশনা

ঢাকা শহরের যানজট নিরসন, ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং পরিবহণ খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে  অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে ঢাকা মহানগরীর চলমান যানজট পরিস্থিতি, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ফ্লাইওভারে যানবাহনের চাপ, গণপরিবহণ ব্যবস্থাপনা, বাস টার্মিনাল পুনর্বিন্যাস, পার্কিং ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকে এক্সপ্রেসওয়ে ও ফ্লাইওভারের টোল প্লাজাগুলোতে ইটিসি (ইলেক্ট্রনিক টোল কালেকশন) সিস্টেম চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মাধ্যমে টোল আদায় ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, দ্রুত ও প্রযুক্তিনির্ভর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে একটি অ্যাপ ডেভেলপমেন্টের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আগামী চার মাসের মধ্যে এ কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। 

যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান ফ্লাইওভারের যানজট নিরসন

যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান ফ্লাইওভারের আশপাশে দীর্ঘদিনের যানজট নিরসনের বিষয়েও বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দেওয়া আগের প্রস্তুত করা প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে যানজট নিরসনে করণীয় নির্ধারণের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

এ বিষয়ে বুয়েটকে বিদ্যমান প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ একটি প্রতিবেদন আগামী ১৫ দিনের মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক পুলিশের সমন্বয়ে এ কার্যক্রম বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়।

ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনাল কেরানীগঞ্জে স্থানান্তর

ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও সুশৃঙ্খল করতে ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনাল সরিয়ে কেরানীগঞ্জে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ করে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এই বাস টার্মিনালটি স্থানান্তর করা হলে রাজধানীর কেন্দ্রীয় অংশে বাস ও আন্তঃজেলা যানবাহনের চাপ কমানোর পাশাপাশি যানজট নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে বৈঠকে আলোচনা হয়। স্থায়ী বাস টার্মিনাল নির্মাণ যেহেতু দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প তাই আগামী চার মাসের মধ্যে ঝিলমিল প্রকল্পের ১৫ একর জমিতে একটি অস্থায়ী বাস টার্মিনাল নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয় বৈঠকে। 

গাবতলী বাস টার্মিনাল সম্প্রসারণ

সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং যানবাহন ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করার লক্ষ্যে গাবতলী বাস টার্মিনালের পেছনের অংশ সম্প্রসারণের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয় বৈঠকে।

এ কাজ দ্রুত বাস্তবায়নে সড়ক বিভাগ, ট্রাফিক পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেট গাবতলীতে স্থানান্তর

রাজধানীর যানজট কমাতে কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেট সরিয়ে গাবতলীতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বৈঠকে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

সচিবালয়ের আশপাশে পার্কিং ব্যবস্থা

সচিবালয়ের চারপাশে যানজট নিরসনে পার্কিং ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।

এ লক্ষ্যে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত হয়। একই সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী বিকল্প পার্কিংয়ের স্থানও অনুসন্ধান করতে বলা হয়। সচিবালয়কেন্দ্রিক যানবাহনের চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং আশপাশের সড়কে চলাচল স্বাভাবিক রাখতে এ উদ্যোগ নেওয়া হবে। 

অটোরিকশা চলাচলে নীতিমালা

ঢাকা শহরে অটোরিকশা চলাচলকে আরও সুশৃঙ্খল ও নিয়ন্ত্রিত করতে একটি পৃথক নীতিমালা প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অনুমোদনহীন ডাবল ডেকার স্লিপার বাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

এ ছাড়া অনুমোদনহীন ডাবল ডেকার স্লিপার বাসের চলাচলের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর যানজট নিরসনে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কাজগুলো সম্পন্ন করতে সবার আন্তরিক প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এ সময় বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

জাতীয় এর আরও খবর

img

ইউপি নির্বাচনে থাকবে না দলীয় প্রতীক: শামা ওবায়েদ

প্রকাশিত :  ০৬:২৪, ৩০ আগষ্ট ২০২৬

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন দলীয় প্রতীক ছাড়াই অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তার মতে, প্রতীক না থাকলে দলীয় পরিচয়ের বদলে প্রার্থীদের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, সততা, যোগ্যতা ও ভোটারদের সঙ্গে সম্পর্কই নির্বাচনে বেশি গুরুত্ব পাবে। এতে স্থানীয় পর্যায়ে প্রার্থীদের নিজস্ব গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ তৈরি হবে।

শনিবার ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসবকথা বলেন।

শামা ওবায়েদ বলেন, নির্বাচনকে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ রাখতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

সালথা ও নগরকান্দা এলাকায় দাঙ্গা-হাঙ্গামা ও সংঘাতের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করা হচ্ছে জানিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করাই প্রধান লক্ষ্য। কোনো পক্ষ যাতে সংঘাত সৃষ্টি করে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে না পারে, সে বিষয়ে নজর রাখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, সালথা-নগরকান্দায় দাঙ্গা-হাঙ্গামা রোধে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। কোনো ঘটনা বা বিরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হলে তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি গুজব ও উসকানিমূলক প্রচারণা থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। আইন নিজের হাতে না তুলে নিয়ে যেকোনো অভিযোগ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরামর্শও দেন।

নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিনের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন নগরকান্দা সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মুহম্মদ আল ফাহাদ, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) খায়রুল হাসান, নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ এবং নগরকান্দা প্রেসক্লাবের সভাপতি শওকত আলী শরিফ।

সভায় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাবিবুর রহমান বাবুল তালুকদার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান মুকুল, সহসভাপতি আলিমুজ্জামান সেলু ও মাহবুব আলী মিয়া, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি আসাদুজ্জামান আছাদ, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান তারা মোল্লা, পৌর যুবদলের সাবেক সভাপতি তৈয়াবুর রহমান এবং জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেলাল উদ্দিন হেলালসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্যরা।

সভায় নগরকান্দা উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ, সড়কে শৃঙ্খলা রক্ষা, সন্ত্রাস ও কিশোর অপরাধ দমনসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ মোকাবিলায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এসব বিষয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও স্থানীয় নাগরিকদের সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।


জাতীয় এর আরও খবর