img

অপ্রতিম হত্যার রহস্য উদঘাটনের দাবি পুলিশের

প্রকাশিত :  ০৫:৫৮, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৬:০৯, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অপ্রতিম হত্যার রহস্য উদঘাটনের দাবি পুলিশের

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে হত্যার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে কয়েকজন কিশোরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই হত্যাকাণ্ডের রহস্য বেরিয়ে এসেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শামসুল আলম শাহ বলেন, ‘স্কুলছাত্র অপ্রতিম হত্যার রহস্য বের করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদেরও আটক করা হয়েছে।’ 

পুলিশ জানিয়েছে, রোববার দুপুর ১২টায় কুমিল্লার পুলিশ সুপার সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাবেন।

শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পাশের লালমাই সানন্দা পাহাড় এলাকা থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের সুরতহাল করেন পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম। তিনি জানান, অপ্রতিমের মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। শরীরের বিভিন্ন স্থানেও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

অপ্রতিম স্থানীয় বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

পুলিশের ভাষ্য, অপ্রতিম হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন চার কিশোরকে পুলিশ ও এসআরবি হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

এর আগে গত শুক্রবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয় অপ্রতিম। এরপর থেকে তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। ওই দিনই তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

পরদিন শনিবার লালমাই সানন্দা পাহাড় এলাকায় অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। 

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম আজ বলেন, অপ্রতিমের জানাজা ও দাফনের প্রস্তুতি চলছে। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় হত্যা মামলা করা হবে। মামলা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে।

 


জাতীয় এর আরও খবর

img

আইফোন ছিনিয়ে নিতেই অপ্রতিমকে মাথায় আঘাত করে হত্যা: পুলিশ

প্রকাশিত :  ০৯:৫৫, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী একমাত্র ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে আইফোন ছিনিয়ে নিতেই পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।

আজ রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লায় কিশোর অপ্রতিম হত্যার ঘটনায় এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

পুলিশ সুপার বলেন, আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে  অপ্রতিমকে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন জঙ্গলে নিয়ে আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এতে বাধা দিলে তার সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়। পরে তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের শক্ত লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করেন। একপর্যায়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত হলে আইফোন নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান তারা

তিনি বলেন, চাঞ্চল্যকর অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটন করতে আমরা জিডির ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করি। তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে প্রাথমিকভাবে আমরা নিশ্চিত হই যে, ১৮ সেপ্টেম্বর ২টা থেকে সোয়া ২টার দিকে তুহিন অপ্রতিমকে সঙ্গে নিয়ে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা নামক স্থানে চারপাশে পাহাড়ঘেরা নির্জন জঙ্গলের ভেতরে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে অপ্রতিমের লাশ উদ্ধারের পর আমরা সিসিটিভি ফুটেজ দেখি ও পর্যালোচনা করি। এতে অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা তুহিনকে মৃত্যুর সংবাদ পাওয়ার আগেই আমরা হেফাজতে নেই।

কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, একটানা জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন আমাদের কাছে স্বীকার করে যে, অপ্রতীমের মোবাইল আইফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই পরিকল্পনা করে সে তাকে ওই নির্জন ঘটনাস্থলে নিয়ে যায়। তুহিন আরও জানায়, এই ঘটনায় ফাহাদ এবং ফাহাদের এক বন্ধু জড়িত ছিল। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আমরা তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান পরিচালনা করি এবং ফাহাদকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করি। জিজ্ঞাসাবাদে ফাহাদ জানায়, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার আরেক বন্ধু কামরুলও জড়িত। ফাহাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আমরা কামরুলকে হেফাজতে নিই।

পুলিশ সুপার বলেন, তুহিনের দেওয়া তথ্য ও দেখানো মতে, প্রথমে সে আমাদের ভুল পথে পরিচালিত করেছিল। আইফোনটি উদ্ধারের জন্য আমরা তিন জায়গায় অভিযান পরিচালনা করি। কোথাও না পাওয়ার পর অবশেষে তার স্বীকারোক্তি ও দেখানো মতে তার বাসায় অভিযান পরিচালনা করি। সেখানে তার দেখানো স্থান থেকে আইফোনটি আমরা উদ্ধার করতে সক্ষম হই।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি, ঘটনার দিন বিকেল ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে সানন্দা নামক স্থানে চারপাশে পাহাড়ঘেরা নির্জন বনের ভেতরে অপ্রতীমের আইফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে অপ্রতীম বাধা দেয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। এ সময় প্রথমে তুহিন এবং পরবর্তীতে ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের শক্ত লাঠি দিয়ে অপ্রতীমের মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে। একপর্যায়ে অপ্রতীমের মৃত্যু নিশ্চিত হলে তুহিন অপ্রতীমের আইফোনটি নিয়ে ফাহাদ ও কামরুলসহ ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এ ছাড়া আমরা সিয়াম নামে আরেকজনকে আটক করেছি। তার বিরুদ্ধে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করছি।

জেলা পুলিশ সুপার বলেন, আমরা ইতোমধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িত তুহিন, ফাহাদ ও কামরুলকে এই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার করেছি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য বিষয় এবং অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে যাচ্ছি। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুতই পুলিশ প্রতিবেদন বা চার্জশিট বিজ্ঞ আদালতে দাখিল করা হবে। আমরা বিজ্ঞ আদালতের কাছে আবেদন রাখব, লামিসা হত্যার মামলাটি যেমন দ্রুত রায় এসেছে, এই মামলাটিও যেন দ্রুত নিষ্পত্তি করা হয়।

জাতীয় এর আরও খবর