img

ভারত-বাংলাদেশের ট্রেন পরিষেবা আবারও চালুর উদ্যোগ

প্রকাশিত :  ০৫:২৫, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভারত-বাংলাদেশের ট্রেন পরিষেবা আবারও চালুর উদ্যোগ

নিরাপত্তাজনিত কারণে ২০২৪ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়া ভারত-বাংলাদেশের আন্তঃদেশীয় ট্রেন চলাচল পুনরায় চালুর বিষয়টি এবার আনুষ্ঠানিক আলোচনায় উঠছে। কলকাতা-ঢাকা, কলকাতা-খুলনা এবং নিউ জলপাইগুড়ি-ঢাকা রুটের মৈত্রী, বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেস ফের চালুর প্রস্তাব ঢাকায় শুরু হওয়া দুই দিনের আন্তঃসরকার রেলওয়ে বৈঠকের (আইজিআরএম) আলোচ্যসূচিতে রাখা হয়েছে। খবর এনডিটিভির।

মঙ্গলবার (০৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় শুরু হচ্ছে ভারত ও বাংলাদেশের রেল কর্তৃপক্ষের দুই দিনের এই বৈঠক। প্রতিবছর অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দুই দেশের রেল মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আন্তঃদেশীয় ট্রেন চলাচল, রেল অবকাঠামো, মালবাহী পরিবহন ও বিভিন্ন যৌথ প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করেন।

এবারের বৈঠকে ২০২৪ সালের পর প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে তিনটি আন্তঃদেশীয় যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর বিষয়টি আলোচনা হবে। বৈঠকে সমঝোতা হলে কলকাতা ও নিউ জলপাইগুড়ি থেকে চলাচলকারী তিনটি ট্রেন আগামী মাস থেকেই ফের চালু হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

মৈত্রী এক্সপ্রেস কলকাতা ও ঢাকার মধ্যে চলাচলকারী আন্তর্জাতিক ট্রেন। এটিই ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে চালু হওয়া প্রথম আন্তঃদেশীয় ট্রেন। প্রায় ৩৭৫ থেকে ৪০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে ট্রেনটির সময় লাগে প্রায় ৯ ঘণ্টা। গেদে-দর্শনা সীমান্ত দিয়ে এটি বাংলাদেশে প্রবেশ করে।

কলকাতা-খুলনা রুটে চলাচল করে বন্ধন এক্সপ্রেস। প্রায় ১৮০ কিলোমিটারের এ পথ পাড়ি দিতে সময় লাগে সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা। পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ট্রেনটি বাংলাদেশে প্রবেশ করে।

অন্যদিকে নিউ জলপাইগুড়ি ও ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের মধ্যে সপ্তাহে দুদিন চলাচল করে মিতালী এক্সপ্রেস। ২০২১ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যৌথভাবে এ ট্রেনের যাত্রা উদ্বোধন করেন। প্রায় ৬০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে মিতালীর সময় লাগে প্রায় ১১ ঘণ্টা। হালদিবাড়ী-চিলাহাটি সীমান্ত দিয়ে ট্রেনটি বাংলাদেশে প্রবেশ করে।

২০২৪ সালে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় মিতালী এক্সপ্রেসের একটি রেক পাঁচ মাসেরও বেশি সময় বাংলাদেশে আটকে ছিল। ১৭ জুলাই নিউ জলপাইগুড়ি থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করা ট্রেনটি অস্থির পরিস্থিতির কারণে ভারতে ফিরতে পারেনি। পরে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে ভারতীয় রেলওয়ে তিনটি আন্তঃদেশীয় যাত্রীবাহী ট্রেনের চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করে। ডিসেম্বর মাসে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে চিলাহাটি-হালদিবাড়ী সীমান্ত দিয়ে মিতালীর রেকটি ভারতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

বৈঠকে রাজশাহী থেকে কলকাতা পর্যন্ত নতুন একটি যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর প্রস্তাব দিতে পারে বাংলাদেশ। পাশাপাশি পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা-কলকাতা মৈত্রী এক্সপ্রেসের রুট পরিবর্তনের প্রস্তাবও দেওয়া হতে পারে।

দুই দেশের মধ্যে রেলপথে পণ্য পরিবহনের বিষয়টিও বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডায় থাকছে। ভারতের ঋণে বাংলাদেশে বাস্তবায়নাধীন কয়েকটি স্থবির রেল প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হবে। এর মধ্যে ঢাকার কমলাপুর থেকে গাজীপুরের জয়দেবপুর পর্যন্ত নতুন দুটি রেললাইন নির্মাণের প্রকল্পও রয়েছে।

বাংলাদেশের পুরোনো রেল কোচের বহর আধুনিকায়নেও ভারত সহযোগিতা করছে। ভারতের পাঞ্জাবের কাপুরথালা রেল কোচ ফ্যাক্টরি থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ১৯টি এলএইচবি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচের প্রথম রেক ইতোমধ্যে উৎপাদন করে বের করা হয়েছে।

চুক্তি অনুযায়ী, ভারত থেকে মোট ২০০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ আমদানি করবে বাংলাদেশ। প্রায় ৯১৫ কোটি রুপির এ প্রকল্পে অর্থায়ন করছে ইউরোপীয় ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক। চলতি বছরের জুন থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ধাপে ধাপে এসব কোচ বাংলাদেশ রেলওয়ের পুরোনো বহরে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে

সূত্র : এনডিটিভি


জাতীয় এর আরও খবর

img

আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দল নয়, বরং ‘মাফিয়া গ্যাং’: ডা. জাহেদ

প্রকাশিত :  ০৮:৫৯, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল নয়, বরং ‘মাফিয়া গ্যাং’ হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ডা. জাহেদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল মনে করি না, এটি একটি মাফিয়া গ্যাং। আওয়ামী লীগ কেন রাজনীতি করতে পারবে না, কেউ কেউ এ আলাপ করার চেষ্টা করে। বাঁধনের সঙ্গে যা হয়েছে, তাতে আবার ভাবতে হবে, আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল হিসেবে বিবেচনা করে কোনোভাবে বাংলাদেশের মাটিতে রাজনীতি করতে দেওয়া উচিত হবে কি না। আওয়ামী লীগ যা যা ঘটিয়েছে, তার পরে ন্যূনতম দুঃখবোধ থাকলে কিংবা রাজনীতিতে ফিরে আসার ইচ্ছে থাকলে এ সহিংসতাগুলো করা হতো না।’

বাঁধনের ওপর হামলার বিচার নিয়ে ডা. জাহেদ বলেন, ‘এ ব্যাপারে ওই দেশে আইননানুগ ব্যবস্থা যা নেওয়ার, সরকার তার প্রসেস শুরু হয়েছে। এ ঘটনাকে ছেড়ে দেব না, কোনোভাবেই ছেড়ে দেয়া যাবে না।’  

লোডশেডিং নিয়ে ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ‘২০২৬ সালের জুন-জুলাইয়ে এভারেজ লোডশেডিং ২০২৩-এর তুলনায় কম ছিল। ঢাকায়ও কিছুটা লোডশেডিং হওয়া উচিত। ঢাকা বড় শহর, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেশি; সে কারণে একেবারেই লোডশেডিং হবে না, এমনটি ঠিক নয়। ঢাকায় কিছুটা লোডশেডিং হচ্ছে ইদানিং।’ 

সার সংকট নিয়ে তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে সার আছে ১২ দশমিক ২৯৪ লাখ মেট্রিক টন। গত বছর ছিল সাড়ে ১১ লাখ মেট্রিক টন। মজুতজনিত কোনো সমস্যা নেই, বিতরণে কিছু সমস্যা হয়েছে।’ 

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি জানান, মানুষের জীবন নিরাপদ রাখতে রুটিন কাজ করে যাচ্ছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। অস্ত্র উদ্ধারের কাজও ঠিকঠাকভাবে করছে মন্ত্রণালয়।

গ্যাংস সংকট নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশ চাইলেও অনেক বেশি এলএনজি আমদানি করতে পারে না। কারণ, এফএসআরও-এর সক্ষমতা নেই। চীনের কাছে জরুরি ভিত্তিতে এফএসআরও-এর অর্ডার দেওয়া হয়েছে, যেটি দেড় বছরের মধ্যে আসবে। খরচের চেয়ে আপৎকালীন দিকটি বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার বেশিদিন না থাকলেও ভবিষ্যতের চিন্তা করা উচিত ছিল তাদের। স্থলভাগের গ্যাস, এফএসআরইউ নিয়ে পদক্ষেপ নেয়নি।’  

জাতীয় এর আরও খবর