img

ইন্টারনেটে ‘অজ্ঞান করার ওষুধ’ খুঁজে বন্ধুকে হত্যা, লাশও গুম করেন নাজিম

প্রকাশিত :  ০৭:১৪, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইন্টারনেটে ‘অজ্ঞান করার ওষুধ’ খুঁজে বন্ধুকে হত্যা, লাশও গুম করেন নাজিম

ঋণের টাকা ফেরত দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে বগুড়ায় তৃতীয় লিঙ্গের এক ব্যবসায়ীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর দুই বন্ধুর বিরুদ্ধে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যার আগে মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট ব্যবহার করে অজ্ঞান করার ওষুধের তথ্য খোঁজা হয়। পরে কোমল পানীয়র সঙ্গে চেতনানাশক ও বিষাক্ত দ্রব্য মিশিয়ে ওই ব্যবসায়ীকে পান করানো হয়।

হত্যাকাণ্ডের প্রায় এক মাস পর বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বগুড়া সদর থানায় মামলা হলে নাজিম উদ্দিন (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তার নাজিম কাহালু উপজেলার মদনাই গ্রামের বাবলু মিয়ার ছেলে। তিনি বেসরকারি সংস্থা ‘আশা’য় বাবুর্চি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এ ঘটনায় জড়িত তার আরেক সহযোগী ও একই সংস্থার কর্মী মো. স্বপন (২৮) বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত ওয়াহেদ হোসেন ওরফে নিঝুম (৩৭) বগুড়া শহরের সূত্রাপুর এলাকার ফল ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি বাবার সঙ্গে শহরের স্টেশন সড়কে ‘নিঝুম এন্টারপ্রাইজ’ নামের ফলের আড়ত পরিচালনা করতেন। সম্প্রতি নিঝুম তার মা রঞ্জনা বেগমের নামে এনজিও ‘আশা’ থেকে ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য সাত লাখ টাকা ঋণ নেন। এই টাকার মধ্যে তিন লাখ টাকা বাবার ব্যবসায় বিনিয়োগের পর বাকি অংশ থেকে বন্ধু স্বপনকে দুই লাখ এবং নাজিমকে এক লাখ টাকা ধার দেন। পরবর্তীতে পাওনা টাকা ফেরত চাওয়া ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে বন্ধুদের মধ্যে তীব্র বিরোধ দেখা দেয়। সেই ক্ষোভ থেকেই নিঝুমকে হত্যার পরিকল্পনা করেন নাজিম ও স্বপন।

পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ৭ আগস্ট নাজিম কৌশলে নিঝুমকে এনজিও আশার মালগ্রাম কার্যালয়ে ডেকে নেন। পুলিশের তদন্তে জানা যায়, ঘটনার আগে নাজিম তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে গুগলে সার্চ করে অজ্ঞান করার বিভিন্ন ওষুধের তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন। এরপর কোমলপানীয়র সঙ্গে চেতনানাশক ও বিষাক্ত পদার্থ মিশিয়ে নিঝুমকে পান করানো হয়। এতে তিনি অচেতন হয়ে পড়লে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।

হত্যাকাণ্ডের পর লাশ বস্তাবন্দী করে মালগ্রাম মধ্যপাড়া দীঘিপাড় এলাকায় ফেলে রাখা হয়। পরদিন ৮ আগস্ট নাজিম ও স্বপন তড়িঘড়ি করে চাকরি থেকে পদত্যাগ করে কর্মস্থল ত্যাগ করেন এবং আত্মগোপনে চলে যান। ঘটনার পাঁচ দিন পর, ১২ আগস্ট মালগ্রাম–শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ সড়কের পাশ থেকে ওই অজ্ঞাত বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ, যা পরে নিঝুমের পরিবারের সদস্যরা শনাক্ত করেন।

নিখোঁজের পর শুরুতে কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ না থাকায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করে পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও বগুড়া সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শরিফুল ইসলাম জানান, নিঝুমের কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর) বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, নিখোঁজ হওয়ার আগমুহূর্তে তার সাথে নাজিম ও স্বপনের একাধিকবার ফোনালাপ হয়েছিল। এ সন্দেহের ভিত্তিতে বুধবার কাহালুর মদনাই গ্রামে অভিযান চালিয়ে নাজিমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী জানান, নিঝুমের ভাই সোহেল হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তার নাজিমকে বুধবার বিকেলে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন জানানো হলে বিচারক মো. আরিফুল ইসলাম পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। হত্যাকাণ্ডে জড়িত পলাতক স্বপনকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


জাতীয় এর আরও খবর

img

ভারতের সঙ্গে ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার, শিগগিরই সিদ্ধান্ত: চিফ হুইপ

প্রকাশিত :  ০৭:৩১, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে করা ১০১টি চুক্তি যাচাই-বাছাই করছে বর্তমান সরকার। এসব চুক্তির বিভিন্ন দিক পর্যালোচনার পর প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।

তিনি জানান, চুক্তিগুলো নিয়ে সরকারের পর্যালোচনা প্রক্রিয়া চলছে। এ বিষয়ে খুব শিগগিরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হতে পারে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর সংসদের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

নুরুল ইসলাম মনি বলেন, বিভিন্ন অনৈতিক চুক্তি থেকে বের হয়ে আসছে বর্তমান সরকার। বিএনপি সরকারের মূলনীতি হচ্ছে- সবার আগে বাংলাদেশ।

তিনি জানান, ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত আমন্ত্রণ জানায়নি। স্বাধীন দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাকে আমন্ত্রণ না জানানোর কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ।

নুরুল ইসলাম মনি বলেন, চট্টগ্রাম পোর্টে বাংলাদেশ ও বন্ধু দেশের দুইটি জাহাজ একসঙ্গে আসলে, বন্ধু দেশের জাহাজ আগে খালাস হবে। দেশের স্বার্থ বিরোধী এমন অসংখ্য চুক্তি করে গেছেন শেখ হাসিনা। আমরা সেই জায়গা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছি। আমাদের দেশের স্বার্থ রক্ষার পরেই বন্ধুত্ব বজায় রাখা হবে।

তিনি বলেন, এই দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। আমরা স্বাবলম্বী করতে চাই এই দেশকে। এর জন্য আমাদের যা যা করা দরকার আমরা তাই করব।

চিফ হুইপ বলেন, হাসিনা সরকারের রেখে যাওয়া ২০৫ কোটি ডলারের ঋণ সরকার পরিশোধ করেছে। দেশে ১৬ লাখ টন সার মজুদ রয়েছে এবং বিদ্যুৎ, ও গ্যাস সমস্যা সমাধানে সরকারের সদিচ্ছার কোনো অভাব নেই।


জাতীয় এর আরও খবর