img

আসিফ-পাটওয়ারীর ভোটার এলাকা বদল, নেপথ্যে কী?

প্রকাশিত :  ১৪:৩৪, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আসিফ-পাটওয়ারীর ভোটার এলাকা বদল, নেপথ্যে কী?

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দুই শীর্ষ নেতার ভোটার এলাকা পরিবর্তনের ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকার ভোটার হয়েছেন। বিপরীতে দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ঢাকা দক্ষিণ থেকে ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে হয়েছেন ঢাকা উত্তরের আফতাবনগর এলাকার ভোটার।

একই সময়ে দুই নেতার বিপরীতমুখী ভোটার এলাকা পরিবর্তনকে ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে—আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কি তাদের জন্য বড় কোনো রাজনৈতিক পরিকল্পনা করছে এনসিপি?

এর আগে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উত্তরা এলাকার ঢাকা-১৮ আসনের ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত ছিলেন।

সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ভোটার এলাকা পরিবর্তনের জন্য আবেদন করেন তিনি। আবেদন যাচাই-বাছাই ও প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক নথিপত্র পরীক্ষা শেষে তা অনুমোদন করে নির্বাচন কমিশন।

অন্যদিকে, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া আগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত ছিলেন। সম্প্রতি তার ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন আফতাবনগরে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ভোটার এলাকা পরিবর্তনের জন্য ইসির নির্ধারিত ফরম-১৩-এর মাধ্যমে আবেদন করেন আসিফ মাহমুদ। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও দাপ্তরিক নথিপত্র পরীক্ষা শেষে তার আবেদনও অনুমোদন করেছে নির্বাচন কমিশন।

দুই নেতার ভোটার এলাকা পরিবর্তনের বিষয়টি এমন সময়ে সামনে এলো, যখন আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর সম্ভাব্য প্রার্থী ও নির্বাচনী কৌশল নিয়ে আলোচনা চলছে।

ফলে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ঢাকা দক্ষিণে এবং মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার ঢাকা উত্তরে ভোটার হওয়াকে নিছক ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন না অনেকে।

এখন প্রশ্ন উঠছে—আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এনসিপি কি আসিফ মাহমুদকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে মেয়র প্রার্থী করার কথা ভাবছে? নাকি ভোটার এলাকা পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে অন্য কোনো রাজনৈতিক সমীকরণ?

এ বিষয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক শীর্ষ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সোমবার বিকালে যুগান্তরকে বলেন, দুই সিটিতে আমরা এনসিপির জয় চাই। এ দুই এলাকা থেকে তাদের মনোনয়ন দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি। সে পরিপ্রেক্ষিতেই তারা নির্বাচনি এলাকা পরিবর্তন করেছেন।

এদিকে, এনসিপির দুই শীর্ষ নেতার ভোটার এলাকা পরিবর্তন নিয়ে পৃথক দুটি পোস্ট করেছেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল কাদের।

একটি পোস্টে তিনি লেখেন, ‘শুনলাম নাসীর ভাই নাকি ঢাকা দক্ষিণ থেকে ইলেকশন করতেছে! এক্ষেত্রে জামাত থেকে তার প্রতিদ্বন্দ্বী হবেন সাদিক কায়েম। এখন পাটওয়ারী যদি একটু করে তার কামানের গোলাটা জামাতের দিকে ঘুরিয়ে দেন; তাহলে এতোদিন যারা তারে তালি দিছেন তারা এবার গালি দিবেন?’

আলাদা পোস্টে আব্দুল কাদের লেখেন, ‘আসিফ ভাই নাকি ঢাকা উত্তরে নির্বাচন করবেন। এই সিদ্ধান্তটা সুইটেবল। উনার যে ধরনের ক্যারেক্টার, চিন্তাভাবনা; সেটার সঙ্গে ঢাকা উত্তরের পরিবেশ এবং মানুষের চিন্তাভাবনার ভাইভ ম্যাচ করবে। আশাকরছি, ভালো কম্বিনেশন হবে।’


জাতীয় এর আরও খবর

img

ডেঙ্গুতে ৯ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৫৭১

প্রকাশিত :  ১২:৫৯, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে এডিস মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরও ১ হাজার ৫৭১ জন।

আজ মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে গতকাল সোমবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে এখন পর্যন্ত ১৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে আগস্ট মাসেই মারা গেছে ৪৩ জন। এ ছাড়া জানুয়ারিতে দুই, ফেব্রুয়ারিতে দুই, মে মাসে এক, জুনে ১৩ ও জুলাইয়ে ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরে এখন পর্যন্ত মারা গেছে ৩৩ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ১৯৬, দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ১৩৪ ও ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের বাইরে ৪০৮ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে।

অন্যান্য বিভাগের মধ্যে বরিশালে ১৪২, চট্টগ্রামে ১৭৭, খুলনায় ২৪২, ময়মনসিংহে ৭৭, রাজশাহীতে ১১৬, রংপুরে ৭১ ও সিলেটে আটজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু নিয়ে ৪৫ হাজার ৪৭৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪২ হাজার ১২৭ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছে ৩ হাজার ২১৮ জন।


জাতীয় এর আরও খবর