img

ইউপি ভোটের তারিখে আসছে পরিবর্তন

প্রকাশিত :  ০৫:৪৩, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইউপি ভোটের তারিখে আসছে পরিবর্তন

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী এবং জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার দিন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচনের সম্ভাব্য সাতটি ধাপের তারিখ ঘোষণার পর বিষয়টি কমিশনের নজরে এসেছে। এ ঘটনায় ইসি ‘বিব্রত’ বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ভোটের তারিখ নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত ও বিভিন্ন বিষয় যথাযথভাবে উপস্থাপন করতে ইসি সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ব্যর্থ হয়েছেন বলে মনে করছে কমিশন। এর ফলেই এমন ভুল হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ভোটের তারিখ পরিবর্তনের কথা ভাবছে ইসি। এ বিষয়ে শিগগিরই কমিশন সভা করে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে একাধিক সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

দুজন নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, ইউপি নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণার পর সরকারের মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও প্রতিমন্ত্রী যেভাবে বক্তব্য দিয়েছেন তাতে বিব্রত কমিশন। তারা মনে করেন, তারিখ নির্ধারণে নিজেদের ভুল ও অদূরদর্শিতা ছিল সত্য। তবে মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও প্রতিমন্ত্রী যেভাবে বক্তব্য দিয়েছেন তা ইসির জন্য সম্মানজনক নয়।

ইসি রোববার ও সোমবার অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করে সাত ধাপে ভোটগ্রহণের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করে। ইসির ঘোষণা অনুযায়ী, সম্ভাব্য তারিখগুলো হচ্ছে প্রথম ধাপ ১২ নভেম্বর, দ্বিতীয় ধাপ ১৩ ডিসেম্বর, তৃতীয় ধাপ ৩০ ডিসেম্বর, চতুর্থ ধাপ আগামী বছরের ১৭ জানুয়ারি, পঞ্চম ধাপ ৪ ফেব্রুয়ারি, ষষ্ঠ ধাপ ২২ এপ্রিল এবং সপ্তম ও শেষ ধাপের ভোট ২৭ মে। এর মধ্যে দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ইউপির নির্বাচন ধরা হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপের ভোটের তারিখ সম্ভাব্য তারিখ হচ্ছে ১৩ ডিসেম্বর। অথচ জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ৮, ১০, ১৩ ও ১৫ ডিসেম্বর। ১৩ ডিসেম্বর গণিত পরীক্ষা হওয়ার কথা রয়েছে। ওইদিন দ্বিতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ রাখা হয়েছে।

ইসি ও শিক্ষাসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ইউপি নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র হিসাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যবহার করা হয়। ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসাবে শিক্ষকরা কাজ করে থাকেন। পরীক্ষা বহাল রাখা হলে ৮ থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত কোনো ধরনের নির্বাচন আয়োজন করার সুযোগ নেই।

তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ৩০ ডিসেম্বর নির্ধারণ করেছে ইসি। ওইদিন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। এদিন বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে সরকারি দল বিএনপি। অথচ ওইদিন তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনের ভোটের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করেছে ইসি।

সূত্রমতে, আজ অনুষ্ঠেয় আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের পর ইউপি নির্বাচনের সম্ভাব্য কিছু তারিখে পরিবর্তন আনবে কমিশন। তবে এবার আনুষ্ঠানিক কমিশন সভা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বুধবার নির্বাচন কমিশনারদের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে এমনই আলোচনা হয়েছে।

জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় যে আলোচনা ও পরামর্শ উঠে আসবে, তা বিবেচনায় নিয়ে পরে ইউপি ভোটের তারিখ চূড়ান্ত করা হবে। এদিকে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন ও ইউপি নির্বাচন সামনে রেখে আজ ইসিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা। এ সভায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিব, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। 

img

মৈত্রী পাইপলাইনে ভারত থেকে দেশে এলো ৪৭ লাখ লিটার ডিজেল

প্রকাশিত :  ০৫:৫২, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারত থেকে প্রায় ৪ হাজার মেট্রিক টন বা ৪৭ লাখ লিটার ডিজেল বাংলাদেশে এসেছে। জ্বালানির এই চালান দিনাজপুরের পার্বতীপুর রিসিভিং টার্মিনাল ডিপোতে পৌঁছেছে। এটি মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে আসা ডিজেলের ৭২তম চালান। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টায় সরবরাহ শুরু হয়এই চালানের। সেটি শেষ হয় ১৫ সেপ্টেম্বর। পার্বতীপুর রেল ডিপোর পরিচালন ব্যবস্থাপক মো. রবিউল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

এর আগে, ২০১৮ সালে করা দ্বিপক্ষীয় চুক্তি অনুসারে, ১৫ বছরে এই পাইপলাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রায় ২০ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহের কথা রয়েছে। ২০২৩ সালের মার্চে পাইপলাইনটি চালু হয়। এটি চালুর পর এ পর্যন্ত এর মাধ্যমে বাংলাদেশে মোট ৩ লাখ ৩০ হাজার ৮৭ মেট্রিক টন ডিজেল এসেছে।

জানা যায়, প্রতি বছর বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১০ লাখ মেট্রিক টন উচ্চগতির ডিজেল পরিবহনের সক্ষমতা রয়েছে। 

এর আগে, চলতি বছরের মার্চ মাসে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি হলে এই পাইপলাইনের মাধ্যমে ১৭ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানি করা হয়েছিল। এরপর এপ্রিল, মে ও জুলাইয়েও ভারত থেকে যথাক্রমে ২৫ হাজার, ৮ হাজার ও ৮ হাজার মেট্রিক টন পরিশোধিত ডিজেল আমদানি করে বাংলাদেশ।

পরে গত আগস্ট মাসে বাংলাদেশ অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহের জন্য ভারতের কাছে অনুরোধ জানিয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতেই নতুন এই চালান এসেছে।

জাতীয় এর আরও খবর