img

বাকস্বাধীনতা যেন বাকশালীনতার সীমা লঙ্ঘন না করে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ১৯:৩২, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৯:৪০, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাকস্বাধীনতা যেন বাকশালীনতার সীমা লঙ্ঘন না করে: প্রধানমন্ত্রী
বাকস্বাধীনতার নামে রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে অশালীনতা ও গালাগালের সংস্কৃতি যাতে স্থান না পায়, সে আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, বাকস্বাধীনতার চর্চা কোনোভাবেই যেন শালীনতার সীমা অতিক্রম না করে। একই সঙ্গে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ ও ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী শাসনামলে জনগণের সকল গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। কেড়ে নেওয়া হয়েছিল বাকস্বাধীনতা। বর্তমানে দেশে গণতান্ত্রিক একটি পরিবেশ বিরাজ করছে, বাকস্বাধীনতা অবারিত। কিন্তু আমাদের মনে রাখা দরকার, বাকস্বাধীনতা যেন বাকশালীনতার সীমালঙ্ঘন না করে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা চাই না দেশের জনগণের কাঁধে ফ্যাসিবাদী-স্বৈরাচারী শাসন চেপে বসুক। যে কোনো বিবেকবান মানুষ বা দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদ অবশ্যই চাই না রাজনৈতিক সংস্কৃতি যেন গালাগালে পরিণত হয়।’

সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এজন্যই আমাদের সবাইকে দল-মত নির্বিশেষে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। পারিবারিক পরিবেশে আমরা যে সকল কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করি না, কেন আমরা জনপরিসরেও সেই শব্দগুলো ব্যবহার করব? কেন আমরা জনপরিসরেও সেই শব্দগুলোকে পরিহার করব না? দেশের সকল বিবেকবান নাগরিকের কাছে প্রশ্ন রেখে যেতে চাই।’

গালাগালের সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা যদি সত্যিকারভাবে সবাই এ ব্যাপারে একমত হই, আসুন আমরা তাহলে গালাগালি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে ভূমিকা গ্রহণ করি। এই দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনের বিভিন্ন সময় লাখো মানুষ জীবন দিয়েছে। ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণঅভ্যুত্থানের সময়ও গুলি করে পাখির মতো মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল। ন্যায়পরণতা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এই সকল শহীদদের রক্তের ঋণ পরিশোধ করা আমাদের পবিত্র কর্তব্য বলে আমি বিশ্বাস করি দৃঢ়ভাবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রক্তের ঋণ পরিশোধ করা যেহেতু আমাদের পবিত্র দায়িত্ব, সেজন্যই গণতান্ত্রিক জনগণ একটি দলকে রাষ্ট্র পরিচালনা এবং একটি দলকে বিরোধীদলের ভূমিকা পালনের দায়িত্ব দিয়েছে। সুতরাং সরকারি দলই বলি বিরোধী দলই বলি, আমরা সবাই মিলে আসুন একটি কল্যাণকর রাষ্ট্র গড়ে তুলি।’

জাতীয় এর আরও খবর

img

ভারতের সঙ্গে ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার, শিগগিরই সিদ্ধান্ত: চিফ হুইপ

প্রকাশিত :  ০৭:৩১, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে করা ১০১টি চুক্তি যাচাই-বাছাই করছে বর্তমান সরকার। এসব চুক্তির বিভিন্ন দিক পর্যালোচনার পর প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।

তিনি জানান, চুক্তিগুলো নিয়ে সরকারের পর্যালোচনা প্রক্রিয়া চলছে। এ বিষয়ে খুব শিগগিরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হতে পারে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর সংসদের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

নুরুল ইসলাম মনি বলেন, বিভিন্ন অনৈতিক চুক্তি থেকে বের হয়ে আসছে বর্তমান সরকার। বিএনপি সরকারের মূলনীতি হচ্ছে- সবার আগে বাংলাদেশ।

তিনি জানান, ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত আমন্ত্রণ জানায়নি। স্বাধীন দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাকে আমন্ত্রণ না জানানোর কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ।

নুরুল ইসলাম মনি বলেন, চট্টগ্রাম পোর্টে বাংলাদেশ ও বন্ধু দেশের দুইটি জাহাজ একসঙ্গে আসলে, বন্ধু দেশের জাহাজ আগে খালাস হবে। দেশের স্বার্থ বিরোধী এমন অসংখ্য চুক্তি করে গেছেন শেখ হাসিনা। আমরা সেই জায়গা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছি। আমাদের দেশের স্বার্থ রক্ষার পরেই বন্ধুত্ব বজায় রাখা হবে।

তিনি বলেন, এই দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। আমরা স্বাবলম্বী করতে চাই এই দেশকে। এর জন্য আমাদের যা যা করা দরকার আমরা তাই করব।

চিফ হুইপ বলেন, হাসিনা সরকারের রেখে যাওয়া ২০৫ কোটি ডলারের ঋণ সরকার পরিশোধ করেছে। দেশে ১৬ লাখ টন সার মজুদ রয়েছে এবং বিদ্যুৎ, ও গ্যাস সমস্যা সমাধানে সরকারের সদিচ্ছার কোনো অভাব নেই।


জাতীয় এর আরও খবর