দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ১৬৩ জন, যা চলতি বছরে এক দিনে সর্বোচ্চ। একই সময়ে ডেঙ্গুতে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট ৯৭ জনের মৃত্যু হলো। এর মধ্যে শুধু আগস্ট মাসেই মারা গেছেন ৪৩ জন। এ ছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে জানানো হয়, শনিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ১৬৩ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৫ হাজার ৮৪৬ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড় পেয়েছেন ১ হাজার ১৭ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩৩ হাজার ২০৫ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে, ৪৬৪ জন। এ ছাড়া খুলনা বিভাগে ২৮৩ জন, বরিশালে ১৩২, চট্টগ্রামে ১২০, ময়মনসিংহে ৬৯ এবং রাজশাহীতে ৮৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
সাগর-রুনী হত্যার দুই দিন আগে রোকেয়া প্রাচীর কাছ থেকে নেওয়া হয় দুটি সিডি, কী ছিল এতে?
প্রকাশিত :
০৬:৩২, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বহুল আলোচিত সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনী হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন করে সামনে এসেছে দুটি সিডির তথ্য। তদন্তে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের মাত্র দুই দিন আগে সামরিক এক কর্মকর্তার নির্দেশে তাঁর এক সহকারী সাংস্কৃতিক কর্মী রোকেয়া প্রাচীর কাছ থেকে সিডি দুটি সংগ্রহ করেছিলেন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ওই সামরিক কর্মকর্তার নির্দেশে একজন সার্জেন্ট রোকেয়া প্রাচীর কাছ থেকে দুটি সিডি নিয়ে যান। এর দুই দিন পর, ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় খুন হন সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনী।
তবে ওই দুটি সিডিতে ঠিক কী ধরনের তথ্য বা নথি ছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্তকারীদের ধারণা, সিডিগুলোতে তৎকালীন বিডিআর হত্যাকাণ্ডসংক্রান্ত কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, ডকুমেন্টারি বা নথি থাকতে পারে। সাগর-রুনী হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ওই সিডির কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, সেটিও এখন যাচাই করা হচ্ছে।
সম্প্রতি অন্য একটি মামলার তদন্তে কল ডিটেইল রেকর্ড পর্যালোচনা করতে গিয়ে সাগর-রুনী হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে রোকেয়া প্রাচীর যোগাযোগের সম্ভাব্য তথ্য পাওয়ার কথা জানান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিমের বিশেষ তদন্তকারী কর্মকর্তা তানভীর হাসান জোহা।
তিনি জানান, পাওয়া তথ্য ও প্রমাণ সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা হবে। এরপর সাগর-রুনী হত্যা মামলার তদন্তকারীরা বিষয়টি যাচাই করবেন।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ওই সাবেক সামরিক কর্মকর্তা এবং রোকেয়া প্রাচীর মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। তাঁদের যোগাযোগের সঙ্গে সাংবাদিক দম্পতি হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর সাগর ও রুনীর দুটি ল্যাপটপ এবং সাগরের মোবাইল ফোন নিখোঁজ হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এসব ডিভাইস এখনো উদ্ধার হয়নি। অন্যদিকে রুনীর মোবাইল ফোন ও বাসায় থাকা মূল্যবান স্বর্ণালংকার অক্ষত ছিল। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে এসব বিষয়ও নতুন করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
রোকেয়া প্রাচীর সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সম্পর্কের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, যোগাযোগ, সিডি এবং নিখোঁজ ডিভাইসসহ প্রতিটি বিষয় তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে যাচাই করা হবে।
সাগর-রুনী হত্যা মামলা বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তাধীন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন জানিয়েছে, অন্য মামলার তদন্তে পাওয়া সাগর-রুনী হত্যাকাণ্ডসংক্রান্ত নির্ভরযোগ্য তথ্য পিবিআইকে দেওয়া হবে।